প্রচ্ছদ খেলা বাধ্যতামূলক পোশাক না পরায় গ্রেফতার হবেন ইরানের নারী বক্সার

বাধ্যতামূলক পোশাক না পরায় গ্রেফতার হবেন ইরানের নারী বক্সার

69
বাধ্যতামূলক পোশাক না পরায় গ্রেফতার হবেন ইরানের নারী বক্সার

ফ্রান্সে একটি বক্সিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ শেষে নিজ দেশে ফিরতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ইরানি নারী বক্সার সাদাফ খাদেম। ইরানের বাধ্যতামূলক পোশাক না পরার কারণে গ্রেফতার করা হতে পারে এমন আশঙ্কায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। শনিবার এক অপেশাদার প্রতিযোগিতায় ফরাসি বক্সার এনি চৌভিনকে হারান সাদাফ খাদেম। খবর বিবিসির।

এ সপ্তাহেই তিনি তার ফরাসি-ইরানি প্রশিক্ষকের সাথে তেহরানে ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন। একটি ক্রীড়া সংবাদপত্রের খবরের সূত্রের বরাত দিয়ে সাদাফ খাদেম বলেন, তার ধারণা ভেস্ট ও শর্টস পরে বক্সিংএ অংশ নিয়ে সে ইরানের পোশাক পরার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন।

যদিও ইরান কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে অবশ্য কোনো মন্তব্য করেননি। তবে দেশে ফিরলে খাদেমকে গ্রেফতার করা হবে এ বিষয়ে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ইরান বক্সিং ফেডারেশনের প্রধান হোসেন সুরি। তিনি বলেন, “সাদাফ খাদেম ইরানের বক্সিং-এর জন্যে আয়োজিত অ্যাথলেটদের সদস্য নন, এছাড়া বক্সিং ফেডারেশনের দৃষ্টিকোণ থেকে তার সমস্ত কার্যকলাপ ব্যক্তিগত।”

শনিবারের প্রতিযোগিতায় খাদেমের পরনে ইরানের জাতীয় পতাকার রং-এর সাথে মিলিয়ে ছিল সবুজ ভেস্ট ও লাল শর্টস এবং সাদা কোমরবন্ধ। যা কিনা পুরো বিশ্বের চোখে স্বাভাবিক হলেও আমার নিজের দেশের নিয়মকে সেটি অসন্তুষ্ট করেছিল। সাদাফ খাদেম বলেন, ‘আমি কোনো হিজাব পরিনি, একজন পুরুষ আমাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে- কেউ কেউ এটি ভালো চোখে দেখেনি।”

আবার নিজ দেশের ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের সমর্থন না থাকার পরও দেশের বাইরে প্রতিযোগিতায় আসা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের ছিল ২৪ বছর বয়সী এই বক্সারের জন্য।

খাদেম আশা করেছিলেনে যখন দেশে ফিরবেন তখন বীরোচিত সম্বর্ধনা পাবেন। কিন্তু প্যারিসের শার্স দ্য গ্যল বিমান বন্দরে এসে তিনি জানান, তাদের বিরুদ্ধে গ্রফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। খাদেমের সাথে ছিলেন তার প্রশিক্ষক মাহয়ার মনসুর, যিনি ইরানে জন্মগ্রহণকারী বিশ্ব বক্সিং এসোসিয়েশন চ্যাম্পিয়ন এবং ফরাসি ক্রীড়া মন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা।

প্যারিসে ইরানের দূতাবাসের মুখপাত্র খাদেমের ইরানে না ফেরার সিদ্ধান্ত বা তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের কাছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, ইরানের আইন অনুযায়ী ৯ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো নারীকে যদি জনসম্মুখে মাথায় আবৃত কোনো কাপড় ছাড়া দেখা যায়, তবে ১০ দিন থেকে দুই মাসের জেল বা জরিমানার শাস্তি বিধান রয়েছে। দেশটির নারী খেলোয়াড়দের চুল, ঘাড়, বাহু এবং পা পুরোপুরি ঢেকে রাখার নিয়ম।