প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত বিতর্কিত মুফাসসিল ইসলামের পোস্টমর্টেম, পর্ব ০২

বিতর্কিত মুফাসসিল ইসলামের পোস্টমর্টেম, পর্ব ০২

117
বিতর্কিত মুফাসসিল ইসলামের পোস্টমর্টেম, পর্ব ০২

দারা চৌধুরী

সেই মুফাসসিল কেন যে গড্ডালিকার প্রবাহ ছেড়ে নাস্তিকতার মত অজনপ্রিয় জগতে ঢুকলেন- তা এক চরম বিস্ময়। অবশ্য নাস্তিকতার জগত না বলে বিশেষ একটি ধর্ম বিদ্বেষী বলাই অধিকতর যুক্তিযুক্ত। কারণ তার কোন ভিডিওতেই আমি দর্শন শাস্ত্রের আলোকে ঈশ্বরের অস্তিত্বহীনতার পক্ষে যুক্তি বা বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব আলোচনা করতে দেখিনি। অথচ এই বিষয়টিকে বিজ্ঞান ও দর্শনের আলোকে প্রমাণ করা গেলে অন্য কোন কিছু নিয়েই এত বকর বকর করা লাগে না। এর উপরে ভিত্তি করে দাঁড়ানো সৌধটি তাসের ঘরের মতো হুড়মুড় করে ভেঙ্গে পড়ে।

আমি জানি না আমি সঠিক বলছি কি না। অথচ তিনি সেই রাস্তায় না গিয়ে কেবলমাত্র একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে খাটো করার চেষ্টায় লিপ্ত থাকতেন এবং একটি বিশেষ গ্রন্থের অসারতা প্রমাণ করতেন, যা বেশিরভাগ ফেইম সিকাররাই করে থাকে। অনেক নাস্তিকরা একেই নাস্তিকতা ভেবে বাহবা দিতে থাকে। এই রকম ধর্মবিদ্বেষীদের একটা বিশেষ সুবিধা আছে। আপনি যদি কোন নির্দিষ্ট ধর্মকে কটাক্ষ করে কিছু বলেন তাহলে সেই ধর্মের লোকজন অশ্লীল বাক্যবাণ বর্ষণ করলেও বাকি ধর্মের বোকা মানুষগুলো বগলদাবা বাজায়। কিন্তু আপনি যদি সৃষ্টিকর্তার ধারণাটিকেই অমূলক করতে যান তখন (সারাক্ষণ যারা ধর্ম নিয়ে কুত্তার কামড়াকামড়িতে লিপ্ত থাকে) সেগুলো একত্র হয়ে আপনাকে আক্রমণ করবে। মুফাসসিল ইসলাম ধূর্ত মানুষ, তাই সেই রিস্কটা কখনো নিতে চায় নি।

প্রথমেই আসা যাক, মুফাসসিল ইসলামের এই আগমন নির্গমনের পিছনে কি কারণ থাকতে পারে? একটি বিষয় হতে পারে- সেলিব্রিটিদের ধর্মের মধ্যে আসা যাওয়ার পিছনে বড় কারণ অর্থ। ধর্মের পেট্রোনাইজাররা এঁদেরকে কেনার মধ্য দিয়ে নিজের বিশ্বাসের বা ধর্মের পক্ষে একটি শক্তিশালী প্রমাণ (যদিও আসলে এটি একটি হেত্বাভ্যাস বা কুযুক্তি বৈ কিছুই না) দাঁড় করাতে চান, পাশাপাশি বিরুদ্ধ মতাবলম্বীদের মনোবল ভেঙ্গে দিতে চান।

আবার আরেকটা বিষয় হতে পারে, যা সবার বেলায়ই হতে পারে- যেমন মানুষ যখন খুবই অসহায় হয়ে পড়ে তখন একটা কিছুতে সমর্পন করে সুখ পেতে চায়। বিশেষ করে অসুস্থ হলে অথবা মৃত্যুর মুখোমুখি হলে, মরণের কাছাকাছি চলে এলে। সেজন্যই বৃদ্ধাবস্থায় বেশিরভাগ মানুষকেই ধর্ম-কর্মে মনোনিবেশ করতে দেখা যায়। কারণ বহুদিনে হৃদয়ে গাঁথা নরকের বিভৎস ভয় আর স্বর্গের লোভগুলি মাথাচাড়া দিয়ে উঠে।

কিন্তু কথা হলো মুফাসসিল ইসলামের তো এত কোন বয়স হয়নি যে মৃত্যু চিন্তা এসে জাঁকিয়ে বসবে। তবে কেন সে পুনরায় ছেড়ে দিয়ে আসা ধর্মে ফিরে যাবে। ধর্মীয় পেট্রোনাইজেশন তো তখনো পেত, যখন সে ধর্মের বৈজ্ঞানিক কপচানি কপচাত। সহজ উত্তর, নিজ দলের এমপি কম দামেই কেনা যায়, বিরোধী দলের এমপি কিনতে দাম একটু বেশিই দিতে হয়। অনেকটা মোবাইল কোম্পানির বন্ধ সিম চালু রাখার নানা ধরনের অফারের মত। তাই সম্ভবত দর কষাকষির সুবিধার্থে সাময়িকভাবে বিরোধী দলে ভিড়েছিল।

তৃতীয় আরেকটি হতে পারে খুন হয়ে যাবার ভয়। যে ভয়ের কারণে দেশে আসতে পারছেন না, সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে যেতে পারছিলেন না, কিছু আবশ্যকীয় ভালবাসার মানুষের সাথে (মুফাসসিল ইসলামের ক্ষেত্রে, তাঁর স্ত্রী) দূরত্ব ও বৈরিতা তৈরি হয়েছিল। এগুলো বাঁচাতেও অনেকে পুনরায় মৌখিক কলেমা পড়ে নেয়। মুখে একটা বাক্য বলা তো? বললাম!

ভণ্ডদের দেশে ভণ্ডামি হল স্বাভাবিকতা, সততা হলো রিস্কি। যেমন “সব সৃষ্টি করল যে জন, তারে সৃষ্টি কে করেছ?” বা “গোপনে যে বেশ্যার ভাত খায় তাতে ধর্মের কি ক্ষতি হয়?”- এমন প্রশ্নকর্তা লালনও পাগলা কুত্তার কামড় থেকে বাঁচতে “পারে কে যাবি, নবীর নৌকাতে আয়” লিখতে বাধ্য হয়েছিলেন।

অসংখ্য ভজন, কীর্তন ও শ্যামা সঙ্গীতের রচয়িতা, প্রমীলা দেবীর স্বামী কাজী নজরুল ইসলামও উন্মাদদের মুখ বন্ধ করতে হামদ-না’ত লিখতে বাধ্য হয়েছিলেন। থাক বাবা কি আর করা? দিলাম কুত্তার মুখে একটা হাড্ডি, এবার একটু চুপ যা।

এগুলো সবই আমাদের অনুমান মাত্র, আসল ঘটনা ‘কেবল আল্লাহ পা’কই জানে!’       (চলবে)

মুফাসসিল ইসলামের ভিডিও: