প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত সৌম্য-লিটন মুসলমান না হলে ক্যাপ্টেন হতে পারবে?

সৌম্য-লিটন মুসলমান না হলে ক্যাপ্টেন হতে পারবে?

606
সৌম্য-লিটন মুসলমান না হলে ক্যাপ্টেন হতে পারবে?

সুষুপ্ত পাঠক

পাকিস্তান ক্রিকেট টিমের ‘ইউসুফ ইয়োহান্নাকে’ বলা হতো, তুমি যদি মুসলমান না হও তাহলে কোনদিন পাকিস্তানের ক্যাপ্টেন হতে পারবে না। সাঈদ আনোয়ার আর মুশতাক আহমেদ নিয়মিত তাবলীগ চালিয়ে ইউসুফকে ইয়োহান্নাকে অবশেষে ‘মোহাম্মদ ইউসুফ’ বানিয়ে ছাড়ে।

বাংলাদেশের টিমে সৌম্য সরকার এবং লিটন দাসকে মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এ পর্যন্ত ইসলামের দাওয়াত দিয়েছে কিনা সেটা সৌম্য-লিটন ভালো বলতে পারবে। ইসলামের নিয়ম হচ্ছে, কাফেরদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেয়া মুমিনের ঈমানী দায়িত্ব। এই ঈমানী দায়িত্বটি বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের ফ্যানরা নিয়মিত সৌম্য-লিটনকে লক্ষ্য করে ক্লান্তহীন করে যাচ্ছে।

সৌম্য সরকার পুজার ফটো ভুলেও আর পোস্ট করে না। লিটন দাস দুর্গাপুজার ফটো আপলোড করার পর মানুষের আক্রমনে ফটো ডিলিট করে দেয়। ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে লিটন দাস দুর্গাপুজার দেবী দুর্গা ছবি পোস্ট করে নাকি অপরাধ করে ফেলেছিলো!

ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলো সৌম্য সরকার। ফেইসবুকে তার সেই পোস্টের কমেন্ট সেকশনে তাকে ইসলাম গ্রহণ করতে একের পর এক দাওয়াতি কমেন্টে ভরিয়ে ফেলেছে পাবলিক। ইসলাম গ্রহণ করে সৌম্য সরকার মুসলিম হলেই তার জন্য দোয়া করতে পারবে নতুবা হিন্দুর জন্য দোয়া শুভকামনা করতে তারা অপারগ।… সে এত ভালো খেলে তবু কেন ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হচ্ছে না…।

এরকম কমেন্টে সৌম্য সরকারের পোস্ট ভরে গেছে। কেমন অনুভূতি লাগে সৌম্য আর লিটনের এদেশে ক্রিকেটার হয়ে? মাশরাফি বা মুশফিককে যদি প্রতিনিয়ত সাম্প্রদায়িক আঘাত পেতে হতো তাদের মনোভঙ্গি কেমন হত?

বাংলাদেশের ক্রিকেট ফ্যানদের বড় একটা অংশ ইসলামপন্থিরা। এদের ভয়েই সৌম্য সরকার, লিটন দাস কোনদিন বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের ক্যাপ্টেন হতে পারবে না। না, এরকম কোন নিয়ম বাংলাদেশ টিমে নেই। আমাদের সংবিধানেও কোথাও বলা নেই কোন হিন্দু প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট হতে পারবে না। বরং বলা আছে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার।

কিন্তু ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে পাবলিক সেন্টিমেন্ট বলে কথা! পাকিস্তান বা বাংলাদেশে কোন অমুসলিমকে রাষ্ট্রপ্রধান করা হয় না। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ছিলেন শিখ ধর্মের মানুষ। এ পর্যন্ত ভারতে তিনজন মুসলিম প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। লন্ডনে একজন পাকিস্তানী মুসলমান মেয়র নির্বাচিত হলে আমাদের দেশের মিডিয়াগুলি খুশিতে শিরোনাম লেখে, ‘লন্ডনে প্রথম মুসলিম মেয়র নির্বাচিত’।

অমুসলিম দেশে এই যে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে যোগ্য মানুষকে তার প্রাপ্য নিশ্চিত হতে দেখি তার প্রধান কারণ তাদের সেক্যুলারিজম চর্চা। এই চর্চাই তাদের কাছে মানুষের যোগ্যতাকে মানুষের পরিচয় থেকে বড় করে দেখার অভ্যাস মানুষের মধ্যে গড়ে দেয়। বাংলাদেশ ক্রিকেটকে মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ-মাশরাফি ইসলামিকরণ করে ফেলেছে। এই টিম দেশে বিদেশে সফর করলে তাদের নামাজের ছবি পোস্ট করা রীতিতে পরিণত হয়েছে। ক্রিকেট টিমের এই গোড়া মুসলিম আইডেন্টি প্রচার দর্শকদের মধ্যে বড় ধরণের প্রভাব ফেলেছে।

আগে থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটে পাকিস্তানের ভূত চেপে ছিলো। তার উপর ক্রিকেটারদের ইসলামিকরণ মিলে একটা ধর্মের ছাপ পড়ে গেছে। লন্ডনবাসীদের একজন পাকিস্তানী বশংদ্ভূত মুসলিমকে তাদের মেয়র বানাতে বিন্দুমাত্র দ্বিধায় পড়তে হয়নি কারণ তারা সেক্যুলারিজমের চর্চা করা একটা সমাজ রাষ্ট্রে বসবাস করে। বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম যদি প্রবলভাবে গোড়া মুসলিম প্রক্টিস চালায় কি করে দর্শকরা ধর্মনিরপেক্ষ ক্রীড়ামোদী হিসেবে গড়ে উঠবে?

কেমন করে সৌম্য সরকারের মত কেউ ভবিষ্যত ক্যাপ্টেন হলে ক্রীড়ামোদীরা মেনে নিতে তৈরি থাকবে? নাকি সৌম্য-লিটনদের পাকিস্তানের মত শুনতে হবে, তোমরা মুসলমান না হলে কোনদিন বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন হতে পারবে না!