প্রচ্ছদ রাজনীতি জাপার সাথে বিএনপি নতুন করে গাঁটছড়া বাঁধতে যাচ্ছে?

জাপার সাথে বিএনপি নতুন করে গাঁটছড়া বাঁধতে যাচ্ছে?

151
জাপার সাথে বিএনপি নতুন করে গাঁটছড়া বাঁধতে যাচ্ছে?

২০ দল নয়, জাতীয় পার্টির সঙ্গে ঐক্য করতে আগ্রহী বিএনপি। এটা নিয়েই রাজনীতিতে নিঃশব্দে নতুন মেরুকরণ ঘটছে।

সম্প্রতি জাতীয় পার্টিতে পরিবর্তনের পর বিএনপি জাতীয় পার্টির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে চাইছে। লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া বিএনপির নেতৃবৃন্দকে বলেছেন যে সংসদের ভেতরে এবং বাইরে আন্দোলন করতে হবে। সংসদে বিএনপির আসন মাত্র ৫টি। আর ঐক্যফ্রন্টের ২টি আসন যোগ করলে মোট আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ৭টি।

এই মাত্র ৭টি আসন দিয়ে সংসদে সরকারের সমালোচনা করা বা সরকারকে বেকায়দায় ফেলা একটি অলীক স্বপ্নমাত্র। তারেক জিয়া এবং বিএনপির অন্যান্য নীতিনির্ধারকেরা চাইছেন যে জাতীয় পার্টিকে সঙ্গে নিয়ে সংসদে একটা কার্যকর বিরোধী দল তৈরি করতে এবং সংসদে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ অন্যান্য বিষয়গুলো তুলে ধরতে।

ইতিমধ্যেই জাতীয় পার্টিতে একটা নতুন মেরুকরণ ঘটেছে। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ জি এম কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। ফলে বিএনপির সঙ্গে জাতীয় পার্টির সখ্যতা তৈরি হওয়ার একটি নতুন দুয়ার উন্মোচিত হচ্ছে। গত কিছুদিন ধরেই জি এম কাদেরের সঙ্গে বিএনপির ভালো সম্পর্ক রয়েছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। এজন্যই জি এম কাদেরকে একবার সংসদ উপনেতা এবং মহাসচিবের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ জি এম কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে ফিরিয়ে আনেন তখন পরিস্থিতি অন্যরকম হয়ে যায়।

এখন জাতীয় পার্টিতে জি এম কাদেরের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব রয়েছে। এবং জাতীয় পার্টির একটি বড় অংশই এখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আর গাঁটছড়া বেধে থাকতে চায় না। কারণ আওয়ামী লীগের সঙ্গে থেকে তারা মন্ত্রীত্বও পাননি। বরং ‘গৃহপালিত বিরোধীদলের’ অপবাদ পেয়েছেন। এজন্য জাতীয় পার্টির মধ্যে একটা কার্যকর বিরোধী দল হওয়ার আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয়েছে। এই সুযোগটি নিতে চান তারেক জিয়া এবং বিএনপি। সংসদের ভেতরে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এবং মোকাব্বির খানকে নিয়ে বিএনপির খুব বড় কিছু আশা নেই। বরং বিএনপি মনে করে যে এরা দুজনেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে কিছু একটা পাওয়ার চেষ্টা করবে। সেজন্য জাতীয় পার্টির সঙ্গে থাকাই বিএনপির জন্য সংসদে ইতিবাচক হবে বলে মনে করছে।

২০ দল বা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট না থাকলেও জামাতকে রাখতে চায় বিএনপি। ফলে বিএনপি-জামাত এবং জাতীয় পার্টির একটি নতুন মেরুকরণ ঘটতে পারে রাজনীতিতে। তারেক জিয়া এমনই বার্তা দিয়েছেন, এত জোটের চেয়ে যারা কার্যকর, যাদের জনসমর্থন আছে যাদেরকে দিয়ে সত্যিকারের আন্দোলন বা সংগ্রাম গড়ে তোলা যাবে এরকম একটি জোট গড়ার পক্ষপাতি তিনি। যদিও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন যে, যেকোন মূল্যে জোট অক্ষুন্ন ও অব্যাহত রাখতে হবে। যেহেতু এখন বিশ দলীয় জোটের মৃত্যু হচ্ছে, সেহেতু বিএনপি এখন নতুন মেরকরণ করছে। এই নতুন মেরুকরণের মূল বিষয়টি হচ্ছে যে এমন কিছু রাজনৈতিক দলকে খুঁজে বের করা যাতে সংসদের ভেতর এবং বাহিরে ভালো সক্ষমতা রয়েছে আন্দোলন করা এবং কথা বলার।

সেজন্য সংসদের ভেতরে তারা জাপাকে সঙ্গে চাইছে আবার সংসদে বাইরে তারা জামাতকে রাখতে চাচ্ছে। তবে জাতীয় পার্টি তাদের অস্তিত্বের কারণে প্রকাশ্যে বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করতে রাজি নয়। তবে জাতীয় পার্টির একজন শীর্ষস্থানীয় সংসদ সদস্য বলেছেন, সংসদের ভেতরে বিরোধী দলের একটি গ্রুপ হতেই পারে। বিরোধী দলগুলো অভিন্ন অবস্থান নিয়ে কাজ করতে পারে। যেহেতু, জাতীয় পার্টি এখন সংসদে প্রধান বিরোধী দল। কাজেই প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি অন্যান্য বিরোধী গ্রুপগুলোকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারে। এতে সংসদ আরো প্রানবন্ত হবে বলেই ধারণা করা যায়।

কাজেই সংসদে জাতীয় পার্টি এবং বিএনপির ঐক্য কতটুকু কার্যকর হবে তা বোঝা যাবে আগামী বাজেট অধিবেশনে। এই ফর্মূলা যদি বাস্তবায়িত হয় তাহলেই হয়তো বিএনপিও সংসদের বাইরেও একটা নতুন মেরকরণের মাধ্যমে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিবে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন যে, বিএনপি যতই উচ্চাশা করুক না কেন, জাতীয় পার্টির নাটাই আওয়ামী লীগের কাছেই রয়েছে। কাজেই জাতীয় পার্টি যাই কিছু করুক না কেন তা আওয়ামী লীগের সঙ্গে পরামর্শ করেই করবে। হঠাৎ করে বিএনপির সঙ্গে জাতীয় পার্টির জোট হবে এরকম ভাবনা যারা করে তারা অবাস্তব চিন্তাভাবনা করছে বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন।