প্রচ্ছদ রাজনীতি খালেদার নির্ঘুম রাত, ফখরুলের প্রশান্তির ঘুম

খালেদার নির্ঘুম রাত, ফখরুলের প্রশান্তির ঘুম

100
খালেদার নির্ঘুম রাত, ফখরুলের প্রশান্তির ঘুম

বিএনপির ৫ জন সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছেন এ খবর শোনার পরই অস্থির হয়ে ওঠেন বেগম খালেদা জিয়া। কীভাবে তার ছেলে এমনটা করলো সেটা নিয়ে চিন্তামগ্ন হয়ে পড়েন তিনি।

এখন কি তার প্যারোল হবে? মুক্তি মিলবে তার? এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিলো তার মনে। সারারাত তিনি অনেকটা অস্থিরভাবে কাটান। আর এসবের খবর পাওয়া যায় কারারক্ষী ও নার্সদের মাধ্যমে।

তার দেখভালের দায়িত্বে থাকা নার্সরা জানিয়েছেন, সারা রাত তিনি এপাশ-ওপাশ করেছেন। কয়েকবার তাদের ডেকেছেন বলেও জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার বিএনপির ৪ জন সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছেন এ খবর সন্ধ্যায় জানতে পারেন বেগম জিয়া। নার্সদের মাধ্যমে কথাটি শুনে তিনি হতবাক হয়ে যান। তখন তিনি বললেন, এরা বেইমান। বেইমানী করে কোন লাভ হবে না, কোন ফল হবে না। এরা ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি জানতে পারেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলন করেছেন এবং তিনি বলেছেন, এটা দলীয় সিদ্ধান্ত। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

এই কথা শুনে বেগম খালেদা জিয়া বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। নিজের ছেলেই তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান হইয়ে পড়েন তিনি।

এমন ঘুম অনেকদিন ঘুমাননি ফখরুল

গতকাল সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনেই বেশ ফুরফুরা দেখা গিয়েছিল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। যেন অনেক দিনের বোঝা নেমেছে মাথা থেকে। মির্জা ফখরুলকে সংবাদ সম্মেলনে হাস্যোজ্জল দেখা যায় না সচরাচর। সংবাদ সম্মেলনে এলেই বিপক্ষ শিবিরের প্রতি রাশি রাশি ক্ষোভ দাবি নিন্দা নিয়ে হাজির হতে দেখা যায় তাকে। কিন্তু গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তেমন কিছুই দেখা যায়নি। অনেকটা বিজয়ীর বেশে ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কোন নেতা উপস্থিত ছিলেন না। বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে তিনি একাই সংবাদ সম্মেলন ডেকে খোলাসা করেন তারেকের নির্দেশেই এমপিরা শপথ নিয়েছেন। তারেকের নির্দেশে বলার সঙ্গে সঙ্গে যেন তার দায়ভার কমে গেল। তার দিকে যে তীর ছোড়া ছিল তিনিই সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে বিএনপিকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিয়েছেন। এমনকি গুটিকয়েক সংসদ সদস্যদের সংসদে নেওয়ার তোড়জোরও তিনি করছেন।

সেসব অভিযোগ থেকে কিছুটা হলেও হয়তো তিনি মুক্ত হয়েছেন। তবে অনেকের অভিযোগ, তারেক জিয়া তাকে দিয়েই এমনসব গুটি চালিয়েছেন যা বিএনপির অন্য নেতারা জানেন না। মির্জা ফখরুল শপথ হলেন। তিনি সরকারেরও মন রাখলেন।

তারেকের স্বার্থও হাসিল করলেন। আর এসব প্রাপ্তি ঘটলো গতকাল। তাই সংবাদ সম্মেলন শেষে সোজা বাসায় চলে গেলেন। বাসায় গিয়ে ফোনটা অফকরে রাখলেন। বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা তাকে রাতভর ফোন দিলেন। কিন্তু সুইচ অফই পাওয়া গেল। মনে হলো অনেকিদন পর মির্জা ফখরুল প্রশান্তির ঘুম ঘুমালো।