প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত ব্লগারদের হত্যাকারীরা মাদ্রাসা ছাত্র-ছাত্রীদের ধর্ষণ ও হত্যা করছে

ব্লগারদের হত্যাকারীরা মাদ্রাসা ছাত্র-ছাত্রীদের ধর্ষণ ও হত্যা করছে

78
ব্লগারদের হত্যাকারীরা মাদ্রাসা ছাত্র-ছাত্রীদের ধর্ষণ ও হত্যা করছে

সুষুপ্ত পাঠক

নুসরাত তার খাতায় যে চিঠি লিখেছে সেখানে একটা কথা উল্লেখ করেছে, সে এসব নিয়ে লড়ছে কারণ আর যেন কারোর উপর এরকম যৌন নিপীড়নটা না হয়। অর্থ্যাৎ অপরাধীর শাস্তি হলে মানুষ শিক্ষা নিবে যে এরকম করলে আইন তাকে ছাড়বে না…।

নুসরাত হচ্ছে অর্ধফোটা একটা ফুল যে অকালে ঝরে গেছে। তাই এদেশের আইন কানুন ও বাস্তবতা সম্পর্কে তার কোন ধারণাই ছিলো না। এদেশে সংসদে দাঁড়িয়ে একটা গুন্ডা মাফিয়া সন্ত্রাসীর পরিবারের পক্ষে থাকার ঘোষণা এসেছে দম্ভভরে। নুসরাতের চেয়ে বয়েসে অনেক ছোট একটা বাচ্চা ত্বকিকে পিটিয়ে, থেতলিয়ে মেরে নদীতে ডুবিয়ে দিয়েছিলো যে পরিবারের লোকজন তাদের নাকি বিশেষ চেতনার উপর ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে তাই সাত খুন মাফ!

নুসরাত জানেন না, এদেশের থানা পুলিশ নচেনচে প্রধানমন্ত্রী যখন বিশেষভাবে সেই ঘটনাগুলোতে মন্তব্য করেন। নুসরাতের ঘটনা প্রধামন্ত্রীর নজরে এসেছে, তিনি বলেছেন কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তাতে থানার বদমাশ ওসি নড়ে গেছে। নুসরাতকে সিঙ্গাপুরে নেয়ার কথাই বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু রাষ্ট্রের কিছু টাকা সাশ্রয় করে দিয়ে নুসরাত তার আগেই নিভে গেলো। এখন বাকী আছে তার আশাবাদ। কি হবে নুসরাতের হোতাদের?

এখন আমরা জানি সুররাতকে যে হুজুর যৌন হয়রানী করেছিলো তার গডফাদার হচ্ছে পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও কাউন্সিলর মুকছুদ আলম। বাংলাদেশের মাদ্রাসা মসজিদগুলিতে এখন আওয়ামী লীগের লোকজন সম্পৃক্ত। বাংলাদেশে আলাদা করে যে ইসলামিক দলগুলো আছে তাদের সঙ্গে এখন আওয়ামী লীগের মূল প্রতিযোগিতা- কারা বেশি ইসলামিক। এই প্রতিযোগীতায় তাদের বন্ধু এইসব মাদ্রাসার হুজুররা। তাদের ধরে বিচার করলে বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যাবে।

তনু হত্যার বিচার করলে বিশেষ বাহিনী গোস্বা করবে। অমুকের বিচার করলে ব্যবসায়ীরা বেঁকে বসবে। তমুকের জেল হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে… এখানে তাই সবচেয়ে ভালো আইনের প্রয়োগ হতে পারে রিকশাঅলাদের উপর। বেলাইনে গেলেই ট্রাফিকের বাড়ি! নইলে সবারই একটা লেবেল আছে আর বিচার হবে লেবেল দেখে।

নুসরাত কেন, ভবিষ্যতের নামগুলো এখনি জেনে যাক, তাদের কিছু হলে এই রাষ্ট্র তার বিচার করতে সক্ষম হবে না। একদিন আমাদের সহব্লগারদের হত্যার বিচার যখন দাবী করছিলো, তখন দেশবাসী সমর্থন তো জানায়নি- উল্টো যেমন কর্ম তেমন ফল’ বলে বিদ্রুপ করেছিলো। নাস্তিক কতলের দাবী যারা করেছিলো, তাদের হাতেই স্বজন হারানোরা কি এবার বুঝবে- বিচারহীনতার কষ্ট কতটা?

………………………………………………………………………………………

মুক্ত মতামত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত ও মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। shompadak.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে shompadak.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।