প্রচ্ছদ রাজনীতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে অবসরে যাচ্ছেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে অবসরে যাচ্ছেন

709
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে অবসরে যাচ্ছেন

দিন যতই যাচ্ছে, অবসরের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সভাপতির অবস্থান আরও শক্ত হচ্ছে। সুযোগ পেলেই তিনি তার কাছে সাক্ষাতে আসা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অবসরের বার্তা দিচ্ছেন।

গত ১৭ মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন দলের নেতাকর্মীদের তিনি বলেছেন, ‘এতদিন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন একটু বেশিই বাড়াবাড়ি।’

আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ করেছেন এমন করেছেন এমন কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী কেবল অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্ত নন, অবসরের একটা রোডম্যাপও চূড়ান্ত করেছেন। এই রোডম্যাপ অনুযায়ী:

১. আগামী ২০২৩ সালে যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সেই নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন না। ফলে ঐ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার বা বিরোধীদলে থাকবেন না বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, এটাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার শেষ টার্ম।

২. আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় কাউন্সিলে শেষ পর্যন্ত হয়ত তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে থাকবেন। এটা থাকার একমাত্র কারণ হলো জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী উদযাপন। দলের কোনো নেতাকর্মীই এর আগে দলের সভাপতির পদ থেকে শেখ হাসিনার সরে যাওয়া মেনে নেবে না। এজন্যই শেখ হাসিনা এ বছরেই কাউন্সিল করার পক্ষে। যেন ২০২৩ এর শেষের জাতীয় নির্বাচনের আগে আরেকটি কাউন্সিল হয়। সেই কাউন্সিল থেকে তিনি বিদায় নেওয়ার ব্যাপারে মনস্থির করে ফেলেছেন। দলের একজন নেতাকে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘তোমরা তো এবার আমাকে ছাড়বে না, কিন্তু এরপরের বার আমাকে আর পাবে না।’

৩. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেবল অবসরই নেবেন না, তার উত্তরাধিকার হিসেবেও কাউকে মনোনয়ন দেবেন না। আওয়ামী লীগ সভাপতি দলের একাধিক নেতাকে স্পষ্ট করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। তাই আমি কেন ঠিক করবো, এরপরে কে নেতা হবে? এটা দলের কর্মীরা ঠিক করবে। এটা নির্ধারিত হবে কর্মীদের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে। বেগম জিয়া যেমন তার পুত্র তারেক জিয়াকে নেতা বানিয়েছিলেন, তেমন কিছুর ধারেকাছেও যেতে চান না শেখ হাসিনা। তার পুত্র, কন্যা, বোন কিংবা বোনের ছেলেমেয়েরা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নেবে এমন ভাবনা একদমই নেই। শেখ হাসিনা তাঁদের উৎসাহিত করবেন না আবার নিষেধও করবেন না। আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নির্বাচিত হোক গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এটাই তিনি চান।

কয়েকজন নেতাকে অবশ্য প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তারপর বঙ্গবন্ধু পরিবারের কেউ আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নেবে না। বরং তাঁরা দলের জন্য প্রয়োজনে কাজ করবে। কিন্তু শেখ হাসিনা ছাড়া যেমন আওয়ামী লীগ অচল, তেমনি জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নেতৃত্ব ছাড়া আওয়ামী লীগ অখণ্ড থাকবে তেমন বিশ্বাস করার লোক আওয়ামী লীগেই একটিও নেই।