প্রচ্ছদ রাজনীতি খালেদাপন্থীরা বিএনপি থেকে বিতাড়িত হচ্ছে

খালেদাপন্থীরা বিএনপি থেকে বিতাড়িত হচ্ছে

359
খালেদাপন্থীরা বিএনপি থেকে বিতাড়িত হচ্ছে

বিএনপিতে এখন খালেদাপন্থীদের দুর্দিন চলছে। বেগম জিয়ার ঘনিষ্ঠরা হয় দলে কোণঠাসা দূরে অথবা দলে অপাংক্তেয় গুরুত্বহীন।

বিএনপিতে দ্রুতই বেগম জিয়ার অস্তীত্ব মুছে যাচ্ছে। তারেক জিয়া দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ায় বেগম জিয়া যেমন দলের কেউ না, তেমনি দলে প্রভাব হারিয়েছেন তাঁর অনুগত বিশ্বস্তরা। বিএনপিতে খালেদাতন্ত্রের বিদায় ঘন্টা বেজেছে। দলে এখন চলছে তারেক বন্দনা। বেগম জিয়ার পক্ষে এখন লোক খুঁজে পাওয়াই ভার। বেগম জিয়ার ঘনিষ্ঠদের কি অবস্থা দেখা যাক-

মোসাদ্দেক আলী ফালু: বিএনপিতে বেগম জিয়ার সবচেয়ে বিশ্বস্ত ছিলেন ফালু। ৮৩ থেকে আস্তে আস্তে ফালু বেগম জিয়ার সবচেয়ে কাছের, আস্থাভাজন এবং বিশ্বস্ত অনুচরে পরিণত হন। ৯১-তে বেগম জিয়া ক্ষমতায় এলে ফালু তাঁর একান্ত সচিব হন। মন্ত্রী এমপিদের সব নির্দেশনা দিতেন ফালুই। ২০০১ সাল থেকে বিএনপিতে ফালুর কর্তৃত্ব খর্ব হতে থাকে। এখন তো ফালু বিএনপির কেউ নন। ২০১৬-র কমিটিতে তাঁকে রাখা হলেও তিনি পদত্যাগ করেন। বর্তমানে দুর্নীতির মামলা এড়াতে দুবাইয়ে আছেন খালেদার ঘনিষ্ঠ এই নেতা।

সাদেক হোসেন খোকা: বেগম জিয়া রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি যাদের উপর নির্ভর করতেন তিনি হলেন সাদেক হোসেন খোকা। খোকাকে কোনো দায়িত্ব দিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতেন বেগম জিয়া। ২০০১ সালে খোকা একাধারে মেয়র, মন্ত্রী, ঢাকা মহানগরীর সর্বেসর্বা। এমনকি ওয়ান ইলেভেনে খোকার ভূমিকা নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকার পরও বেগম জিয়া তাঁকে ডেকে নিয়েছিলেন। কিন্তু ততদিনে বুদ্ধিমান রাজনীতিবিদ খোকা বুঝতে পারেন বিএনপিতে খালেদার ক্ষমতা নেই। খোকা এরপর নিজেকে গুটিয়ে নেন। এখন নিউইয়র্কে বসবাস করছেন। দলে পদ থাকলেও কর্মকাণ্ডে তিনি নেই।

আবদুল্লাহ আল নোমান: কঠিন সময়ে বেগম জিয়ার সহযোগী ছিলেন আবদুল্লাহ আল নোমান। বেগম জিয়া দুবারই তাকে মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপিতে তারেক জিয়ার আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবার পরপরই নোমানের কর্তৃত্ব খর্ব হতে থাকে। দলের স্থায়ী কমিটিতে জায়গা না পেয়ে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বেগম জিয়ার অনুরোধে দলে রয়ে যান। কিন্তু এখন দলীয় কর্মকাণ্ডে তিনি উৎসাহহীন।

এছাড়াও বেগম জিয়ার ঘনিষ্ঠদের মধ্যে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া অসুস্থ। তিনি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেও, অসুস্থতার জন্য খালেদা জিয়া বা দলের জন্য কোন অবদান রাখতে পারছেন না। বেগম জিয়ার আরেক বিশ্বস্ত তরিকুল ইসলাম মারা গেছেন। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে খালেদাপন্থী বলা হলেও বিশ্বস্ততার প্রশ্নে দূরেই ছিলেনৈ। তারপরও মোশাররফ ও দলে এখন কর্তৃত্বহীন।

এভাবেই সবার অলক্ষ্যে বিএনপিতে বেগম খালেদা জিয়ার অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে। এখন বেগম জিয়ার জন্য মায়া কান্না, কিচু বক্তৃতা ছাড়া আর কিছুই নেই। বেগম জিয়া বিএনপিকে আপোষহীন এবং সংগ্রামী ঐক্যবদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলের ইমেজে দাড় করিয়েছিলেন ৮৩ থেকে ৯০ পর্যন্ত সময়ে। সেই বিএনপি এখন লক্ষ্যহীন, বিভক্ত এবং আপোষকামী। দলের কর্মীরা তো নয়ই, দলের শীর্ষ নেতারাও বলতে পারেন না, দল কিভাবে চলছে!