প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

1637
সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

একের পর এক আগুন লাগার ঘটনা থেকে সুযোগসন্ধানীরা সুযোগ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সরকার। এজন্য সরকার সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করছে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা চোখ কান খোলা রাখার জন্য সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

গতকাল সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গণভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। আলোচনায় উঠে এসেছে, সড়ক দুর্ঘটনা ও অগ্নি দুর্ঘটনাগুলোকে কাজে লাগাতে পারে সরকারবিরোধী সুযোগসন্ধানীরা। এটা থেকে তারা জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতে পারে বা অন্য রকম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এজন্য আওয়ামী লীগকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের বাইরেও আওয়ামী লীগ যেন এ ঘটনাগুলোর ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, এই ঘটনাগুলো যেন কেউ অন্যখাতে প্রবাহিত করতে না পারে। কেউ যেন ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে না পারে সেজন্য আওয়ামী লীগকেও সচেতন থাকতে হবে। এরকম একটি দুটি ঘটনায় কেউ কেউ উৎসাহী হতে পারে। কেউ কেউ মনে করতে পারে, সরকারকে বেকায়দায় ফেলার এটা একটি সহজ উপায়। এজন্য স্বার্থান্বেষী মহল নিজেরাই এরকম ঘটনা ঘটাতে পারে। এজন্য সতর্ক থাকতে হবে। এরকম ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এছাড়াও এই ঘটনাগুলোর প্রশাসনের যে দায়-দায়িত্ব আছে সেটাও প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেছেন। বিশেষ করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনোনুমদিত স্থাপনার বিষয়ে রাজউকের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থান নেবেন বলে জানা গেছে। তিনি খুব শিগগিরই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা মনে করছে, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর বিরোধী দলের অস্তিত্ব প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। সরকারকে তারা কোন ক্ষেত্রেই মোকাবিলা করতে না পেরে আগুন ও সড়ক দুর্ঘটনার মতো ঘটনাগুলোকে অন্যখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করতে পারে। এখান থেকে জনগণকে উসকে দিতে পারে।

একাধিক গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, বারবার অগ্নিকাণ্ড ও সড়কে নির্বিচারে প্রাণহানির ঘটনায় সাধারণ জনগণের মধ্যেও অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। এই অসন্তোষ ও ক্ষোভ যেন বেশিদূর না যায় সেজন্য সরকারকে ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দেয়া হয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে।

সরকারের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, সরকার চাইছে দুটি বিষয় যেন সরকার খুব শিগগিরই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে সে ব্যাপারে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। (১) সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। সড়কে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। এটার ফলে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। এটা বিরোধী দলের জন্য কোন সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে। (২) একের পর এক অগ্নি দুর্ঘটনার ঘটনাও জনমনে অসন্তোষ তৈরি করতে পারে। তাছাড়া সামনের রমজানকে কেন্দ্র করেও কিছু কিছু ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, এ বিষয়গুলো থেকে কেউ যেন সুযোগ নিতে পারে সেজন্য এখন থেকেই সতর্ক থাকা ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।