প্রচ্ছদ রাজনীতি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে বিরোধ বাড়ছে বিএনপিতে

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে বিরোধ বাড়ছে বিএনপিতে

136
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে বিরোধ বাড়ছে বিএনপিতে

যতই দিন যাচ্ছে ততই ঐক্যফ্রন্ট প্রশ্নে বিএনপিতে মতবিরোধ চরম আকার ধারণ করছে। বিএনপিতে এখন একটা ক্ষুদ্র অংশই ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে ঐক্য রাখার পক্ষে।

অন্যদিকে একটি বৃহত্তর অংশ মনে করছে যে, ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে এই ঐক্যে বিএনপির ক্ষতি হচ্ছে এবং এতে বিএনপির আদর্শ ও চিন্তা চেতনা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে থাকার কারণে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে শুধু নয়, আদর্শিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দুয়েকজন নেতা ছাড়া কেউই ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে এখন গাটছাড়া বাধার পক্ষপাতি নন।

জানা গেছে, বিএনপি গত ৩১ মার্চ যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্বাধীনতা দিবস অনুষ্ঠান পণ্ড করার জন্য বিএনপির যুগ্ন সাধারন সম্পাদক রুহুল কবির রিজভী লোক পাঠিয়েছিলেন। তিনি ছাত্রদল এবং যুবদলের ছেলেদের ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক ইত্যাদি স্লোগান দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই অভিযোগ নিয়ে রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় দুজনার।

রিজভী তাকে বলেন, আপনি ড. কামাল হোসেনের দালালি করতে পানে। আমি করি না। আমি জিয়াউর রহমানের রজনীতি করি, খালেদা জিয়ার রাজনীতি করি। ড. কামাল হোসেন খালেদা জিয়ার নাম উচ্চারণ করেন না। জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে স্বীকার করেন না। তার সঙ্গে ঐক্য আপনি করতে পারেন, আমি করতে পারি না।’ তবে তিনি ছাত্রদল এবং যুবদলের কর্মীদের পাঠানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। রুহুল কবির রিজভী ছাত্রদল যুবদলের ক্যাডারদের লেলিয়ে না দিলেও অনেক নেতা আছেন যারা এখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রকাশ্যে সমলোচনা করছেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমলোচকদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট দিয়ে আর যাই হোক আন্দোলন হবে না। দেশে গণতন্ত্র আসবে না। ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে লাভবান হয়েছে দুইজন। তারা হলেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এবং মোকাব্বির খান। যাদের ভোটে জামানত থাকতো না। তারা ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়ে এমপি হয়ে গেছেন। এটা বিএনপি কেন করছে আমার জানা নেই। এই ব্যাপারে আপনি বিএনপির নেতৃবৃন্দকে জিজ্ঞাস করেন।’

অন্যদিকে বিএনপির আরেক সিনিয়র নেতা মেজর (অব.) হাফিজউদ্দীন বলেছেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে এই ঐক্য বিএনপির আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই ঐক্যে বিএনপির কোন লাভ হচ্ছে না। বিএনপির কোন ভাড়া করা লোক দরকার নেই। বিএনপি কেন এই ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আছে এটা আমার বোধগম্য নয়।’ তিনি ঐক্যফ্রন্ট ভেঙ্গে দেওয়ার ব্যাপারে দলীয় ফোরামে বলবেন কিনা, এরকম প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘দলীয় ফোরামে বারবারই আমি এরকম কথাবার্তা বলছি। আমি মনে করিনা ঐক্যফ্রন্ট বিএনপির জন্য কোন ইতিবাচক ফল বয়ে নিয়ে আনবে।’

তবে মেজর হাফিজ শুধু একা নন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির অধিকাংশ সদস্যই ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে এই ঐক্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তারা দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপর এ ব্যাপারে চাপ সৃষ্টি করেছেন। যদিও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশেই এই ঐক্যফ্রন্ট তিনি অটুট রেখেছেন এবং বেগম খালেদা জিয়া সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এক্ষেত্রে ঐক্যফ্রন্ট বিরোধীদের বক্তব্য হচ্ছে যে, ঐক্যফ্রন্ট যদি থাকে তাহলে সেখানে নেতৃত্ব নিতে হবে বিএনপিকে। সেখানে জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার নাম নিতে হবে। জিয়া বা বেগম খালেদার নাম না নিয়ে যদি কোন ঐক্য হয়, সেটা হবে আত্মঘাতি। তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন যে, দলের বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে বিএনপি যেহেতু বড়দল তাই কিছু ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। বিএনপি সেই ত্যাগ স্বীকারই করছে।

তিনি বলেন যে, এখন ছোট ছোট বিষয় নিয়ে মতবিভেদ করার সময় নয়। এখন সময় হলো সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ যে সরকার একদলীয় শাষন ব্যবস্থা কায়েম করেছে তাকে হটানোর জন্য সকল রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। কিন্তু সকল রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে গিয়ে বিএনপি যে ঐক্যফ্রন্ট প্রশ্নে ভাঙ্গনের মুখোমুখি দাড়িয়ে গেছে, এটা রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সহজেই বুঝতে পারছেন। বিএনপির সিনিয়র ঐক্যফ্রন্ট বিরোধী নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে সভা বা সমাবেশ ডাকা হলে সেখানে বিএনপির কেউ যোগ দিবেন না। এই পরিস্থিতিতে ঐক্যফ্রন্টের ভবিষ্যৎ কী হবে তা সময়ই বলে দিবে।