প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় ডিএনসিসি মার্কেটে বারবার আগুন লাগার নেপথ্যে

ডিএনসিসি মার্কেটে বারবার আগুন লাগার নেপথ্যে

468
ডিএনসিসি মার্কেটে বারবার আগুন লাগার নেপথ্যে

গুলশান-১ এর ডিএনসিসি মার্কেটে বারবার আগুন লাগার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে বলে গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত করেছে। ডিএনসিসি মার্কেটের স্থানে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্যই বারবার আগুন লাগানো হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, ২০০৫ সালে তৎকালীন অখণ্ড ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকা ডিসিসি মার্কেটের স্থানে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য ডেভেলপার কোম্পানি ইউনাইটেড গ্রুপের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সিটি কর্পোরেশন মাত্র ২৮ শতাংশের মালিকানা পাবে। আর বাকি ৭২ শতাংশের মালিকানা থাকবে ডেভেলপার কোম্পানির হাতে।

চুক্তির শর্তের মধ্যে আছে যে, মার্কেটের কমন স্পেসগুলো ২৮ শতাংশের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে। ওই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর তৎকালীন প্রধান বিরোধীদল আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল এবং মার্কেটের কাচাবাজারের মালিক সমিতি এর প্রতিবাদ করেন। এরপর এই চুক্তির বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়। কিন্তু এরপর বহু বছর পেরিয়ে গেলেও ওই অসম চুক্তি বাতিল করার কোনো উদ্যোগ বর্তমান সরকারও গ্রহণ করেনি। বরং আনিসুল হক ঢাকা উত্তরের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ডেভেলপাররা তার সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ শুরু করে। তখন তিনি সংশোধিত আকারে এই চুক্তিটি নতুন করে করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

এরপরই ২০১৭ সালে ডিএনসিসি মার্কেটে প্রথম অগিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেসময় মেয়র আনিসুল হক বলেছিলেন যে, এখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। পরে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এবং ওই মার্কেটের কাঁচাবাজার মালিক সমিতির আন্দোলনের হুমকির মুখে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ স্থগিত করা হয়। কিন্তু মেয়র আতিকুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর আবারও নতুন করে বহুতল ভবন নির্মাণের ফাইল নড়াচড়া হয়েছিল বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এরপরই গতকাল শনিবার ডিএনসিসি মার্কেটে আবারও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বহুতল ভবন নির্মাণের সঙ্গে এই অগ্নিকাণ্ডের সম্পর্ক রয়েছে বলে মার্কেটের কাঁচাবাজার দোকান মালিকরা সন্দেহ পোষণ করছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, নির্দিষ্ট ডেভেলপার কোম্পানিকে লাভ পাইয়ে দেয়ার জন্য সাদেক হোসেন খোকার যে অসম এবং অযৌক্তিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেটা এখনো বাতিল হচ্ছে না কেন?