প্রচ্ছদ রাজনীতি তারেকের বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকা নির্বাচন-বাণিজ্যের অভিযোগ খালেদার

তারেকের বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকা নির্বাচন-বাণিজ্যের অভিযোগ খালেদার

1117
তারেকের বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকা নির্বাচন-বাণিজ্যের অভিযোগ খালেদার

৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন বেগম খালেদা জিয়া। বেগম খালেদা জিয়া প্রায় দেড় বছর ধরে কারান্তরীণ আছেন।

একমাত্র হলো বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে স্থানান্তর করা হয়েছে উন্নত চিকিৎসার জন্য। কিন্তু বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত হওয়ার পরে তিনি রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে ভালোই কথাবার্তা বলছেন।

বিভিন্ন নির্দেশনা দিচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সম্প্রতি ঈদের আগে বেগম খালেদা জিয়া তার নেতাকর্মীদের কাছে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে একটা বার্তা পাঠিয়েছেন। এই বার্তায় তিনি ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন বলে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বেগম খালেদা জিয়ার এই ভিডিও বার্তায় দলের মধ্যে অনৈক্য দূর করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের যেকোন আপোষকামীতা এবং ষড়যন্ত্র মোকাবিলার জন্য নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন। তবে জেল থেকে পাঠানো এই বার্তায় খালেদা জিয়া অভিযোগ করেছেন যে, বিগম নির্বাচনে ৩০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে। বিএনপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করানো এবং বিএনপি যেন এমন ফলাফল মেনে নেয় এবং সরকারকে বৈধতা দেয় সেই জন্য এই ৩০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল বলে বেগম খালেদা জিয়া তার বিবৃতিতে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু এই ৩০০ কোটি টাকা কে কাকে দিয়েছেন সে সম্পর্কে তিনি কোন কিছু বলেননি।

উল্লেখ্য যে, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক জিয়া। এই নির্বাচনে মনোনয়ন চুড়ান্ত করেছিলেন তারেক জিয়া। নির্বাচনের পর বিএনপি আবার সংসদে নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন তারেক জিয়া। কাজেই তিনি যে তারেক জিয়াকে উদ্দেশ্য করেই এই কথা বলছেন, তা স্পষ্টভাবেই অনুমান করা যায়। তবে তারেক জিয়াকে কারা এই ৩০০ কোটি টাকা দিয়েছেন সে সম্পর্কে কোন স্পষ্ট বার্তা দেননি খালেদা জিয়া। তবে কিছুদিন ধরে বেগম খালেদা জিয়া কারাগার থেকে যেসমস্ত কথাবার্তা বাইরে দিচ্ছেন বা তার চিকিৎসকদের যেসমস্ত কথাবার্তা বলছেন, তাতে স্পষ্ট হচ্ছে যে, বেগম খালেদা জিয়া তাকে আটকের জন্য তারেক জিয়াকে দায়ী করছেন। সরকারের সঙ্গে তারেকের গোপন আঁতাতের মাধ্যমে এই সরকারকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি মনে করছেন।

বেগম খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠসূত্রগুলো বলছে, ৫ জন সংসদ সদস্য সংসদে শপথ নেওয়া এবং বগুড়া উপনির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতেই বেগম খালেদা জিয়া তার ছেলেকে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন। বেগম খালেদা জিয়া তার অন্যতম ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. মামুনের কাছে বলেছেন যে, বিএনপিকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে নির্বাচনে নেওয়া হয়েছে এবং এই সরকারকে বৈধতা দেওয়ার জন্য বাধ্য করা হয়েছে। তবে কারা কিভাবে টাকা দিয়েছে এ ব্যাপারে ডা. মামুনকে বেগম খালেদা জিয়া কিছু বলেননি।

তিনি এটাও বলেছেন যে, শুধু একজন নয়, একাধিক ব্যক্তি সরকারের সঙ্গে এই গোপন সমঝোতা এবং গোপন আঁতাতে জড়িত। তারা কারা, তাদের নামও তিনি প্রকাশ করেনি। তবে বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, তিনি খুব শীঘ্রই এটা প্রকাশ করবেন।

একটি সূত্র বলছে যে, বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির বর্তমান স্থায়ী কমিটি এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কমিটি করার চিন্তাভাবনা করছেন। কিন্তু কারাগার থেকে তার নির্দেশনার বৈধতা এবং সত্য-অসত্য যাচাই করা একটা দূরহ সত্য হিসেবে সামনে এসেছে। যে কারণে বেগম খালেদা জিয়া যাই বলছেন না কেন, তা একটি মহলের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হলেও যাদের বিরুদ্ধে বলছেন, তারা এটাকে বানোয়াট বা ভিত্তিহীন বলে অভিযুক্ত করছেন।

বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোল নিয়েও তার ভাই এবং বোনরা যে উদ্যোগ নিয়েছিল, সেই উদ্যোগও দৃশ্যত ভেস্তে গেছে। সরকার একটি অনড় অবস্থানে চলে গেছে, যেখানে সরকার বলছে শুধুমাত্র রাষ্ট্রপতির কাছে মার্জনা প্রার্থনা করেই তিনি দোষ স্বীকার করে মুক্তি পেতে পারেন। এছাড়া মুক্তির কোন পথ নেই। এরফলে কার্যত বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এই মুক্তির বন্ধ হওয়া পথ নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার যদি মুক্তি পেতে হয়, তাহলে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে। আর এখানেই বেগম খালেদা জিয়া অনুভব করছেন যে, বিএনপির একটি অংশ তাকে আটক রাখা এবং নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করছেন।

তাহলে এই অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক পরিণতি অন্ধকারের দিকেই ধাবিত হচ্ছে। এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার বগুড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তকে তারেক ভালোভাবে নেননি। যে কারণে বেগম খালেদা জিয়ার মামলাগুলোর ব্যাপারে আইনজীবিদের যে তৎপরতা বা উদ্যোগ, সেটাও স্তিমিত হয়ে গেছে। খালেদা জিয়া মুক্তি পাক এটা তারেক জিয়াও চায় কিনা সেটা নিয়ে বিএনপির অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। এই বাস্তবতায় মা-ছেলের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য হবে কখন, এটাই হলো দেখার বিষয়।