প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত অনন্ত বাড়ি আছো?

অনন্ত বাড়ি আছো?

69
অনন্ত বাড়ি আছো?

রাজর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়

অভিজিৎদার হত্যা সম্পর্কে অনন্তের জিজ্ঞাসা ছিল: ‘বড় জানতে ইচ্ছে করে পুলিশের দায়িত্বটা আসলে কি? একসেপ্ট রিলিজিয়াস এন্ড কালচারাল মাইনোরিটিস্?’

ছিঃ, অনন্ত ছিঃ! বাংলাদেশের মত অসাম্প্রদায়িক দেশে এরকম কথা লিখতে নেই যে। খুন হওয়ার আগে শেষ পোস্টে অনন্ত, স্থানীয় একজন সংসদ সদস্যের, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে নিয়ে করা মন্তব্যের সমালোচনা করে লিখেছিল।

মূলত বিজ্ঞান বিষয় পত্রিকা সম্পাদনা আর ব্যাংকের চাকরি নিয়ে ছিল অনন্ত বিজয়ের জীবন। সিলেটে শাহবাগ আন্দোলনের একজন সংগঠকও ছিলেন অনন্ত। অনন্ত একাধারে নেপালের ভূমিকম্প নিয়ে লিখতে গিয়ে মন্তব্য করেছেন:’কাঠমোল্লা টাইপের ধার্মিকদের কাছে খুব বেশি আশা করতে নেই। সেটা পাকিস্তানি মোল্লাই হোক, মার্কিন খ্রিস্টান মোল্লাই হোক আর ভারতীয় হিন্দু মোল্লাই হোক! দিনশেষে এরা সবাই এক গোয়ালের!’ আবার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে লিখেছেন: ’এলোমেলো করে দে মা, লুটেপুটে খাই! ইস, সোনার ছেলেরা বায়না ধরেছে, মা কি আর না-দিয়ে পারে! বঙ্গে মোরা “নির্বাচন” করলেও আদতে এটা “ইলেকশন” নয়, “সিলেকশন”-ই হলো!…’

সৌদি সরকারের ওমরাহ হজের ভিসা বন্ধ করা নিয়ে তার লেখা:’ সৌদি সরকারের এহেন সিদ্ধান্তে কারো ধর্মানুভূতি (বিশেষ করে হজানুভূতি) আহত হয়েছে কী?…’

আচ্ছা অনন্ত, তোমার কি বুদ্ধি-শুদ্ধি বলে কিছুই ছিল না? এসব এভাবে লিখতে হয়? যে দেশে জন্ম নিয়েছিলে, সে দেশের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা, বাংলাদেশের স্বাধীনতার কান্ডারী ‘ওআইসি’ সম্মেলনে যোগদান করেছিলেন মহামান্য ভুট্টো সাহেবের অনুরোধে। এ সেই ভুট্টো যে ইয়াহিয়ার মিলিটারী জান্তার সাথে কলকাঠি নেড়ে তোমার দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে ৩০ লক্ষ মানুষ হত্যা আর ৩ লক্ষ নারী ধর্ষণ ঘটিয়েছিল। অনন্ত তুমি জাতির পিতার কালজয়ী মন্তব্যের নির্যাস হৃদয়ে অনুভব করতে পারোনি: “ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্ম হীনতা নয়”?

তার সুযোগ্যা কন্যার সরকারে তুমি কি নিজেকে খুব বেশি নিরাপদ ভেবেছিলে, নাকি কালজয়ী উদাহরণ রেখে যেতে চেয়েছিলে? জানতে না ভরা রাস্তায় খুন হয়ে যায় অভিজিৎদার মত মানুষ আর পুলিশ কয়েক হাত দূরে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখে? জানতে না ‘মনিরুল’ রা ধর্ম নিরপেক্ষ কিন্তু ধর্মহীন নয়? তোমার দেশে অভিজিৎদের মরতে হয় আর ফারাবিরা জেলের গরাদের ভেতরেও লালিত হয় আগামীর ধর্মধ্বজা বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

অতঃএব তোমাকে মরতে হলো। অনন্তের বিজয়রথ থেমে গেল অচিরেই…। পাঠক, রথ ছুটছে না থেমে আছে?