প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত প্রতিদ্বন্দ্বিকে ঘায়েল করতে ধর্ম অবমাননার অস্ত্র ছাত্রলীগের?

প্রতিদ্বন্দ্বিকে ঘায়েল করতে ধর্ম অবমাননার অস্ত্র ছাত্রলীগের?

132
প্রতিদ্বন্দ্বিকে ঘায়েল করতে ধর্ম অবমাননার অস্ত্র ছাত্রলীগের?

সুষুপ্ত পাঠক

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরহাদ হোসেন নামের একজন ছাত্রকে ইসলাম ধর্ম ও হযরত মুহাম্মদকে কটুক্তি করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রকৃত সত্য হচ্ছে, সে ইসলাম নিয়ে কোন কটুক্তি করেনি। হযরত মুহাম্মদকে কোন গালাগালি করেনি। সে কেবল প্রশ্ন করেছে, হযরত মুহাম্মদ যে কুরাইশ বংশে জন্ম নিয়েছিলেন সেই কুরাইশদের ধর্মানুভূতিতে তিনি আঘাত করেছিলেন, তিনি ইহুদী খ্রিস্টানদের ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে যে কটুক্তি করেছিলেন তার বিচার কে করবে? এটা বলাতে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ফরহাদ নিজে যে দলটি করত ছাত্রলীগ, সেই দলের নেতারাই পুলিশকে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে বলে। ছাত্রলীগ এখন প্রতিযোগিতা করে অন্যান্য ইসলামিক ছাত্র সংগঠনগুলো সঙ্গে। ষাটের দশকের ছাত্রলীগ ছিলো প্রগতি ঘেষা সংগঠন। এখন তারা প্রবলভাবে ইসলামিক মাইন্ডের ছাত্র সংগঠন।

ফরহাদ যে প্রশ্ন তুলেছেন সেটারও একটা প্রেক্ষিত আছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তুলে লোকজনকে আইসিটি আইনে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন বেশি ফাঁসছে। ভেতরের খবর হচ্ছে হিন্দুদের ফেইসবুক আইডি ক্লোন করে ইসলামিক লোকজনই নবীকে সেই আইডিতে গালাগালি করে হিন্দুদের আইসিটি আইনে ফাঁসাচ্ছে।

আইসিটি আইনটি হচ্ছে বাংলাদেশের ব্লাসফেমি আইন। পাকিস্তানে ইসলাম অবমানরার জন্য ব্লাসফেমি আইন আছে। কিন্তু আমাদের একটু ইয়ে আছে বলে সরাসরি ব্লাসফেমি আইনে যাইনি। আমাদের একটুখানি বৈশাখ, একটু খানি রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে বেশি করে ইসলাম মাখিয়ে খেতে হয়। যে কারণে তাহাজ্জুতও পড়ি আবার জেলায় জেলায় মঙ্গলশোভাযাত্রাও করি। এ কারণেই আইসিটি আইনে কথিত নবী অবমানরার অভিযোগেই লোকজনকে ধরা হয়।

অথচ রাজ্জাক মোল্লা- আমি পহেলা বৈশাখের মুখে লাত্থি মারি, বিজয় দিবসের মুখে লাত্থি মারি, শহীদ মিনারে লাত্থি মারি’ বলেও কি সুন্দর বহাল তবিয়তে আছে! এরকম শত শত মুফতি মাওলানা বৈশাখের আগে সীমাহীনভাবে বৈশাখকে কেন্দ্র করে হিন্দুদের, রবীন্দ্রনাথকে অবিরাম গালাগালি করে গেছে। আহমদ শফী বৈশাখকে হিন্দুদের উৎসব বলে এটা মুসলমানদের বয়কটের আহ্ববান জানিয়েও তিনি সরকারী প্রটোকলে হেলিকপ্টারে দেশ ঘুরে বেড়ায়। আইসিটি আইন ওরফে ব্লাসফেমি আইনটি দিয়ে মূলত ভিণ্নমত পোষণকারীদের হয়রানী করার জন্য তৈরি হয়েছে। শুরুতে হিন্দুদের হয়রানী করা হলেও অচিরে মুসলিমদের মধ্যেও নানারকম ইসলামি মতামত নিয়ে বিভক্তরা ফাঁসবে। কাজেই যারা এখন দাঁত কেলিয়ে হাসছে তাদের হাসি অচিরেই থেমে যাবে।

ফরহাদ হোসেন যা প্রশ্নগুলো করেছেন সেগুলো উচিত আদালতের বিবেচনায় আসা। ধর্মানুভূতিতে আঘাতে ব্যাখ্যা আসা উচিত। হযরত মুহাম্মদ এবং কুরআনে ইহুদী খ্রিস্টান ও পৌত্তলিকদের নিয়ে অকপটে যেসব মন্তব্য করেছে, সেগুলো শুনলে কোন ইহুদী খ্রিস্টান পৌত্তলিক (হিন্দু-বৌদ্ধ) খুশি হবার কথা নয়।

তাহলে সবার আগে কি ইসলাম অন্যের ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করে অন্যের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করেনি? আমরা জানি বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মত আদালত থেকে এরকম যৌক্তিক কোন রায় আসতে পারে না। তাই কোন আশাবাদই করা গেলো না…।