প্রচ্ছদ রাজনীতি টাকার বিনিময়ে এমপিদের শপথের অনুমতি দিচ্ছেন তারেক!

টাকার বিনিময়ে এমপিদের শপথের অনুমতি দিচ্ছেন তারেক!

944
টাকার বিনিময়ে এমপিদের শপথের অনুমতি দিচ্ছেন তারেক!

বিএনপি থেকে নির্বাচিত জাহিদুল ইসলাম জাহিদ শপথ নিয়েছেন গত বৃহস্পতিবার। এরপর থেকেই বিএনপিতে টালমাটাল অবস্থা। শীর্ষ নেতারা পরস্পরকে বেঈমান এবং গাদ্দার বলে গালাগালি করছেন। কেউ কাউকে বিশ্বাস করছেন না।

দলের মধ্যস্তরের এবং তৃণমূলের নেতারা বলছেন, এই শপথ গ্রহণের পেছনে দলের সিনিয়র নেতাদের মদদ এবং ইন্ধন রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিএনপির একাধিক নেতা দাবী করেছেন, বিএনপি থেকে নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণে তারেক জিয়ার সবুজ সংকেত রয়েছে। ঠাকুরগাও-৩ থেকে নির্বাচিত জাহিদ শপথ গ্রহণের দুইদিন আগে লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন।

জাহিদ তাঁর ঘনিষ্ঠদের বলেছেন, ‘শপথের ব্যাপারে তারক জিয়া সম্মতি দিয়েছেন।‘ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আরও দুজন নির্বাচিত বিএনপি নেতা তারেক জিয়ার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তাঁদের শপথ গ্রহণের ব্যাপারেও তারেক জিয়া ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন। তবে বিএনপির একটি সূত্র বলছে, এটা বানোয়াট তথ্য। তারেক জিয়া বারবার শপথ না নেয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন তিনি কি করে শপথ গ্রহণে সম্মতি দিবেন?

সূত্রমতে, গত মঙ্গলবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের আগেও তারেক জিয়া সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে স্কাইপে যুক্ত হন। তিনি শপথ না নেয়ার পক্ষে বিএনপি নেত্রিবৃন্দের মনোভাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। কিন্তু তারেক জিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে রাজনীতি করেছেন, তারা বলছেন, ‘এটাই তারেক জিয়ার চরিত্র।’

সূত্রমতে, বেগম জিয়ার উপদেষ্টা আমান উল্লাহ্‌ আমান ঢাকা জেলার কমিটির ব্যাপারে তারেকের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তারেক তাঁকে বলেছিলেন, কমিটির নাম পাঠাতে। আমান যে নাম দেবে সেখান থেকেই কমিটি হবে। কিন্তু তারেক যখন কমিটি পাঠালেন তখন দেখা গেলো আমানের দেয়া তালিকা থেকে অল্প সংখ্যক ব্যক্তিকেই কমিটিতে রাখা হয়েছে। তারেক জিয়া যখন ড. খন্দকার মোশাররফের সঙ্গে কথা বলেন তখন ফখরুলের সমালোচনা করেন। আবার ফখরুলকে বলেন, ‘মোশাররফকে যেন বেশি প্রশ্রয় না দেওয়া হয়।’

বিএনপির একাধিক নেতা মনে করেন দুটি কারণে তারেক জিয়া বিএনপির নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখাতে পারেন।

প্রথমত তাতে যেন দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সরকার যুক্তরাজ্যের কাছে দেন দরবার না করে সেজন্য সরকারের সঙ্গে সমঝোতার অংশ হিসেবে তারেক বিএনপির নির্বাচিতদের সংসদে পাঠাচ্ছেন। এতে সরকার তার প্রতি নমনীয় হবে।

একজন বিএনপি নেতা দাবি করেছেন, তারেকের স্ত্রী ডা. জোবায়দার সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন মহলের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। মির্জা ফখরুলরা যখন বিএনপির নির্বাচিতদের সংসদে নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না, তখন তারেক জিয়ার সঙ্গেই এনিয়ে দরকষাকষি করে সরকার। এরফলে তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনার সরকারী উদ্যোগ সম্ভবত থমকে যাবে। বিএনপির অনেকেই মনে করেন, নিজে বাঁচার জন্যই হয়তো তারেক নির্বাচিতদের সংসদে পাঠাচ্ছেন।

দ্বিতীয়ত, তারেক জিয়া মনোনয়ন বাণিজ্য করে ৫ জন নির্বাচিতদের কাছ থেকেই মোটা অংক নিয়েছেন। এখন যদি তারা শপথ না নেন, তাহলে তাদের টাকা ফেরত দিতে হবে। এজন্য হয়তো তারেক নির্বাচিতদের গোপনে সবুজ সংকেত দিচ্ছেন।