প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য তুরিনকেই বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলো মা, মায়ের মিথ্যাচার

তুরিনকেই বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলো মা, মায়ের মিথ্যাচার

136
তুরিনকেই বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলো মা, মায়ের মিথ্যাচার

মায়ের সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্যের জবাব ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের, যা তিনি তার পিতার উদ্দেশ্যে লেখা খোলা চিঠিতে বিষয়গুলো তুলে এনেছেন। তিনি পর পর ৩টি চিঠিতে তাদের পারিবারিক সংকট তুলে ধরেছেন। আমরা কেবল তার লেখা খোলা চিঠিগুলো প্রকাশ করলাম। লেখার সাথে অনেকগুলো ইমেজ যুক্ত করেছেন, আমরা তা যুক্ত করছি না। তবে আমরা লিং দিয়ে দিলাম, সেই লিংকে তথ্য-প্রমাণগুলো যাচাই করতে পারবেন। (চিঠিগুলো নিম্নরূপ)

বাপীর কাছে চিঠি- ৩

সুপ্রিয় বাপী, প্রেস কনফারেন্সে মামনি কেঁদে বললো, তুমি মারা যাওয়ার ৫৮ দিনের দিন আমি নাকি মামনিকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছি। তুমি মারা গেলে ২০১৭ সালের ৩রা জানুয়ারি। ২০১৭ সালের ২রা মার্চ হয় তোমার মারা যাওয়ার ৫৮ দিন। কিন্তু গতকালের চিঠিতে আমি তোমাকে বলেছি তোমার একমাত্র ছেলে শিশিরই তোমার একমাত্র মেয়েকে তুমি মারা যাওয়ার ৫৮ দিনের দিন বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলে। বাপী, তুমি মারা যাওয়ার ৫৮ দিনের দিন আমি কাউকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলিনি।

গতকালের চিঠিতে আরও বলেছি, আমি নোটিশ পেয়েই মামনির সাথে দেখা করতে চাইলাম এক তলায়। কিন্তু রাশি বলল, মামনি আমার সাথে কথা বলবে না, দেখাও করবে না। আমি আবার উপরে এসে শিশিরকে তার ইমেইল এর জবাব দিলাম।

বাপী, আমি তোমাকে এটাও বলেছি যে, আমি শিশিরের ঐ নোটিশ পেয়ে ক্ষমতা দেখাতে যাইনি। আমি বড় আপু, ছোট আপু, র‌্যাব, ডিজিএফআই কাউকে খবর দেইনি। আমি একজন সাধারণ নাগরিকের মত পারিবারিক সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজেছি আপোসের মাধ্যমে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে যা করা সম্ভব তা-ই করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছি।

বাপী, শিশিরের কাছে ইমেইল যখন পাঠালাম তখন ২০১৭ সালের ২রা মার্চ তারিখ (তোমার মারা যাওয়ার ৫৮ দিনের দিন) প্রায় দুপুর একটা বাজে। আমার সেদিন সদরঘাট থেকে লঞ্চ ধরে বরিশাল যাওয়ার কথা। ‘বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ’ তাদের তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে সাত দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের তৃতীয় দিনে (৩রা এপ্রিল ২০১৭) আমাকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। আমার ট্রাইব্যুনাল অফিস থেকে দুই দিন আগেই (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭) সব ব্যাবস্থা গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে আমার যাতায়াত, অবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে দাপ্তরিক চিঠি প্রদান করেছিল (নীচে ছবি দিলাম)। সেই অনুসারে সেদিনই আমাকে বিকেল পাঁচটায় উত্তরার বাস ভবন থেকে রওনা হওয়ার কথা।

বাপী, তার মানে শিশিরের উচ্ছেদ নোটিশ পাওয়ার পর আমার হাতে ছিল মাত্র চার ঘন্টা। মন সায় দিচ্ছিল না বরিশাল যেতে। সুমেধাকে ঢাকাতে উত্তরার বাড়িতে একা রেখে দু দিনের জন্য বরিশাল যেতে ভীষণ ভয় করছিল। বাড়ীতে আমি থাকব না। যদি কোন অঘটন ঘটে! বাড়িতে থাকবে আর দুজন– লতা আর হাওয়া। দুজনই মহিলা মানুষ। এদিকে ব্যাগ প্যাক করাও হয়নি। ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। আর মামনির আচরণও হতবাক করার মত। আমিও তো মা, বাপী। আমি ওই মূহুর্তে কী করতাম? এত অসহায় বোধ করছিলাম। প্রথমে ভাবলাম যাবো না। আয়োজকদের ফোন দিলাম নিজের অসুস্থতার কথা বলে। তারা বললেন, “আপা, আগামী কালের প্রোগ্রাম মাটি হয়ে যাবে। আমাদের মান সম্মান থাকবে না। প্লিজ, আপা, একটু কষ্ট করে আসুন।“

শেষে সিদ্ধান্ত নিলাম, থানায় একটা জিডি করে যাই। হাতে সময়ও কম। উত্তরা পশ্চিম থানায় জিডি করলাম (নীচে ছবি দিলাম)। জিডি নং- ৯১ তাং ০২/০৩/১৭। সেখানে লিখলাম–

“আমি এই মর্মে জানাচ্ছি যে, ১৯৯৪ সাল হতে উপরের ঠিকানায় আমি ইসলামী শরীয়া মতে দানসূত্রে মালিক হয়ে একক ভাবে মালিকানাধীন আছি। পড়ালেখার কারণে বিদেশে অবস্থান হেতু আমার পক্ষে আমার পিতা (বর্তমানে মৃত) জমি ও বাড়ি দেখাশোনা এবং রক্ষণাবেক্ষণ করতেন। ২০০০ সালের পর ঐ জমিতে বাড়ির কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর আমি ঐ ঠিকানায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করি এবং মালিকানা ভোগ করে আসছি অদ্যাবধি। অদ্য ২রা মার্চ ২০১৭ তারিখে সংযুক্ত স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে আমার কানাডা প্রবাসী ভাই ‘শিশির’, আমার মা এস নাহার তসলিম এবং ‘রাশি’ নাম্নী এক মহিলার যোগসাজশে, অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে আগামী ৩১শে মার্চ ২০১৭ ইং তারিখের মধ্যে আমার মালিকানাধীন ঐ বাড়ি হতে আমাকে বহিষ্কার করার হুমকি দিয়েছে। এরূপ হুমকী এবং উত্যক্তকরণ বে-আইনী এবং অসৎ উদ্দেশ্যমূলক। এ বিষয়ে যথাযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের নিমিত্তে আমি আপনার বরাবর এই সাধারণ ডায়েরি করলাম।“

বাপী, জিডি করলেও মাত্র নয় বছরের সুমেধাকে একা রেখে বরিশাল যেতে পারলাম না। তুমি চলে যাবার পর সুমেধা ছাড়া আমার আর কে বাকী রইলো? ওর কিছু হলে আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না। তাই জিডি করে এসেই ওর ব্যাগ গুছিয়ে নিলাম তড়িঘড়ি করে। এরপর ঝড়ের মত সুমেধাকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেলাম বিকেল পাঁচটার সময়।

বাপী, সারা রাত লঞ্চের ভিআইপি কেবিনে সুমেধাকে জড়িয়ে কাঁদলাম। বাপী, তুমি মারা যাওয়ার ৫৮ দিনের দিন বাড়ি থেকে আমাকে উচ্ছেদ কেন করতে চাইলো মামনি আর শিশির? মাথায় কিছু আসছিল না। আমি কি ক্ষতি করেছি ওদের? রাতে কেবিনে ডিম লাইট জ্বালিয়ে সুমেধার মাথাটা কোলে নিয়ে বিছানায় বসে কেবিনের পর্দা সরিয়ে নদীর পানি দেখছিলাম। চোখ থেকেও পানি বের হচ্ছিল বাপী। ঝাপসা হয়ে উঠছিল সব কিছু। জীবনের হিসেব মেলানো খুব কষ্টের।

সারা রাত জেগে ২০১৭ সালের মার্চ মাসের ৩ তারিখ ভোরে বরিশাল পৌঁছেই সার্কিট হাউজে কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে রেডি হয়ে চলে গেলাম অনুষ্ঠান মঞ্চে। সাথে সুমেধা। বুকের ভিতরটা পুড়ে যাচ্ছিল। কিন্তু বাপী, কাউকে বুঝতে দেয়নি তোমার মেয়ে। বক্তৃতা ঠিকই দিলাম– হল ভর্তি লোকের করতালি, উচ্ছাস, শুভেচ্ছা। কিন্তু বুকের কষ্ট গুলো শুধুই আমার আর সুমেধার। ‘বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ’ তাদের তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে তোমার মেয়েকে শুভেচ্ছা স্মারক উপহারও দিল (নীচে ছবি দিলাম)।

অনেক গণমাধ্যমে রিপোর্ট বের হল। জনকণ্ঠ শিরোনাম করলো– “ইতিহাস বিকৃতকারীদের রূখে দাঁড়াতে হবেঃ তুরিন আফরোজ” (নীচে ছবি দিলাম)। সেখানে লেখা হোল-
“স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ বলেছেন, স্বাধীনতার পর থেকে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকাররা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করে নতুন প্রজন্মকে ভুল পথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। অথচ গত ৪৬ বছর ধরে আমরা ইতিহাস রক্ষার লড়াই করে যাচ্ছি। বর্তমান তরুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

শুক্রবার বিকেলে বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমম্বয় পরিষদের তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে সাত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের তৃতীয়দিনে নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি আরও বলেন, টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট ক্রয় করে রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধার কাঁতারে মিলে যাচ্ছে। তাদেরকে চিহ্নিত করতে প্রতি জেলায় রাজাকারের তালিকা করতে হবে। তালিকার সূচনা বরিশাল থেকে করার জন্যও তিনি আহবান করেন।
সমন্বয় পরিষদের সভাপতি এ্যাডভোকেট এসএম ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নাট্যজন সৈয়দ দুলাল, কাজল ঘোষ, শুভংকর চক্রবর্তী প্রমুখ।“

বাপী, আমি আর সুমেধা ঢাকা ফিরে এলাম ২০১৭ সালের মার্চের ৪ তারিখ ভোরে। ভয়ে দুরু দুরু বুকে। যদি আমাদের উত্তরার ‘অভিনন্দনে’ ঢুকতে না দেয়া হয়? যদি শিশির তার লোক বসিয়ে রাখে? বাপী, আমি আর সুমেধা তখন কোথায় যাব? আমাদের ওপর ততদিনে ৯ বার প্রাণঘাতী আক্রমণ করা হয়েছে। আমার সরকারী নিরাপত্তা ব্যাবস্থা ২০১৩ সাল থেকে এই বাড়িতেই বরাদ্দ করা হয়েছে। সেটা কীভাবে কী করব তাহলে?

বাপী, এই হোল তোমার মারা যাওয়ার পর ৫৮ দিন থেকে ৬০ দিনের আমার আর সুমেধার জীবন। ফিরে এসে দেখি মামনি বাড়িতে আছে কিন্তু বাড়ির দারোয়ানকে বলে দিয়েছে আমার বা সুমেধার সাথে কথা বলবে না। আমরা যেন একতলায় না ঢুকি। আমরা কোন ঝামেলা না করে তিন তলায় উঠে গেলাম।

এখন তুমি বল বাপী, এই যে প্রেস কনফারেন্সে মামনি কেঁদে বললো, তুমি মারা যাওয়ার ৫৮ দিনের দিন আমি নাকি মামনিকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছি। এটা কি সত্য? আজকে সারা পৃথিবীর সকল মানুষ তোমার মেয়েকে ধিক্কার দিচ্ছে এই প্রেস কনফারেন্স দেখে। নোংরা ভাষায় গালি দিচ্ছে। বাপী, তুমি কি পারতে এগুলো শুনতে? বাপী, প্লিজ চুপ করে থেকোনা। মুখ ঘুরাবে না, তুমি আমার সাথে কথা বল। তোমার সুমেধাকে তুমি বোঝাবে না? বাপী, আমিও কি একদিন মা হয়ে এভাবে সুমেধাকে নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ তুলবো? মা হয়ে তাকেও কি আমি লোক ভাড়া করে নোংরা ভাষায় গালি শোনাবো? কেন বাপী? কুসন্তান হতে পারে, কিন্তু কুমাতা কি কখনো হয়?

বাপী, সবশেষে রাশির একটা স্টেটমেন্টের কাগজের ছবি দিলাম। ইচ্ছে করেই ওর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ওর ফোন নম্বর, ঠিকানা আর জাতিয় পরিচয় পত্র নম্বর প্রকাশ করলাম না। পড়লেই বুঝতে পারবে, মামণি কানাডা যাওয়ার আগে পর্যন্ত ২০১৭ সালের মার্চের ১৫ তারিখ পর্যন্ত এই বাড়িতেই ছিল। তারপর নিজের ইচ্ছায় মামনি শিশিরের কাছে কানাডা বেড়াতে গেল।

বাপী, তাহলে তোমার মারা যাওয়ার পর ৫৮ দিনের দিনে আমি মামণিকে বাড়ি থেকে বের করে দিলাম কি করে?

বাপী, মিথ্যা দিয়ে কি সত্যকে ঢাকা যায়? তুমি তো আমাকে সত্যের জন্য লড়াই করতে শিখিয়েছো। আমি তা-ই করবো, বাপী। তুমি যেখানেই থাক, আমার আর সুমেধার শক্তি হয়ে থেকো।

বাপী, কাল লিখবো তোমার মৃত্যুর পর কিভাবে আমাদের অতি চেনা মানুষগুলো তাদের খোলস পাল্টালো। জানি তোমার কষ্ট হবে শুনলে। কিন্তু বাপী, আমার কথাগুলো তুমি না শুনলে আর কে শুনবে? আমি জানি তুমি আমার আর সুমেধার আশে-পাশেই থাকো। হয়তো অনেকটুকুই তুমি জানো, দেখো। কিন্তু তবুও বাপী, আমাকে বলতে দিও– আমার হাল্কা লাগবে। ভাল থেকো। ইতি, তোমার সেতু। লিংক:

বাপীর কাছে চিঠি – ৩সুপ্রিয় বাপী প্রেস কনফারেন্সে মামনি কেঁদে বললো, তুমি মারা যাওয়ার ৫৮ দিনের দিন আমি নাকি মামনিকে…

Posted by Barrister Tureen Afroz on Saturday, June 22, 2019

বাপীর কাছে চিঠি- ২

সুপ্রিয় বাপী, মামনি আর শিশিরের আমার বিরুদ্ধে ডাকা প্রেস কনফারেন্স মিডিয়াতে দেখলাম। মামনি কাঁদছিল– বাপী, মামনির কান্না দেখে খারাপ লাগছিল। মামনি কাঁদবে কেন? আমি না হয় তার যোগ্য সন্তান হতে পারিনি। আমার সাথে মামনি সম্পর্ক শেষ করেছে তোমার মৃত্যুর কয়েক মাস পরই। কথা বলাও বন্ধ করে দিয়েছে তখন থেকেই। আমার অপরাধ?

তুমি যখন ধানমন্ডির ল্যাব এইড হসপিটালে লাইফ সাপোর্টে ছিলে তখন সেই হসপিটালের সকল দর্শনার্থীদের সামনে মামনি আর তার সৈয়দপুরের বোন-বোন জামাই আমাকে বললো, “তোর বাবা কষ্টে মরবে না ক্যানো? সে একটা বেঈমান।“ বাপী, আমি নিতে পারিনি কথাটা। তুমি তো তখনো শ্বাস নিচ্ছিলে। বাপী, আমার আর সুমেধার জীবনে তুমি ছাড়া আর কে ছিল বল? আর ওই মুহূর্তে তুমি আমাদের ফেলে চলে যাচ্ছিলে। আমি তোমাকে বাঁচাবার চেষ্টা করছিলাম যেন কোন অলৌকিক ভাবে তুমি বেঁচে যেতে পারো। হ্যা, বাপী, আমি তোমার অপমান মেনে নিতে পারিনি। চীৎকার করে প্রতিবাদ করেছিলাম। ছোট কাকু, কাকী আর তার বোনও ছিল সেখানে। আমার বডিগার্ডও ছিল। তারা আমাকে সরিয়ে নিয়ে যায় যাতে লোকজনের সামনে নাটক না বাড়ে। কিন্তু বাপী, আমার জায়গাতে অন্য মেয়ে থাকলেও কি একই ভাবে প্রতিবাদ করতো না?

শিশিরের কথা বলতে পারি না। তোমার তিনবার হার্ট এট্যাক হল– কই একবারও তো শিশির আর মামনি লন্ডন আর কানাডা থেকে আসলো না? সেই প্রথমবার তোমার হার্ট এটাক ২০০৮ সালে। সুমেধার তখন মাত্র ৮/৯ মাস। আমি টানা তিন দিন এক কাপড়ে ধানমন্ডির ল্যাব এইড হসপিটালে আই সি ইউ-র সামনে মাটিতে বসে কাটিয়েছি। কেঊ সরাতে পারেনি। যখন তোমার জ্ঞ্যান ফিরেছে, তারপর উঠেছি। ছোট কাকু, ডঃ আমজাদ মামা, সবাই আমাকে বুঝিয়েছে। সুমেধা কেমন আছে তার কথাও মনে আসেনি। বাপী, একই ঘটনা-ই তো ঘটলো পরের দুবার। না বাপী, আমি প্রেস কনফারেন্স করিনি কারো বিরুদ্ধে কষ্টের কথাগুলো বলতে।

বাপী, তুমি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করার আগেই মামনি আর শিশির তোমার কেনা গাড়ি বিক্রি করলো। তোমার বিছানা, পড়ার টেবিল, চেয়ার, সোফা, বইয়ের তাক, অফিস টেবিল, অফিস চেয়ার সব বিক্রি করে দিল। তোমার শখের লাইব্রেরির দেয়াল ভাঙল যাতে সেটা আর লাইব্রেরি না থাকে। বাপী, তোমার শেষ দিনগুলোতে তোমার জ্ঞ্যান ছিলোনা। বাড়িতে যারাই আসতো, তোমার বন্ধুরা, প্রতিবেশীরা, ভাড়াটিয়ারা তারা এসব কাণ্ড দেখে স্তম্ভিত হয়ে যেত। বাপী, তোমার ব্রীফকেস টাও উঠোনে বিক্রির জন্য রাখা ছিল। আমি পাগলের মত যা পেয়েছি তিন তলায় উঠিয়ে নিয়ে এসেছি। না বাপী, আমি প্রেস কনফারেন্স করিনি কারো বিরুদ্ধে কষ্টের কথাগুলো বলতে।

মামণি প্রেস কনফারেন্স করে কাঁদছে কেন? তার সুপুত্র তো তার সাথেই রয়েছে। শিশির কি তাহলে তার যত্ন নিতে পারছেনা? তার দেখা শোনা ঠিক মত করতে পারছেনা? তার সুপুত্র থাকতে তাকে ওষুধ না খেয়ে রাস্তায় ঘুরতে হচ্ছে কেন?

বাপী, প্রেস কনফারেন্সে মামনি কেঁদে বললো, তুমি মারা যাওয়ার ৫৮ দিন পর আমি নাকি মামনিকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছি।

বাপী, তুমি আসল ঘটনাই জানোনা। আমি কাউকেই বাড়ি থেকে বের করে দেইনি। শিশিরই আমাকে তুমি মারা যাওয়ার ৫৮ দিন পর বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলে।

তুমি মারা গেলে ২০১৭ সালের ৩রা জানুয়ারী। ২০১৭ সালের ২রা মার্চ হয় তোমার মারা যাওয়ার ৫৮ দিন। দিনটি শিশিরের জন্মদিন – তোমার ছেলের জন্মদিন। আর সেই দিনই কানাডা থেকে শিশির আমাকে আর সুমেধাকে উচ্ছেদ করার নোটিশ দিল ইমেইল করে। নীচে সেই চিঠির ছবি দিলাম।

শিশির আমাকে কথা বলতে শুরু করার পর থেকেই “দাদা” বলে ডাকতো এটা তো তুমি জানোই। ২০১৭ সালের ২রা মার্চ –এর সেই নোটিশে কি লিখলো শিশির?

“প্রিয় দাদা, আমরা তোমাকে কাছে পেয়ে খুব আনন্দ পেয়েছি, কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে আমি আমার বাড়ি ফেরত চাই এবং মার্চ মাসের মধ্যে তোমাকে এই বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার জন্য বলতে বাধ্য হচ্ছি। যদি কোন বৈধ কারণে এই তারিখটি তোমার জন্য অসুবিধাজনক হয়ে থাকে, তবে তুমি আমাকে সুবিধাজনক একটি তারিখ জানাবে। আমি তোমাকে বেশ কয়েকবার ফোন করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু পাইনি।

দয়া করে বাড়ি ১৫, রোড ১১, সেক্টর ৩, উত্তরা থেকে তোমার সকল ব্যাক্তিগত জিনিস পত্র সরিয়ে ফেলবে এবং ছাদের চাবি সহ বাড়ির সকল চাবি মামনি অথবা রাশিকে ফেরত দিবে। আমি তোমার তিন তলার ফ্ল্যাটের পরিদর্শনের ব্যাবস্থা করব যেন তুমি সব কিছু ঠিক মত রেখে যাচ্ছ। আর চলে যাওয়ার পরদিন (অর্থাৎ ১লা এপ্রিল শনিবার) আমি পরিষ্কারের ব্যাবস্থা করব।

একই সাথে তোমার সরকার কর্তৃক নিযুক্ত নিরাপত্তা কর্মীবৃন্দ যারা বর্তমানে গ্যারেজ অথবা নীচের উঠানে অবস্থান করছে তাদেরকে জায়গা খালি করতে বলবে এবং তারা যেন একি তারিখের মধ্যে রক্ষিত অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চলে যায়।

দয়া করে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারী এবং মার্চ-এর গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ইত্যাদি সব বিল পরিশোধ করে যাবে। …

প্রিয় বোন, আমি তোমাকে আর আমার বাড়িতে রাখতে সক্ষম না। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এটা আমাদের সকলের জন্য ভাল হবে। আমি তোমাকে শুভ কামনা জানাই তুমি যেন তোমার নতুন পরিবেশে গিয়ে ভাল থাক যেখানে তোমার আর আমার সাহায্যের প্রয়োজন পড়বে না। ইতি, শিশির”

বাপী, বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করল কে আর কে প্রেস কনফারেন্স করে কাঁদছে! বাপী, জানো, আমি নোটিশ পেয়েই মামনির সাথে দেখা করতে চাইলাম এক তলায়। কিন্তু রাশি বলল, মামনি আমার সাথে কথা বলবে না, দেখা ও করবে না। আমি আবার উপরে এসে শিশিরকে তার ইমেইল এর জবাব দিলাম। নীচে আমার সেই ইমেইল এর জবাব এর ছবি দিয়েছি। দেখে নিও। শিশিরকে লিখলাম ওই একই দিনে, মানে তোমার মৃত্যুর ৫৮ দিনের দিন (২রা মার্চ ২০১৭)–

“প্রিয় শিশির, তোর ইমেইলের প্রাপ্তি স্বীকার করছি। তুই তোর ইমেইলের প্রথম প্যারা তে লিখেছিস–

“আমরা তোমাকে কাছে পেয়ে খুব আনন্দ পেয়েছি, কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে আমি আমার বাড়ি ফেরত চাই এবং মার্চ মাসের মধ্যে তোমাকে এই বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার জন্য বলতে বাধ্য হচ্ছি। যদি কোন বৈধ কারণে এই তারিখটি তোমার জন্য অসুবিধাজনক হয়ে থাকে, তবে তুমি আমাকে সুবিধাজনক একটি তারিখ জানাবে।“ এই ব্যাপারে আমার বক্তব্য–

(১) বাড়ি ১৫, রোড ১১, সেক্টর ৩, উত্তরার ঠিকানাতে আমি অন্য কারো বাড়ি দখল করে নেই। সুতরাং ২০১৭ সালের মার্চের মধ্যে বাড়ি অথবা চাবি ফেরত দেয়ার প্রশ্ন আসে না।

(২) উপরন্তু, বাড়ি ১৫, রোড ১১, সেক্টর ৩, উত্তরা বাড়ির মালিকানা নির্ধারণের বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। যতক্ষন না পর্যন্ত আদালতের মাধ্যমে এই বাড়ির মালিকানা নিরূপিত হচ্ছে, আমি এই বাড়ি ত্যাগ করতে বাধ্য নই।

প্রিয় ভাই, তুই আরো লিখেছিস–

“প্রিয় বোন, আমি তোমাকে আর আমার বাড়িতে রাখতে সক্ষম না। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এটা আমাদের সকলের জন্য ভাল হবে। আমি তোমাকে শুভ কামনা জানাই তুমি যেন তোমার নতুন পরিবেশে গিয়ে ভাল থাক যেখানে তোমার আর আমার সাহায্যের প্রয়োজন পড়বে না।“

(৩) আমি আশ্চর্য হচ্ছি, এই বাড়িতে থাকার সময় তুই আমাকে কখন সাহায্য করেছিস! সব কিছুই পরিষ্কার হবে যখন মাননীয় আদালত এই বাড়ি নিয়ে মালিকানা বিরোধ নিষ্পত্তি করবে। আমরা তখন সবাই জানতে পারবো এত বছর ধরে কে কাকে সাহায্য করে আসছে! শুভেচ্ছান্তে, দাদা”

বাপী, আমি কি ভুল কিছু করেছি? আমি কি কাউকে বাড়ি থেকে বের করেছি তোমার মৃত্যুর ৫৮ দিনের দিন?উল্টো তোমার মৃত্যুর ৫৮ দিনের দিন আমাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার পদক্ষেপ নেয়া হল।

না বাপী, আমি এসব নিয়ে প্রেস কনফারেন্স করিনি। আমি ক্ষমতা দেখাতে যাইনি। আমি বড় আপু, ছোট আপু, পুলিশ, র‍্যযাব, ডিজিএফআই কারো ধমকী দেইনি। আমি একজন সাধারণ নাগরিকের মত পারিবারিক সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজেছি আপোষের মাধ্যমে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে যা করা সম্ভব তা-ই করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছি।

তাহলে বাপী, আমি তোমার মৃত্যুর ৫৮ দিনের দিন মামনিকে বের করে দিলাম কিভাবে? বরং তোমার মৃত্যুর ৫৮ দিনের দিন আমাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার নোটিশ জারী করা হল।

সেদিন ইমেইল লেখার পর কি হয়েছিল সেটা কালকের চিঠিতে লিখব। সেটা জানলে তুমি হতভম্ব হয়ে যাবে! কত বড় মিথ্যার সাথে লড়াই করছে তোমার মেয়ে তুমি ভাবো!

বাপী, তুমি শিখিয়েছ, সত্য সূর্যের মত। তাকে বেশী দিন আড়াল করে রাখা যায় না। কালকের চিঠিতে আরও সত্যের কথা বলব । ইতি, তোমার সেতু। লিংক:

বাপীর কাছে চিঠি – ২সুপ্রিয় বাপীমামনি আর শিশিরের আমার বিরুদ্ধে ডাকা প্রেস কনফারেন্স মিডিয়াতে দেখলাম। মামনি কাঁদছিল –…

Posted by Barrister Tureen Afroz on Friday, June 21, 2019

বাপীর কাছে চিঠি -১

সুপ্রিয় বাপী, তোমার মৃত্যুটা মেনে নেয়া খুব কষ্টকর। তবে তোমার মৃত্যু আমাকে বাস্তবতা শিখিয়েছে। মানুষের আসল রূপ চিনতে বাধ্য করেছে। সেটা যে এতো জঘন্য-নোংরা, সেটা আমি আসলেই জানতাম না। তুমি মারা গেলে ২০১৭ সালের ৩রা জানুয়ারী। শোক সামলে উঠতে না উঠতেই একরাশ দায়িত্ব আমার ঘাড়ে এসে পড়লো। তোমার অসমাপ্ত কাজগুলো সামলাবার। আমি একা, কারণ তোমার ছেলে তোমার মৃত্যুর ১১ দিন পড়েই পাড়ি জমালো তার দেশে, পড়ে রইলাম আমি আর মামণি।

মামনিকে সামলানো, শোক ভুলাতে তাকে কাজে ব্যস্ত রাখা, “অভিনন্দন” (আমাদের সুখের স্বর্গ) কে দেখে-শুনে রাখা সব দায়িত্ব এসে পড়লো আমার ঘাড়ে। সাথে আমার দুটো চাকরী, সুমেধা, পড়ালেখা, লেখালেখি, মিডিয়া, সমাজ-সংসার তো আছেই। মাথায় বাজ ভেঙ্গে পড়লো। কী ভাবে কী সামলাই! এতোদিন তো অনেক কিছুই তুমি সামলিয়েছো। তোমার বড় সন্তান হিসেবে এখন তো স্বাভাবিক ভাবেই আমাকে সব দেখতে হবে। তুমি তো আমাকে কোন দিন মেয়ে হিসেবে বড় করোনি। বড় করেছো একজন মানুষ হিসেবে। আমি দ্বায়ীত্ব নিতে ভয় পেলে তো চলবে না, তাই না?

২০১৭ সালের ৩১শে জানুয়ারী (মঙ্গলবার)- তোমার মৃত্যুর পর তোমার প্রথম জন্মদিন। এমনিতেই মনটা ভীষণ খারাপ সেদিন। তোমার কথা খুব মনে পড়ছিল। তুমি তোমার জন্মদিনের কেক খাওয়ার জন্য বসে থাকতে! এতো ডায়াবেটিস থাকতো তোমার কিন্তু তাও মানতে না। দু-তিন পিস না খেলে তোমার চলতো না। মামণিরও নিশ্চয়ই মন খারাপ ছিল সেদিন। তুমি চলে যাওয়ার পর সেও তো একা হয়ে গেছে। অন্তত ঝগড়া করার সাথীটা তো আর তার বেঁচে নেই। হঠাৎ মনে হোল, ফেব্রুয়ারি মাসের ভাড়া তুলতে হবে। ঠিক করলাম, মামনিকে এই দ্বায়ীত্ব দিলে কেমন হয়। আমার কাজও একটু কমে, আবার মামনিও ব্যস্ত থাকতে পারবে।

যেই ভাবা সেই কাজ। একটা নোটিশ লিখে ফেললাম সব ভাড়াটিয়াদের কাছে। যেখানে লিখলাম, “জনাব, আপনারা সকলেই অবগত আছেন যে গত ৩রা জানুয়ারী ২০১৭ তারিখে আমার পিতা– জনাব তসলিম উদ্দিন আহমেদ পরলোকগত হয়েছেন (ইন্নালিল্লাহে ওয়াইন্নালিল্লাহে রাজিউন)। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত আমার পিতা আমার পক্ষে ‘অভিনন্দন’, বাড়ি ১৫, রোড ১, সেক্টর ৩, উত্তরা ঢাকাস্থ বাড়ির সকল ভাড়া ও যাবতীয় বিল আপনাদের সকলের থেকে নিয়মিত সংগ্রহ করতেন এবং বিল সমূহ নির্দিশট সময়ের মধ্যে আমার নিযুক্ত কর্মচারী মোঃ আমির হোসেন, পিতা- মোঃ সেলিম হাওলাদার, ব্যাঙ্কের মাধ্যমে পরিশোধের ব্যাবস্থা করতেন। এছাড়াও মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত আমার পিতা আমার পক্ষে এই বাড়ির সকল উন্নয়ন ও মেরামতের কাজও তত্ত্বাবধায়ন করতেন।

বর্তমানে, আমার পিতার মৃত্যুর পর, আমার বিধবা মাতা, জনাবা সামসুন নাহার তসলিম, এখন থেকে আমার পক্ষে ‘অভিনন্দন’, বাড়ি ১৫, রোড ১১, সেক্টর ৩, উত্তরা ঢাকাস্থ বাড়ির সকল ভাড়া ও যাবতীয় বিল আপনাদের সকলের থেকে নিয়মিত সংগ্রহ করবেন এবং বিল সমূহ নির্দিশট সময়ের মধ্যে পরিশোধের ব্যাবস্থা করবেন।

তবে উল্লেখ্য যে, আমার মাতার সাময়িক অনুপস্থিতিতে, ‘অভিনন্দন’, বাড়ি ১৫, রোড ১, সেক্টর ৩, উত্তরা ঢাকাস্থ বাড়ি সংক্রান্ত যে কোন বিষয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। আপনাদের সকলের সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য। বিনীত, -সই- ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ …”

সকল ভাড়াটিয়ারা সেই নোটিশ পেয়ে আমার কপিতে নিজেদের স্বীকার প্রাপ্তি হিসেবে সইও করে দিলেন। নীচে সেই চিঠির ছবি দিলাম। তুমি দেখে নাও ঠিক আছে তো? বানান ভুল করলে আবার বকা দিতে এসো না। তোমার তো আবার সব পারফেক্ট হওয়া চাই।

কিন্তু বাপী, আজ সারাদিন ধরে মিডিয়াতে শুনলাম আমি নাকি তোমার মৃত্যুর পর মামনিকে ভাড়া তুলতে বাধা দিয়েছি। বাড়ি দখল করেছি। ভাড়াটিয়াদের বলেছি সব টাকা আমার হাতে তুলে দিতে।

বাপী, বলোতো, এসব কেন আমার বিরূদ্ধে বলা হচ্ছে? জানি তোমার এসব শুনে কষ্ট হচ্ছে। আমারও বাপী, সুমেধারও। সুমেধাও তো আর ছোট নেই। ও এখন অ-নে-ক কিছু বুঝে। যখন দেখে যারা এসব কথা মিডিয়াতে বলছে, তারা ওর চেনা মুখ। তখন ওর কষ্টগুলো আরও বেড়ে যায়। আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। আমি কী উত্তর দিব? তোমার আদরের সুমেধাকে তুমি একটু বুঝিয়ে বলোতো। আমি সুমেধাকে কাছে বসিয়ে বোঝাই, সত্যকে সব সময় চোখ দিয়ে দেখা যায়না। সত্যকে মাঝে মাঝে খুঁজতে হয়। বাপী, আজ আসি। কাল আবার চিঠি লিখব। ইতি, তোমার সেতু। লিংক:

বাপীর কাছে চিঠি -১সুপ্রিয় বাপীতোমার মৃত্যুটা মেনে নেয়া খুব কষ্টকর। তবে তোমার মৃত্যু আমাকে বাস্তবতা শিখিয়েছে। মানুষের…

Posted by Barrister Tureen Afroz on Thursday, June 20, 2019