প্রচ্ছদ রাজনীতি হেফাজতের চাপে কমিউনিস্ট মুক্ত হচ্ছে আওয়ামী লীগ?

হেফাজতের চাপে কমিউনিস্ট মুক্ত হচ্ছে আওয়ামী লীগ?

586
হেফাজতের চাপে কমিউনিস্ট মুক্ত হচ্ছে আওয়ামী লীগ?

এবার কাউন্সিলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগে কমিউনিস্ট অধ্যায়ের অবসান ঘটছে। ছাত্র ইউনিয়ন, ন্যাপ এবং কমিউনিস্ট পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়াদের কেউই কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকছেন না।

অবশ্য আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীকে এর আওতায় আনা হয়নি। উপদেষ্টা মণ্ডলী একটি অলংকারিক পদ। এই কমিটি দলের থিংক ট্যাংক হিসেবে কাজ করে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামে তিনজন প্রাক্তন কমিউনিস্ট রয়েছেন, এরা হলেন বেগম মতিয়া চৌধুরী, নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং আবদুল মান্নান খান- এরা তিনজনই এবার প্রেসিডিয়াম সদস্য পদ হারাবেন বলে আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে। এর ফলে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি কমিউনিস্ট শূন্য হবে।

গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কমিউনিস্ট পার্টিসহ বাম সংগঠনগুলোর সম্পর্ক ভালো না। কমিউনিস্ট পার্টি বা ছাত্র ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান শূন্যের কোঠায় নেমে গেছে। ফলে আওয়ামী লীগে কমিউনিস্ট বিতর্কের অবসান ঘটবে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে কমিউনিস্ট পার্টির বন্ধন দীর্ঘ। জাতির পিতা যখন স্বাধিকার আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন তখন কমিউনিস্ট পার্টি ছিলো তার সহযোদ্ধা।

১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পরেছিল কমিউনিস্ট পার্টি, ন্যাপ, ছাত্র ইউনিয়নসহ মস্কোপন্থী বাম দলগুলো। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নসহ কমিউনিস্ট দেশগুলোর মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থনের বড় কারণ ছিলো কমিউনিস্ট পার্টি। মুক্তিযুদ্ধের পর কিছু টানাপোড়েন সত্বেও কমরেড মনি সিংয়ের নেতৃত্বে কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সুসম্পর্ক ছিলো। জাতির পিতা বাকশালের উদ্যোগ নিলে কমিউনিস্ট পার্টি তাতে বিলীন হয়।

৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর যে স্বল্প সংখ্যক রাজনৈতিক দল জাতির পিতার হত্যার বিচার চেয়েছিল, তাদের মধ্যে কমিউনিস্ট পার্টি ছিলো অগ্রগণ্য। ৭৫ এরপর বহু কমিউনিস্ট আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। ৮১-তে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নেয়ার পর কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সুসম্পর্ক আরও বাড়ে। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ১৫ দলীয় জোটে কমিউনিস্ট পার্টি ছিল দ্বিতীয় প্রধান দল। কমিউনিস্ট পার্টির নেতা মোহাম্মদ ফরহাদ ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতির বিশ্বস্ত এবং আস্থাভাজন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর আস্তে আস্তে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কমিউনিস্ট পার্টির দূরত্ব তৈরি হয়। এসময় বিপুল সংখ্যক কমিউনিস্ট আওয়ামী লীগে যোগ দেয়।

ওয়ান-ইলেভেনের সময় আওয়ামী লীগে কমিউনিস্ট বিপ্লব ঘটে। দলের অধিকাংশ হেভিওয়েট নেতা সংস্কারপন্থী হয়ে শেখ হাসিনাকে মাইনাস করতে চান। অন্যদিকে বেগম মতিয়া চৌধুরীর নেতৃত্বে কমিউনিস্টরা শেখ হাসিনার প্রতি আকুণ্ঠ সমর্থন জানান। ২০০৮-এ নির্বাচনে বিজয়ের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় কমিউনিস্টদের জয়জয়কার দেখা যায়। শেখ হাসিনাকে কমিউনিস্টরা ঘিরে ফেলেছে এমন আওয়াজ আওয়ামী লীগে জোরেশোরেই ওঠে। ধর্মীয় দলগলির সাথে আওয়ামী লীগের সখ্য বাড়ে গেছে বহুগুণ। ধর্মীয় দল বিশেষ করে হেফাজতি ইসলামের চাপে কমিউনিস্ট থেকে আসাদের আওয়ামী লীগে কোণঠাসা করা হচ্ছে, এমনকি বিতাড়িত হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সর্বশেষ দলের মধ্যে কমিউনিস্ট বিরোধী তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে মন্ত্রিসভা গঠনে চমক দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বেগম মতিয়া চৌধুরী এবং নুরুল ইসলাম নাহিদকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেন। মতিয়া চৌধুরীর মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়াটা ছিল বিস্ময়কর। আর আগামী অক্টোবরের কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় কমিটি কমিউনিস্ট মুক্ত হলে তা হবে আরেক বিস্ময়।