প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় এবার মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে

এবার মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে

455
এবার মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে

মন্ত্রিসভায় ক্ষুদ্র পরিবর্তনই শেষ নয়, শিগগিরই বড় আকারে পরিবর্তন আসতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, বাজেটের পর মন্ত্রিসভার আকার বড় হতে পারে। মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে কিছু নতুন মুখ।

গতকাল আকস্মিকভাবে ৪ মন্ত্রীর দপ্তর পুনঃবন্টন করা হয়। এতে দুই পূর্ণমন্ত্রীর মন্ত্রণালয় কেটে অর্ধেক করা হয়েছে। আর দুইজন প্রতিমন্ত্রীকে একটি করে বিভাগের পূর্ণ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। অন্য একজন প্রতিমন্ত্রীকে বদলী করে অন্য মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে। বদলী হওয়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রীর মতদ্বৈততার খবর চাউর ছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছে, এই রদবদলের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তিনটি বার্তা দিলেন। প্রথমত; প্রধানমন্ত্রী কাজে গতি চান। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় যেন মন্ত্রণালয়ের কাজ আটকে না থাকে সে ব্যাপারে একটি বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব আলাদা করে তিনি কাজে গতি আনার সুস্পষ্ট বার্তা দিলেন।

দ্বিতীয়ত; মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কিংবা মন্ত্রী-সচিব দ্বন্দ্ব প্রধানমন্ত্রী চান না। ক্ষুদ্র রদবদলের মধ্যে দিয়ে এই বার্তা দেয়া হলো। ভবিষ্যতে মন্ত্রণালয় চালাতে এরকম বিরোধ প্রশ্রয় দেয়া হবে।

তৃতীয়ত; যেটি সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের প্রতি কর্মকাণ্ড তদারকি করছেন। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীরা এবার সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে আছেন।

এরকম পরিস্থিতিতে সরকারের কাজের গতি আনতে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। যদিও মন্ত্রিসভার রদবদলের কথা শোনা যাচ্ছিলো শুরু থেকেই। ধারণা করা হয়েছিল, মহিলা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মন্ত্রিসভা রদবদল হবে। কিন্তু তা হয়নি। একবার শরীকদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভূক্তির বিষয় নিয়েও কথাবার্তা হয়েছিল। কিন্তু সংসদীয় গণতন্ত্রে মন্ত্রিসভা পরিবর্তন, পরিবর্ধন একান্তই প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। প্রধানমন্ত্রী তাঁর একক সিদ্ধান্তে এটি করেন।

তবে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, তৃতীয় মেয়াদে সরকারের কাজে আরও গতি আনতে চান প্রধানমন্ত্রী। এজন্য মন্ত্রণালয়ের বিভাগগুলোতে আলাদা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়াও কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে প্রতি এবং উপমন্ত্রী নিয়োগ করা হতে পারে। যেমন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতো বড় মন্ত্রণালয় কি একজন মন্ত্রী দিয়েই চলবে? এই প্রশ্ন উঠেছে। এখানে একজন প্রতি বা উপমন্ত্রী দেওয়া হতে পারে। একইভাবে অর্থ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েও প্রতি বা উপমন্ত্রী দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বার বার বলছেন, এরপর তিনি আর প্রধানমন্ত্রী হবেন না। এই মেয়াদের পর হয়তো রাজনীতি থেকেও অবসরে যেতে পারেন তিনি। এই চিন্তা থেকেই তিনি তরুণদের মন্ত্রিসভায় বেশি করে স্থান দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছেন। এবারের মন্ত্রিসভা তারুণ্যে ভরপুর। আরও তরুণদের মন্ত্রিসভায় জায়গা করে দেওয়ার জন্যই মন্ত্রিসভার কলেবর বৃদ্ধির পরিকল্পনা করেছেন বলে একাধিক সূত্র আভাস দিয়েছে। তবে রদবদলে এখনও দলের প্রবীণ ও হেভিওয়েটদের কিংবা ১৪ দলের শরীকদের অন্তর্ভূক্ত করার কোনো ইঙ্গিত নেই।