প্রচ্ছদ রাজনীতি ড. কামাল কি তারেককে ভুল পথে পরিচালিত করছেন?

ড. কামাল কি তারেককে ভুল পথে পরিচালিত করছেন?

315

বিএনপির ৫ সংসদ সদস্যের শপথ গ্রহণের কারা নেপথ্যে কলকাঠি নেড়েছেন এ সম্পর্কে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তারেক জিয়া শুরু থেকেই ছিলেন শপথের বিরুদ্ধে।

৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর তারেকই প্রথম ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত জানান। ঐ নির্বাচনের পর দলের স্থায়ী কমিটির অন্তত তিনটি বৈঠকে স্কাইপে যুক্ত হয়ে তারেক শপথের চিন্তা বাদ দিয়ে আন্দোলনের চিন্তা করতে বলেন। সেই তারেক জিয়াই কিভাবে ঘুরে গেলেন? কিভাবে শপথের পক্ষে অবস্থান নিলেন? এনিয়ে বিএনপিতে চলছে নানা অনুসন্ধান।

আর এসব অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিএনপির একটি সূত্র বলছে, বিএনপির নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণের ক্ষেত্রে সবথেকে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছেন ড. কামাল হোসেন। বিএনপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, ২৫ এপ্রিল থেকে ২৮ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে তারেক জিয়ার অন্তত ৫ বার কথা হয়েছে। এসব কথোপকথনে ড. কামাল হোসেন শপথের পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেন। তবে, তার প্রধান যুক্তি ছিলো, আন্তর্জাতিক চাপ।

ড. কামাল হোসেন তারেককে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, শপথ গ্রহণ না করেন, তাহলে ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হারাবে। এরফলে বেগম জিয়ার মুক্তি, তারেকের যুক্তরাজ্যে থাকা ইত্যাদি সবই অনিশ্চিত হয়ে পরবে। ড. কামাল তারেক জিয়ার কাছে দুবছর সময় চেয়েছেন। এই দুই বছরের মধ্যেই বর্তমান সরকার বড় বিপদে পড়বে বলে ভবিষ্যতবাণী করেছেন ড. কামাল। শপথ গ্রহণ না করলে এই সরকার পাঁচ বছর বহাল তবিয়তে থাকবে বলেও ড. কামাল মত দেন।

বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর থেকেই ড. কামাল হোসেন ছিলেন শপথের পক্ষে। তাঁর নির্দেশেই সুলতান মোহাম্মদ মন্সুর শপথ গ্রহণ করেন। মোকাব্বির খানকে শপথে পাঠান ড. কামালই। পরে দলের ভেতর ক্ষোভ সামাল দিতেই তিনি তাঁর অফিসে নাটক করেন। এরপর গণফোমারের কাউন্সিলে ড. কামালই তাঁকে আমণত্রন জানান।

এনিয়ে দলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু সৃষ্টি হয়েছিল। বিএনপির নির্বাচিতরা যেন শপথ নেন এজন্য ড. কামাল একাধিকবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে ফখরুল বলেন, এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে তারেক জিয়া। এরপর ড. কামাল তারেক জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন। বিএনপির একটি বড় অংশ মনে করে একটি বিদেশী রাষ্ট্রের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন ড. কামাল হোসেন।

ঐ রাষ্ট্রটি একটি ‘অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচন ও সংসদের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখার মিশনে ড. কামালকে নিয়োগ দিয়েছিল। ঐ রাষ্ট্রের প্রেসক্রিপশনেই ড. কামালের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট হয়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সরকারের সংলাপ হয় এবং কোনো দাবী মানা ছাড়াই বিএনপি নির্বাচনে যায়। বিএনপি যদি সংসদে না যেত তাহলে সংসদ অংশগ্রহণমূলক হতো না, এ কারণেই ড. কামাল বিএনপিকে সংসদে যেতে রীতিমতো চাপ সৃষ্টি করেন।

আবার অন্য একটি সূত্র বলছে, ড. কামাল দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বিএনপিকে সংসদে পাঠিয়েছে। এর মাধ্যমে ড. কামাল বিএনপির সঙ্গে ঐ রাষ্ট্রের সম্পর্ক উন্নয়নের কাজটি করলেন। কারণ ড. কামাল জানেন, তারা না চাইলে বাংলাদেশে এখন ক্ষমতার পট পরিবর্তন অসম্ভব। ড. কামাল আসলে বিএনপিকে আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্য করতেই এরকম পদক্ষেপ নিতে প্ররোচিত করেছে।