প্রচ্ছদ বিশ্ব ‘নিজ পরিবারে সৌদি নারীদের দাসীর মতো ব্যবহার করা হয়’

‘নিজ পরিবারে সৌদি নারীদের দাসীর মতো ব্যবহার করা হয়’

226
'নিজ পরিবারে সৌদি নারীদের দাসীর মতো ব্যবহার করা হয়'

সৌদি আরব থেকে পালিয়ে যাওয়া দুই বোন আন্তর্জাতিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। তারা এখন জর্জিয়ায় রাষ্ট্রীয় একটি আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছেন। মাহা আল-সুবায়ি (২৮) ও ওয়াফা আল-সুবায়ি (২৫) নামের ওই দুই বোন অভিযোগ করেছেন, নিজ পরিবারে তাদের সাথে দাসীর মতো ব্যবহার করা হতো।

ওয়াফা বলেন, আমাদের মুখ ঢেকে রাখতে হতো… রান্নাবান্না করতে হতো, যেন আমরা দাস। আমরা এটা চাই না, আমরা সত্যিকারের একটা জীবন চাই, আমাদের জীবন।

টুইটারে জর্জিয়াসিস্টারস একাউন্ট থেকে আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছেন এই দুই সৌদি বোন। তারা জাতিসংঘের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যেন, তাদের তৃতীয় কোন নিরাপদ দেশে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়। সৌদি আরব থেকে তারা প্রথমে জর্জিয়ায় এসেছেন, কারণ এখানে আসতে সৌদিদের ভিসা লাগে না।

ওয়াফা বলেন, আপনাদের সাহায্য দরকার, আমরা নিরাপত্তা চাই, আমরা এমন একটি দেশে যেতে চাই, যারা আমাদের গ্রহণ করবে এবং আমাদের অধিকার রক্ষা করবে। জর্জিয়া ছোট একটি দেশ এবং আমাদের পরিবারের যে কেউ এখানে আসতে পারে এবং আমাদের ধরে ফেলতে পারে। সৌদি আরবে নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছি কারণ আমরা নারী। আমাদের দেশে আমাদের পরিবার প্রতিদিন আমাদের হুমকি দিত।

বৃহস্পতিবার বিকালে তাদেরকে জর্জিয়ার অভিবাসন দপ্তরে নিয়ে কর্মকর্তারা। স্থানীয় গণমাধ্যমে দুই বোন বলেছেন যে, তারা জর্জিয়াতে নিরাপদ বোধ করছেন না। কারণ এখানে সহজেই তাদের পুরুষ আত্মীয়রা খুঁজে বের করতে পারবেন।

চরম রক্ষণশীল এই রাজতন্ত্রের দেশটি থেকে নারীদের পালিয়ে আসার সর্বশেষ উদাহরণ এই দুই বোন। দেশটিতে এখনো মেয়েদের কাজ করা বা ভ্রমণ করতে হলে পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি নিতে হয়।

এ বছরের জানুয়ারি মাসে সৌদি আরব থেকে পালিয়ে আসা ১৮ বছর বয়সী কিশোরী রাহাফ মোহাম্মদ আল-কুনান আন্তর্জাতিক খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন যখন তিনি ফেরত পাঠানো ঠেকাতে থাইল্যান্ডের একটি হোটেলে নিজেকে আটকে টুইটারে সাহায্য চান। তাকে আশ্রয় দিয়েছে কানাডা।

গত মার্চ মাসে সহিংসতা এবং দমন পীড়ন থেকে বাঁচতে সৌদি দুই বোন পালিয়ে যান এবং হংকংয়ে ছয়মাস লুকিয়ে থাকেন। পরে তারা মানবিক ভিসা পেয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা