প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত দাসীর সাথে যৌনাঙ্গকে হেফাজত করতে হবে না

দাসীর সাথে যৌনাঙ্গকে হেফাজত করতে হবে না

735
দাসীর সাথে যৌনাঙ্গকে হেফাজত করতে হবে না

কায়সার আহমেদ

الْمُؤْمِنُونَ ১) নিশ্চিতভাবে সফলকাম হয়েছে মু’মিনরা। الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ ২) যারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র; وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ ৩) যারা অনর্থক কথা-বার্তায় নির্লিপ্ত, وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ ৪) যারা দান কাজে সক্রিয়; وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ ৫) নিজেদের লজ্জা-স্থানের হেফাজত করে, إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ ৬) নিজেদের স্ত্রীদের ও অধিকারভুক্ত দাসীদের ছাড়া, এদের কাছে (হেফাজত না করলে) তারা তিরস্কৃত হবে না, فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاء ذَلِكَ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْعَادُونَ ৭) কিন্তু যারা এই সীমাকে অতিক্রম করতে ইচ্ছা করে, তারা সীমালংঘনকারী! সূরাটি (আল মুমিনুল, আয়াত ১-৭)।

এই আয়াতগুলোতে আল্লাহ্পাক একজন প্রকৃত মুমিনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট কি হবে, বর্ণনা করেছেন। সবই ঠিকাছে, শুধুমাত্র ৫-৬ নম্বর আয়াতে কি বলা হয়েছে, এটি নিয়েই মূল প্রশ্ন। এই আয়াত দুটিতে আল্লাহ একজন সহীহ মুমিনকে তার যৌনাঙ্গকে বিবি এবং দাসীর সামনে ‘হেফাজত’ না করার কথা বলেছেন।

বিবির সাথে যৌনাঙ্গ হেফাজত না করার কথা বুঝলাম, কিন্তু দাসীর সাথে যৌনাঙ্গকে হেফাজত করতে হবে না কেন? অর্থাৎ কোরানে আল্লাহ্পাক পরিষ্কারভাবে দাসীর সাথে বিবাহ বহির্ভুত যৌনতাকে বৈধ করেছেন। জুকার নায়েকের ত্যানবাজ মূর্খ মুরিদরা সাধারণত এই আয়াতের ক্ষেত্রে যুক্তি দিয়ে থাকেন যে, এটি চৌদ্দশ’ বছর পূর্বের জন্য প্রযোজ্য আয়াত ছিল।

সমস্যা হলো, পুরো কোরান শরীফ, এমনকি “সহীহ সিত্তাহ”র ছয়খানা শ্রেষ্ঠ হাদিস গ্রন্থ ঘেটেও এরকম কোনো রহিত আয়াত বা হাদিসের বাণী নেই। যেখানে বলা হয়েছে, দাসপ্রথা একদিন উঠে যাবে এবং সেদিন থেকে দাসীর সাথে যৌনতা ‘নিষিদ্ধ’ হবে।

আজ পৃথিবীতে দাসপ্রথা নেই। তাই দাসীও নেই, যাদের সাথে মুমিনরা কোরানের এই আয়াত চর্চা করবেন। তার অর্থ এই নয় যে, কোরানে আল্লাহ দাসীর সাথে যৌনতাকে এইযুগের জন্য ‘নিষিদ্ধ’ করেছেন। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, যেকোনো অলৌকিক কারণে যদি তেঁতুল হুজুরের দল কোনদিন ক্ষমতায় চলে আসে, তখন এরা খাঁটি শরিয়া আইন চালু করতে চাইবে। দাসপ্রথা আবার চলে আসবে। অথবা বেতনভোগী গৃহকর্মীদের ‘দাসী’ হিসাবে মূল্যায়িত করে ওদের সাথে যৌনতাকে ‘হালাল’ করে দেবে।

যেরকম আজ সৌদিতে হচ্ছে, যেমন পিতা-পুত্র মিলে সূরা আলমুমিনুনকে মহব্বতের সাথেই চর্চা করছে দাসীর সাথে। আমার পরিচিত এক কট্টর ‘ধার্মিক’ হাজি সাহেবকে জানি। তিনার আলহাজ্ব যুবক পুত্র পর পর দুইবার দেশে গিয়ে ঘরের কাজের মেয়েকে প্র্যাগনেন্ট করেছে। তিনি টাকা পয়সা খরচ করে সেই গরিব মেয়ের গর্ভপাত করিয়েছেন, কিন্তু পুত্রের বিরুদ্ধে কোনো কঠিন শাস্তির পদক্ষেপ নেননি।

তার বক্তব্য ছিল, “এটি পুত্রের বয়সের দোষ! তাছাড়া দাসীর সাথে যৌনতা কোনো পাপ নয়!” আমি হাজি সাহেবের নিজের মুখে ওই কথা শুনেছিলাম অনেক বছর পূর্বে। অবশ্য তখন কোরানের সূরা আলমুমিনুনের এই আয়াতটির কথা জানতাম না বলে লোকটিকে ‘শয়তান’ ভেবেছিলাম।

এখন বুঝতে পারছি, তিনি শয়তান নয়, তিনি ছিলেন উক্ত আয়াতের অনুসারী একজন ‘মুমিন’। হাজি সাহেব তিন বছর পূর্বে মারা গেছেন। আল্লাহ্পাক তিনাকে বেহেস্ত নসিব করুন।…