প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত ইসলামে ক্রিকেটও হারাম বিয়ারও হারাম

ইসলামে ক্রিকেটও হারাম বিয়ারও হারাম

543
ইসলামে ক্রিকেটও হারাম বিয়ারও হারাম

সুষুপ্ত পাঠক

যে লোক সুন্নতী তরিকায় এত লম্বা দাড়ি রাখে সে কিছুতে উদার হতে পারে না। সে গোড়া ধর্মান্ধ বলেই তার চেহারায় ধর্ম এমনভাবে সেঁটে আছে।

হাশিম আমলাকে আমি এভাবে বিচার করি- আমার যে হিন্দু বন্ধুটি রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়ে যখন আমি গরুর মাংস নিয়ে খেতে বসেছিলাম, সে তখন আমার পাশ থেকে উঠে বন্ধুদের অন্য টেবিলে বসেছিলো। গরুর মাংস খেতে সে আমাকে নিষেধ করেনি। কিন্তু একই টেবিলে সে খাবে না। সেই বন্ধুটি কত অমায়িক। মার্জিত আর ভালো মানুষ। কিন্তু তাকে সাম্প্রদায়িক বলে সমালোচিত করেছিলাম আমি। একজন মানুষ কোন কিছু খাওয়া তার জন্য নিষিদ্ধ মনে করতেই পারে তার বিশ্বাস থেকে। আপনি যে গ্রোসারি শপে কাজ করেন সেখানে শুকোরের মাংস খাকে। যদি সেটা আপনি হাত দিয়ে ধরতে না চান তাহলে কি আপনাকে ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা বলে রেহাই দেয়া হবে?

কেউ তো আপনাকে শুকর খেতে বলেনি। তাই একজন হিন্দু ধর্মগতভাবে গরুর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ মনে করলেও গরুর মাংস নিয়ে তার এ্যালার্জি থাকার কথা নয় যদি সে নিজেকে মানুষ ও মানবিক দাবী করে থাকে। হাশিম আমলা তার ক্রিকেট জার্সিতে বিয়ার কোম্পানির লোগো লাগাতে দেয়নি কারণ এটি ইসলাম ধর্মে হারাম! তাকে বিয়ার খেতে হবে না শুধু জার্সিতে কম্পানির নামটি থাকবে তাতেও সে রাজি নয়! এই হাশিম আমলাকে উদার মুসলিম হিসেবে আমাদের দেশে ক্রীড়া সাংবাদিকরা প্রায়ই চেষ্টা করেন পরিচয় করে দিতে। ইংলেন্ডের আদিল রশিদ ও মইন আলী টিমের সেলিবেশনে অংশ নেয়নি কারণ সেখানে সেম্পন ছেটানো হচ্ছিল বলে! এতখানি গোড়া ধার্মীক মুসলিম মানুষে মানুষে কি রকম ভেদাভেদ নিজেদের মনের ভেতর রাখে আন্দাজ করা যায়?

হঠাৎ হাশিম আমলাকে নিয়ে আবার লেখার কারণ হচ্ছে হাশিম আমলা নিউজ তৈরি করেছেন তিনি রোজা রেখেই বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবেন। রোজা নাকি তাকে ফিট রাখে এবং ভালো খেলতে সাহায্য করে। বিশ্ব ময়দানে এতবড় টুনার্মেন্টে খেলোয়ারদের কথাবার্তা অন্য যে কোন সময়ের চাইতে বেশি ভাইরাল হয় এটা খেলোয়াররাও জানে। আমলা এই সুযোগে তার রমজানের মার্কেটিংটা সেরে নিলেন।

প্রথম আলোর উৎপল শুভ্রের সম্পাদিত খেলার পাতায় লিখেছে, ‘রোজা রেখে ম্যাচ খেলা হাশিম আমলার জন্য নতুন কিছু নয়। এসব ম্যাচে আমলার সাফল্যের পরিমাণটা চোখে পড়ার মতো’। খবরের কাগজের ইঙ্গিতটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত নয়? রোজা রাখার সঙ্গে ভালো খেলার কি সম্পর্ক? বারবার কেন মুসলিম খেলোয়ারদের ধর্মকর্ম নিয়ে খেলার সময় এত কথা উঠবে?

মোহাম্মদ সালাহ লিভারপুলে খেলে। মাঝে মাঝে মনে হয় সে খেলোয়ার নাকি একজন স্রেফ মুসলিম? সে বিমানে কুরআন পড়তে পড়তে যায়, চুলের ফ্যাশান করে না, নামাজ পড়ে… কত্ত কি! খেলোয়াররা সাধারণত নিয়তিবাদে বিশ্বাসী হয়। গোল করে বা সেঞ্চুরি করে তাই তারা আকাশে কাল্পনিক কোন নিয়তি নিয়ন্ত্রককে ধন্যবাদ জানায়। কিন্তু কে কবে গির্জায় যায়, কে খুব পুজারী- এরকম নিউজ অন্য খেলোয়ারদের মধ্যে দেখা যায় না। কারণ মুসলিমদের সচেতনভাবে ইসলামে প্রচার ও প্রসারের একটা ধর্মীয় উদ্দেশ্য থাকে।

এরকম ধর্মীয় প্রচার তারা চালাতে পারবে কিন্তু যখনই কেউ বলবে খেলাধূলা তো ইসলামে হারাম- সেই হারাম খেলা খেলে রোজা রাখার কি অর্থ? অমনি আপনি ইসলাম বিদ্বেষী ট্যাগ খেয়ে ফেলবেন! ইসলামে ক্রিকেটও হারাম বিয়ারও হারাম। হাশিম আমলা বিয়ারের লোগো নিয়ে হারাম খেলা খেলবে না! ইসলামের ভাষায় এটাকেই বলে মুনাফিকি!