প্রচ্ছদ খেলা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টাইগারদের হারের নেপথ্যে

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টাইগারদের হারের নেপথ্যে

35
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টাইগারদের হারের নেপথ্যে

‘উইনিং কম্বিনেশন’ বলে ক্রিকেটে বহুল পরিচিত একটা টার্ম আছে! এক ম্যাচে জয়ের পর একই একাদশ নিয়ে পরের ম্যাচে খেলা। সাধারণত কোনো দলই চায় না তাদের উইনিং কম্বিনেশন ভাঙতে!

টনটনে বাংলাদেশ দল ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলকে উড়িয়ে দিয়েছে যে একাদশ নিয়ে, সেই একাদশই তো নটিংহ্যামে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলার কথা! কিন্তু ম্যাচের দিন একাদশ দেখে সবার মাথায় হাত। একাদশে নেই দলের পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও স্পিন অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন! তাদের নাকি ইনজুরি!

মোসাদ্দেকের বাম কাঁধে ব্যথা আর সাইফউদ্দিনের ব্যথা পিঠে। এবার আসি অন্য প্রসঙ্গে! মোসাদ্দেককে কেন দলে নেওয়া হয়েছিল? যুক্তি ছিল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বোলিং করতে পারবেন না এ কারণে! ব্যথার কারণে তিনি ঠিক মতো থ্রো-ই করতে পারেননি। এই একটি মাত্র কারণেই মোসাদ্দেকের ভাগ্য খুলে যায়! মূলত তার ডান হাতি স্পিনার কথা চিন্তা করেই একাদশে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তার মানে এই নয় যে, মোসাদ্দেককে ১০ ওভারের বোলিং কোঠা পূরণ করতেই হবে!

গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেক থ্রো দেওয়া বা প্রতিপক্ষের বাম হাতি ব্যাটসম্যানকে রানে আটকে রাখতে সহায়তা করা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিনি সে দক্ষতাও দেখিয়েছেন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তার অভাবটাই আর পূরণ হয়নি। এই ম্যাচে বাম হাতি ব্যাটসম্যান ডেভিড ওয়ার্নার যখন ব্যাটিং করছিলেন তার বিরুদ্ধে বেশ সফল ছিলেন ডান হাতি স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ! এমন সময় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য অন্যপ্রান্তে দরকার ছিল আরেকজন ডান হাতি স্পিনার। যা বাংলাদেশ দলে ছিল না।

এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এমনকি অ্যারোন ফিঞ্জ আউট হওয়ার পর ওয়ান ডাউনে বাম হাতি ব্যাটসম্যান উসমান খাজা নেমে আরও কঠিন করে দিয়েছেন ম্যাচটি। বাম হাতি ব্যাটসম্যানের সামনে বাম হাতি স্পিনারকে নিয়ে আসা মানে বোলারকে ‘বলির পাঁঠা’ বানিয়ে দেওয়া। কিন্তু কোনো উপায় না দেখে বাম হাতি সাকিবকেই আসতে হয়েছিল বোলিংয়ে। কিন্তু দলের সেরা বোলারকে পিটিয়ে ৩ ওভারেই ২৪ রান নেয় অসিরা। শুরুতে সাকিবকে ব্যাকফুটে পাঠিয়ে দেওয়া তাদের পরিকল্পনা ছিল। সবকিছু বুঝেও ফাঁদে পা দিতে হয়েছে মাশরাফিকে।

ঠিক ওই সময় যদি সাকিবের জায়গায় ডান হাতি কোনো স্পিনার থাকতেন তাহলে ম্যাচের চিত্র পাল্টে যেতে পারত। তখন শেষের দিকে এমন আগ্রাসী দেখা যেত না অসিদের। আর সাইফউদ্দিন দলের ভরসার প্রতীক হয়ে গেছেন। ইউরোপের কন্ডিশনে প্রত্যেকটি ম্যাচ খেলে দারুণ অভিজ্ঞও তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে স্লো ওভারে দুর্দান্ত বোলিংও করেছেন। যে কারণে ক্যারিবীয়দের মারকাটারি ব্যাটিংও টাইগারদের ভয় ধরাতে পারেনি। তাহলে কি সাইফউদ্দিন ও মোসাদ্দেকের ইনজুরিই বাংলাদেশকে ডোবাল? তবে গুঞ্জন উঠেছে, দুই ক্রিকেটারের ইনজুরি যতটা না গুরুতর, তারচেয়ে বেশি কাজ করেছে মনের ভয়। তারা নিজে থেকেই খেলতে চাননি!

এই পরাজয়ের ব্যবচ্ছেদ করতে গেলে বেশ কিছু বিষয় সামনে চলে আসে? বাংলাদেশ হেরে গেছে মূলত শেষ ১০ ওভারে! যেখানে অস্ট্রেলিয়া করেছে ১৩১ রান সেখানে বাংলাদেশ করেছে ৮৮ রান। মুশফিক ৯৭ বলে অপরাজিত ১০২ রানেই দারুণ একটি ইনিংস খেলেছেন বটে কিন্তু তিনি কি আরেকটু আগ্রাসী হতে পারতেন না! ম্যাচের ৪০তম ওভার শেষে মুশফিকের রান ছিল ৭৩ বলে ৭৫!

কিন্তু তার মানে বাকি ২৪ বল খেলে মুশফিক করেছেন ২৫ রান! একই সময় মাহমুদুল্লাহ ২৩ বলে করেছেন ৪১ রান (সব মিলে ৫০ বলে ৬৯ রান)! ৩৮২ রান তাড়া করতে নেমে তামিমের মতো ওপেনারইবা কেন ৭৪ বল খেলে ৬৪ রান করবেন?

সবকিছুর পরও ব্যাটসম্যানকে দায়ী করার উপায় নেই, কারণ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ স্কোরের নতুন রেকর্ড গড়েছে। তবে ডুবিয়েছে নির্বিষ বোলিং ও হতাশাজনক ফিল্ডিং।