প্রচ্ছদ রাজনীতি খালেদাকে মাইনাস করতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সমঝোতা?

খালেদাকে মাইনাস করতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সমঝোতা?

209
খালেদাকে মাইনাস করতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সমঝোতা?

আইনগত লড়াইয়ে সরকারের প্রধান টার্গেট বেগম খালেদা জিয়া, এ বিষয় আর কোনো সন্দেহ নেই। বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়ার মামলাগুলোই শুধু সচল রয়েছে। এই মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্যই সরকারের সব মনোযোগ। কিন্তু বিএনপির অন্যান্য নেতাদের মামলাগুলো যেন ঘুমিয়ে আছে।

এ সমস্ত মামলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া বা মামলাগুলোকে সচল করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ বা তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে দুদকের করা দুর্নীতি মামলা নিম্ন আদালতে বিচারের শেষ পর্যায়ে ছিল। হঠাৎ করেই এই মামলা থমকে গেছে। এখন এই মামলা আর এগুচ্ছে না। প্রায় দুই তৃতীয়াংশ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর এই মামলা থমকে থাকার কারণ কেউ জানে না।

মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে মামলাও এরকম সাক্ষ্য-প্রমানের এক পর্যায়ে আটকে গেছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে নাশকতা সন্ত্রাসের প্রায় শতাধিক মামলার একটিও আদালতে বিচারাধীন প্রক্রিয়ায় নেই। সবগুলো মামলাই হিমঘরে রয়েছে।

২০১৪ এবং ২০১৫ সালে বিএনপি সারাদেশে যে তাণ্ডব, নাশকতা ও অগ্নিসংযোগ করেছিল, সেই মামলাগুলো দ্রুত বিচারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার বলা হয়েছে। কিন্তু এগুলোর কোনো মামলাই নিষ্পত্তি তো দূরের কথা মামলাগুলোকে এগিয়ে নেওয়ারও কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। এ সমস্ত ঘটনা দেখে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে, এই মামলাগুলোকে সচল রাখা বা এই মামলাগুলোর নিষ্পত্তি করার ব্যাপারে সরকারের দিক থেকে তেমন কোনো আগ্রহ নেই। কেন নেই, এটাই রাজনৈতিক অঙ্গনে একটা বড় প্রশ্ন।

মনে করা হচ্ছে যে, সরকার রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে এই মামলাগুলোকে ব্যবহার করছে। এই মামলাগুলোর মাধ্যমে খালেদা জিয়া এবং তার ঘনিষ্ঠদের আটকানোর পরিকল্পনায় সরকার সফলভাবে এগুচ্ছে। আর এই পরিকল্পনায় সরকারকে সমর্থন বা সহযোগিতা দিচ্ছে বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মামলা এগোয় না। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যখন নির্বাচন করেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হন এবং নির্বাচনের পর তার সংসদ সদস্যদেরকে সংসদে পাঠান তখন এটা বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, বাইরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি যতই বাকযুদ্ধে লিপ্ত থাকুক না কেন ভেতরে ভেতরে তাদের মধ্যে একটা সমঝোতা রয়েছে। এই সমঝোতার অবয়ব কি তা স্পষ্ট নয়। কিন্তু এটা বোঝা যায় যে, সরকার বেগম জিয়ার মামলাগুলোকে দ্রুত নিষ্পত্তি করে তার বন্দিত্বকে চিরস্থায়ী রূপ দিতে যেমন বদ্ধ পরিকর, তেমনি বিএনপিও বেগম জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী নয়। সরকারের সঙ্গে বিএনপির তাহলে কী ধরণের সমঝোতা হতে পারে সেই প্রশ্ন উঠছেই।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে যে, সমঝোতার মূল বিষয়টি এরকমই যে, বিএনপিকে জিয়া পরিবারমুক্ত করতে চায় সরকার। বেগম খালেদা জিয়া যদি নাইকো দুর্নীতি মামলা বা যেকোনো একটি মামলায় দণ্ডিত হন, তাহলে চিরস্থায়ীভাবে তার ঠিকানা হবে কারাগার। সেটা যদি করা যায় তাহলে বেগম জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের ইতি ঘটবে। আর তারেক জিয়াও যে দেশে ফিরে বিএনপির হাল ধরবেন সেরকম বাস্তবতা তার নেই। এরকম পরিস্থিতিতে বিএনপিকে জিয়া পরিবারমুক্ত করার একটা সূবর্ণ সুযোগ সরকারের সামনে এসেছে।

বিএনপির মধ্যেও একটা বড় অংশ বেগম খালেদাকে চাইলেও তারেক জিয়াকে নেতৃত্বে দেখতে চায় না। এর ফলে সরকার এবং বিএনপির মধ্যে একটা গোপন সমঝোতা তৈরি হয়েছে। যে সমঝোতার অংশ হিসেবে বিএনপি নতুনরূপে আবির্ভুত হবে। জিয়া পরিবার যেভাবে পঁচাত্তরের খুনী এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে, সেরকম পরিস্থিতি আর থাকবে না। সেরকম পরিস্থিতি না থাকলেই নতুন বিএনপি আত্মপ্রকাশ করবে। সেই বিএনপির সঙ্গে সরকার একটা আপসরফার মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করবে।

এই প্রক্রিয়ার কিছু দৃশ্যমান অগ্রগতি ইতিমধ্যেই আমরা লক্ষ্য করেছি। বিএনপির পাঁচজন সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণ করেছেন। সরক্ষিত কোটায় বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানাও শপথ নিয়েছেন। বগুড়ার উপনির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেছে। এসব থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হচ্ছে যে, সরকার এবং বিএনপি একটা সমঝোতার পথে এসেছে। এই সমঝোতার ধারায় শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়া মাইনাস হন কিনা সেটাই দেখার বিষয়।