প্রচ্ছদ অর্থ-বাণিজ্য খালেদা জিয়ার হাজার কোটি টাকা উধাও!

খালেদা জিয়ার হাজার কোটি টাকা উধাও!

1177
খালেদা জিয়ার হাজার কোটি টাকা উধাও!

প্রচন্ড অর্থকষ্টে ভুগছেন বেগম খালেদা জিয়া। তার বাড়ী ভাড়া বাকী পড়েছে ৮ মাসের। বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত স্টাফদের বেতনও হচ্ছে না ৯ মাস।

অথচ বেগম জিয়ার বিত্তের অভাব ছিলো না। নামে বেনামে তার হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে বলেই তার ঘনিষ্টরা জানিয়েছেন। বেগম জিয়ার ঘনিষ্টরা জানিয়েছেন, বেগম জিয়ার অধিকাংশ সম্পদই বেনামে। যাদের কাছে তিনি অর্থ সম্পদ গচ্ছিত রেখে ছিলেন, তারা এখন এগিয়ে আসছেন না। অনেকে বলেন, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে যে, তারা টাকা বের করতে পারছেন না।

এক অনুসন্ধানে বেগম জিয়া যাদের কাছে তার অর্থকড়ি রেখেছিলেন তাদের কয়েকজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো;

মোসাদ্দেক আলী ফালু: রাজনীতিতে আমার পর বেগম জিয়া যে অর্থকড়ি বিভিন্ন সূত্র থেকে পেয়েছিলেন, প্রথম দিকে তার পুরোটাই ফালুর কাছে রাখা হতো। এখন থেকেই বেগম জিয়ার যাবতীয় খরচ নির্বাহ করতেন ফালুই। এই টাকা দিয়েই ফালু নানা রকম ব্যবসা শুরু করেন। বেগম জিয়ার পরামর্শেই ফালুর ব্যবসায়িক পার্টনার হন তার প্রয়াত ছেলে আরাফাত রহমান কোকো। বিএনপিতে অনেকেই বলেন, ফালুর যা সম্পদ এগুলো আসলে বেগম জিয়ার।

ফালু শুধুমাত্র কেয়ার টেকার। যতোদিন ফালু দেশে ছিলেন, ততোদিন বেগম জিয়ার অধিকাংশ খরচ ফালুই বহন করতো বলে জানা যায়। এখন ফালু দুর্নীতি দমন কমিশনের নিবিড় পর্যবেক্ষনে আছেন। একারণে নিজেই দুবাইতে ঠিকানা করেছেন। আর টাকা পয়সাও দিতে পারছেন না কারাবন্দী বেগম জিয়াকে।

হারিছ চৌধুরী: ২০০১ সালে বিএনপি জামাত জোট ক্ষমতায় আসার পর পাদপ্রদীপে আসেন হারিছ চৌধুরী। হারিফ চৌধুরী ছিলেন তারেক এবং বেগম জিয়ার সেতুবন্ধন। ঘুষের টাকা দেয়া হতো হারিছ চৌধুরীকে। আর তৃতীয় ভাগ পেতেন বেগম জিয়া। বেগম জিয়ার এই টাকা হারিছ চৌধুরী বিভিন্ন বিলাস বহুল সামগ্রী যেমন মেকআপ, পারফিউম ইত্যাদি কাজে খরচ করতেন। কিন্তু ওয়ান ইলেভেনের পর এসব টাকা সহ লাপাত্তা হারিছ চৌধুরী। বিপুল পরিমান টাকা হারিছ চৌধুরী আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে বিএনপিতে।

সাইদ ইস্কান্দার: বেগম জিয়ার ভাই প্রয়াত সাইদ ইস্কান্দার। সাইদ ইস্কান্দারের কাছে বেগম জিয়ার বেশ কিছু টাকা ছিলো বলে জানা যায়। এই টাকা গুলো বেগম জিয়া আপৎকালীন সময়ে ব্যবহারের জন্য রেখেছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু সাইদ ইস্কান্দারের মৃত্যুর পর তার পরিবার জানিয়েছে এ টাকা সম্পর্কে তারা কিছুই জানে না।

এরা ছাড়াও বেগম জিয়ার অবৈধ সম্পদের একটি বড় অংশ ছিলো তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর কাছে। কোকোর মৃত্যুর পর সে টাকা দিয়ে কোকোর দুই ছেলে এবং নিজের ভরন পোষণ করছেন তার স্ত্রী শর্মিলা রহমান। এছাড়াও বেগম জিয়ার ভাগ্নে তুহিনসহ আরো দু’একজনের কাছে বেগম জিয়ার অর্থ গচ্ছিত ছিলো। যা এখন কেউই দিচ্ছেন না। শত কোটি টাকা থাকার পরও একারণেই অর্থ সংকটে ভুগছেন বেগম জিয়া।