প্রচ্ছদ বিশ্ব রোজায় প্রকাশ্যে খাবার গ্রহণের পক্ষে বলে তোপের মুখে নারী সাংবাদিক

রোজায় প্রকাশ্যে খাবার গ্রহণের পক্ষে বলে তোপের মুখে নারী সাংবাদিক

120
রোজায় প্রকাশ্যে খাবার গ্রহণের পক্ষে বলে তোপের মুখে নারী সাংবাদিক

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রমজানে প্রকাশ্যে খাবার গ্রহণের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, রোজার দিনে কেউ খাবার গ্রহণ ও পানি পান করলে শাস্তি হিসেবে জেল ও জরিমানা করা হবে।

এ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কথা বলে তোপের মুখে পড়েছেন কুয়েতি লেখক সাংবাদিক মানবাধিকারকর্মী আরওয়া আল ওয়াকিয়ান।

এই নারী সাংবাদিক রোজার প্রথম দিনে টুইটারে লিখেছেন, এই শাস্তি সত্যিই বাড়াবাড়ি। সব মানুষ কীভাবে এই নিষেজ্ঞার আওতায় আসে? রমজান মাসে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে এমন এক দেশে শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে যেখানে রয়েছে দুই মিলিয়ন প্রবাসী অন্য ধর্মের অনুসারী। এটি তাদের প্রতি অন্যায়।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কাউকে খাবার খেতে বা পান করতে দেখলে আপনার সমস্যা কী? এটি কীভাবে আপনার রোজার জন্য ক্ষতিকর হয়? আপনার ধর্ম বলছে ক্ষমা একটি মহৎ গুণ, আর রোজা অন্যের প্রতি ধৈর্য ও সহানুভূতি দেখানো শেখায়, শাস্তি প্রদান নয়।

আরওয়ার এই টুইট বার্তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে ব্যবহারকারীরা। কেউ কেউ বলছেন, রোজা রাখেন না এমন মানুষদের খাবার গ্রহণের স্বাধীনতা আছে। কিন্তু সেটি বাড়িতে, জনসমক্ষে নয়।

অন্য একজন লিখেছেন, আমি আপনার মতকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু এ ব্যাপারে আমি সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করছি। প্রথমত, আমাদের দেশের আইনগুলোর প্রতি প্রবাসীদের শ্রদ্ধা বাড়ানো উচিত, তারা কোথা থেকে এসেছে সেটি কোনো বিষয় নয়। দ্বিতীয়ত, যারা রোজা রাখে না এ ব্যাপারে তাদের স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু সেটি তাদের ঘর কিংবা ব্যক্তিগত স্থানগুলোতে। তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইসলামের প্রতি সম্মান ও আনুগত্য প্রদর্শন।

আরেকজন লিখেছেন, ‘এমন নয় যে, এই আইন কেউ জানে না। দুর্ভাগ্যবশত, যারা ভিন্নমত পোষণ করেন তারা কেউ এর বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না।’ অন্য একজন লিখেছেন, অধিকাংশ আরব দেশগুলোতে এ সমস্যা বিদ্যমান। আরেকজন লিখেছেন, রমজানে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরব দেশগুলোতে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে।

এভাবে বিভিন্ন জন বিভিন্ন ভাবে আরওয়ার টুইটের পক্ষে-বিপক্ষে মন্তব্য করেছেন। এদের মধ্যে বেশির ভাগই আরওয়ার মতকে প্রশ্নবিদ্ধ করে উল্টাে প্রশ্নবানে জর্জরিত করেছেন। কুয়েতি এই নারী সাংবাদিক তার মন্তব্যের জেরে এক প্রকার তোপের মুখেই পড়েছেন। যদিও হাতে গোনা কিছু টুইট অনুসারি তার মতকে সমর্থন করছেন। সূত্র : স্টেপফিড