প্রচ্ছদ রাজনীতি শেখ হাসিনার আস্থা ভঙ্গ করেছিলেন যারা, যেভাবে

শেখ হাসিনার আস্থা ভঙ্গ করেছিলেন যারা, যেভাবে

165
শেখ হাসিনার আস্থা ভঙ্গ করেছিলেন যারা, যেভাবে

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা আর বিচক্ষণতা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁকে বলা হয় পাকা জহুরি।

দল এবং সরকার চালাতে তাঁকে অনেক মানুষের উপর নির্ভর করতে হয়। অনেক মানুষকে তিনি বিশ্বাস করেন। অনেককে দেন গুরুত্বপূর্ণ অনেক দায়িত্ব। অনেক সময়ই তিনি সঠিক মানুষ চিনতে পারেন না, এই অভিযোগ আছে তার ঘনিষ্ঠদের মাঝে। রাজনীতিতে শেখ হাসিনা অনেককেই চিনতে ভুল করেছেন। আওয়ামী লীগের ইতিহাস পর্যালোচনা করলেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়। এরকম কয়েকজন:

ড. কামাল হোসেন: ১৯৮১ সালের ১৭মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর শেখ হাসিনা যাদের উপর নির্ভর করেছিলেন তাঁদের একজন ডা. কামাল হোসেন। জিয়ার মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিচারপতি সাত্তারের বিরুদ্ধে তিনি ড. কামাল হোসেনকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচিত করেছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে যারা বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন, তাদের অন্যতম ড. কামাল হোসেন। ড. কামালকে প্রশ্রয় দিতে গিয়েই শেখ হাসিনার সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বাধীন বামঘরানার আওয়ামী লীগারদের। ’৯১ এর নির্বাচনের পর ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে যান।

মুকুল বোস: আওয়ামী লীগ সভাপতি ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে আলাপচারিতায় বলেছিলেন, মুকুল বোস তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না। ভবিষ্যতে সেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হবে এমন ইঙ্গিতও তিনি দিয়েছিলেন। এটা ২০০০ সালের ঘটনা। কিন্তু মুকুল বোস শেখ হাসিনার আস্থার মর্যাদা দিতে পারেননি। ওয়ান ইলেভেনে মুকুল বোসই ছিলেন শেখ হাসিনাকে মাইনাস করার অন্যতম উদ্যোক্তা। মুকুল বোসের আসল চেহারা উম্মোচিত হওয়ার পর এখন আর আগের কদর নেই তার।

মাহমুদুর রহমান মান্না: আওয়ামী লীগ সভাপতি মান্নাকে খুবই পছন্দ করতেন। যাদের তিনি অনুরোধ করে আওয়ামী লীগে এনেছিলেন তাদের মধ্যে মান্না অন্যতম। দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও তাকে দিয়েছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনাকে অবাক করে দিয়ে মান্না ওয়ান ইলেভেনের সময় হয়ে উঠেছিলেন শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় সামালোচক। ২০০৮ এ মনোনয়ন না পেয়ে দলত্যাগ করেন মান্না।

অধ্যাপক আবু সাইয়ীদ: একজন গবেষক হিসেবে অধ্যাপক আবু সাইয়ীদ ছিলেন শেখ হাসিনার অত্যন্ত প্রিয়ভাজন। ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে আবু সাইয়ীদকে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে তাকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। এই অধ্যাপক আবু সাইয়ীদ ছিলেন শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে বিদায় করার সবচেয়ে বড় থিংক ট্যাংক।

২০০৭ এ ওয়ান ইলেভেনের পর শেখ হাসিনার অনেক ঘনিষ্ঠরা এজন্যই বলেছিলেন শেখ হাসিনা মানুষ চিনতে ভুল করেন। ওবায়দুল কাদের তো তার কারাগারের দিনলিপিতে অভিযোগও করেছিলেন ‘শেখ হাসিনা অনেক সময় ভুল মানুষকে গুরুত্ব দেন।’ অবশ্য ২০০৮ এর পর বদলে গেছেন শেখ হাসিনা। এখন মানুষের উপর তিনি সম্পূর্ণ বিশ্বাস রাখেন না।