প্রচ্ছদ খেলা ক্রিকেট চূর্ণ-বিচূর্ণ আফগান দম্ভ, টাইগারদের দুরন্ত জয়

চূর্ণ-বিচূর্ণ আফগান দম্ভ, টাইগারদের দুরন্ত জয়

154
চূর্ণ-বিচূর্ণ আফগান দম্ভ, টাইগারদের দুরন্ত জয়

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এসে আফগানিস্তানের অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী বলছিলেন, বাংলাদেশকে আমরা ছোট করে দেখছি না। ছোট করে ভাবার দল বাংলাদেশ নয়ও। তবে যে দলটি ক্রিকেটে মাত্র হাঁটি-হাঁটি পা করে এগোচ্ছে তারা যদি সাকিব-তামিম-মুশফিকদের এরকম তিরস্কার ছলে কথা বলে তবে মাঠে তো তার প্রভাব মাঠে পড়বেই।

সাউদাম্পটনে তা প্রভাব পড়েছেও। শক্তিশালী ভারতকে একই ভেন্যুতে প্রায় ভয় পাইয়ে দিলেও, বাংলাদেশের সামনে আজ সোমবার (২৪ জুন) যেন কোনো পাত্তাই পেল না আফগানিস্তান ক্রিকেট দল। সাকিব আল হাসানের অনবদ্য অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ৬২ রানে হেরে গেছে রশিদ-নবীরা।

আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়া আফগানিস্তানের জন্য নিয়ম রক্ষার ম্যাচে জয়ের জন্য দরকার ছিল ২৬৩ রান। সাউমদাম্পটনে মন্থর উইকেটে যা একটু বড় মনে হয়েছিল বৈকি। কিন্তু আফগানিস্তানের ওপেনিং জুটি চোখ রাঙাচ্ছিল টাইগার সমর্থকদের। পাওয়ার প্লেতে দলকে কোনো বিপদেই পড়তে দেননি দুই ওপেনার রহমত শাহ ও গুলবাদীন নাইব।

প্রথম ১০ ওভার নির্বিঘ্নে কাটালেও বোলিংয়ে এসেই এ জুটি ভাঙেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। রহমত সাকিবের বল তুলে মারতে গিয়ে মিডঅনে তামিম ইকবালের হাতে।

এরপরই বেশ ধীর গতিতে এগুতে থাকে আফগানদের ইনিংস। হাশমতউল্লাহ শহীদি আর গুলবাদীন নাইব সমীহ করে খেলতে থাকেন সাকিব-মিরাজদের। এর মধ্যে মোসাদ্দেক হোসেন এসে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন শহীদিকে। মুশফিকের দুর্দান্ত স্ট্যাম্পিংয়ে ৩১ বল খেলে শহীদি আউট হন ১১ রানে।

বল হাতে তেমন কিছু করে দেখাতে না পারলেও আফগানদের বিপক্ষে নেতৃত্বের ঝলক দেখান মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। নাইব কিছুতেই ধরা না দেয়ায় তার জন্য ফাঁদ পাতেন মাশরাফী। সাকিবের ওভারে শর্ট মিড অফে লিটনকে নিয়ে আসেন তিনি। সেখানেই ক্যাচ দেন নাইব। লিটনের দারুণ ক্যাচে ৭৫ বলে ৪৭ রান করে আউট হন নাইব।

এরপরেই একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে আফগানিস্তান। নাইবকে ফেরানোর পর একই ওভারে এক বল বাদে মোহাম্মদ নবীকে বোল্ড করে শূন্য হাতে সাজঘরে পাঠান করেন সাকিব। উইকেটে থিতু হওয়া আসগর আফগানকেও মিড উইকেটে সাব্বির রহমানের ক্যাচ বানিয়ে সাকিব দেখিয়ে দেন প্যাভিলিয়নের পথ। আউট হওয়ার আগে ৩৮ বল থেকে ২০ রান করেন আফগান।

তবে সপ্তম উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আভাস দেন সামিউল্লাহ শিনওয়ারি ও নাজিবউল্লাহ জাদরান। দুজন মিলে বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাম তুলতে থাকেন। গড়েন ৫৬ রানের জুটি। কিন্তু যে দলে সাকিব আছে তাদের এতো দুশ্চিন্তা কিসে? ফের বল হাতে তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের ‘নবাব’!

ইনিংসের ৪৩তম ফেরান নাজিবউল্লাহকে। এই উইকেট তুলে নিয়েই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে পাঁচ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব দেখান সাকিব।

শেষতক, শিনওয়ারি একা লড়াই করার মানসিকতা দেখালেও বাকিদের ব্যর্থতায় ৩ ওভার আগেই গুটিয়ে যায় আফগানদের ইনিংস। আর জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ চারে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখে মাশরাফী বাহিনী।