প্রচ্ছদ রাজনীতি কী আছে তারেকের মনে: ‘প্রস্তুতি নিন, কিছু একটা ঘটছে’

কী আছে তারেকের মনে: ‘প্রস্তুতি নিন, কিছু একটা ঘটছে’

2996
কী আছে তারেকের মনে: ‘প্রস্তুতি নিন, কিছু একটা ঘটছে’

হঠাৎ করেই তৎপর হয়েছেন তারেক জিয়া। আজ দুপুর থেকেই তিনি বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্কাইপে কথা বলছেন। তিনি বলছেন, ‘কিছু একটা ঘটছে, সচেতন থাকেন।’ কর্মীদের তিনি ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলেছেন। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি নির্দেশ দিলেই বেরিয়ে পড়বেন।’

হঠাৎ করে তারেক জিয়ার এই নির্দেশনায় নেতাকর্মীরা বিস্মিত হয়ে পড়েছেন। কিসের ভিত্তিতে এ কথা বলছেন সেটা অবশ্য তিনি বলেননি। তবে ঢাকার অভিজাত এলাকা বনানী ও গুলশানে দু’দফা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ও সড়কে একের পর এক ‍দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে এ রকম নির্দেশনা তারেক জিয়া দিয়েছেন বলে দলের একাধিক সিনিয়র নেতা বলেছেন। সিনিয়র নেতারা বলেছেন, তারেক জিয়ার অপরিপক্ক রাজনীতির শিকার বিএনপি বারবার হয়েছে। এর আগেও তারেক জিয়া দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা রকম গুজব ছড়িয়েছেন। কিছু একটা ঘটবে বলে উদ্বুদ্ধ করেছেন। কিন্তু কিছুই হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেছেন, তারেক জিয়া দীর্ঘ ১২ বছর দেশে নেই। কাজেই দেশের রাজনীতির ধারা যে পরিবর্তন হয়েছে, ছোট একটা ঘটনায় যে ওলটপালট কিছু ঘটে না সে সম্পর্কে তার কোন ধারনা নেই। বাংলাদেশ কীভাবে চলছে সে সম্পর্কেও তার কোন বাস্তব জ্ঞান নেই। যার ফলে একটা দুর্ঘটনা ঘটলেও তিনি মনে করছেন বাংলাদেশের কিছু একটা ঘটবে। এর আগেও হেফাজতের ঘটনার সময় এবং আরও দুএকটা ঘটনার সময় তারেক জিয়া বলেছিলেন, সরকারের পতন ঘটবে, খুব শিগগিরই কিছু একটা ঘটবে। কিন্তু বাস্তবে এমসন কিছু ঘটে নি।

বিএনপি নেতারা মনে করছেন, সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের অসন্তোষ থাকলেও এরকম একটা দুইটা আগুন লাগার ঘটনায় এমন কিছুই হবে না, যাতে সরকারের পতন হয় বা সরকার বিপদাপন্ন হয়ে পড়ে। তারেক জিয়ার এই ডাক নেতাকর্মীদের আরেক দফা হতাশার মধ্যেই ঠেলে দেবে বলে তারা মনে করছেন।

তবে কট্টর তারেকপন্থীরা মনে করছে যে, আগুন লাগার ঘটনাটি যদি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা যায় এবং আরও কিছু যায়গায় যদি আগুন লাগে তাহলে পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নিলেও নিতে পারে। বিশেষ করে আগুন লাগা ও সড়ক দুর্ঘটনা, দুটি ঘটনা যদি ধারাবাহিকভাবে ঘটতে থাকে তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতি টাল-মাটাল হতে সময় লাগবে না।

একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা মনে করছে, পরপর কয়েক জায়গায় আগুন লাগার পর এখন হয়তো একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র দেশকে একটি অরাজক ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও নাশকতামূলকভাবে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটাতে পারে। এরকম ঘটনা একের পর এক ঘটলে সরকারের উপর যে একটা চাপ বাড়বে সেটা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও মনে করছে।

কিন্তু এরকম আগুন লাগানো বা নাশকতা করার মতো শক্তি বা সামর্থ্য বিএনপির আছে কি না সেটা নিয়েও অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। তবে একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন, বিএনপির এ ধরনের ক্ষমতা না থাকলেও জামায়াতের এ ধরনের ক্ষমতা আছে এবং জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সখ্যতা আগের মতোই অটুট রয়েছে। যদিও জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলো, তারা ২০ দলীয় জোট থেকে আলাদা হবে। বিএনপির পক্ষ থেকেও বলা হয়েছিলো, তারা জামায়াতের সঙ্গে থাকতে চায় না।

কিন্তু অতীত ইতিহাসে দেখা গেছে, এ ধরনের ঘটনায় সবসময় বিএনপি জামায়াতের একটা ঐক্য গড়ে ওঠে। এই প্রেক্ষিতে অনেক রাজনীতি বিশ্লেষক ২০১৪ ও ২০১৫ সালের আগুন সন্ত্রাসের সঙ্গে তুলনা করছেন। সেসময় পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন জায়গায় নাশকতার ঘটনা ঘটানো হয়েছিলো।

তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন যে, ২০১৪ বা ২০১৫’র বাস্তবতা এখন নেই। এখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনেক সজাগ ও সচেতন। এরকম পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে তারা এটাও মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিতে একটি মহল অবশ্যই তৎপরতা চালাবে। তারা আরও কিছু ঘটনা ঘটিয়ে দেশে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করবে, যেটা সরকারের জন্য বিব্রতকর হয়। যদিও এ ব্যাপারে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অত্যন্ত সজাগ ও সচেতন রয়েছে বলে তারা মনে করেন। এরকম কোন ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হলেও তা প্রতিহত করার মতো শক্তি-সামর্থ দেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর আছে।

তারেকের এই নির্দেশনা কিছুটা হলেও বিএনপিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে। তবে তারেকবিদ্বেষী দলের সিনিয়র নেতারা মনে করছেন, বিএনপিকে আরেকটি বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে দিচ্ছেন তারেক জিয়া।