প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য বাকশাল কি এবং কেনো, বাকশালের সত্য-মিথ্যা

বাকশাল কি এবং কেনো, বাকশালের সত্য-মিথ্যা

140
বাকশাল কি এবং কেনো, বাকশালের সত্য-মিথ্যা

আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাম্প্রতিক বক্তৃতাগুলোতে বাকশাল নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। দীর্ঘদিন পর বাকশাল নিয়ে নীরবতা ভাঙ্গলেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগকে যে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা করা হয় তার একটি বিষয় হলো এই বাকশাল।

বলা হয়, বাকশালের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন। ভিন্ন মতালম্বীদের অধিকার খর্ব করা হয়েছিল এই বাকশাল গঠনের মাধ্যমে এমন কথাও তোলে একটি মহল। আওয়ামী লীগ কৌশলগত কারণে বাকশাল নিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করেনি। এবার বাকশাল নিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনে নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বাকশাল নিয়ে অনেক মিথ্যে, মিথ কিংবা গুজব ছড়ানো হয়েছে। অনেক অসত্য বলা হয়েছে। সত্য মিথ্যে যাচাই করার আগে দেখতে হবে বাকশালের উদ্দেশ্য কি ছিল? আমরা বাংলাদেশে আওয়ামী কৃষকলীগের গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা করলে দেখি যে বাকশাল গঠন করা হয়েছিল ১৮টি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে। সেগুলো হলো:

১. বাঙ্গালী জাতির ঐক্য ও সংহতি বিধান। ২. নর-নারী ও ধর্ম বর্ণ- সম্প্রদায় নির্বিশেষে মোলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান।

৩. মানব সত্তার মর্যাদা ও মূল্যের স্বীকৃতি। ৪. মানুষের স্বাভাবিক জীবন বিকাশের পরিপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি। ৫. ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।

৬. সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িকতা বিলোপ সাধন। ৭. কৃষক ও শ্রমিকসহ মেহনতি ও অনগ্রসর জনগণের উপর শোষণ অবসানের জন্য পূর্ণ অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিকতার স্বাধীনতা।

৮. ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শোষণমুক্ত ও সুষম সাম্যভিত্তিক এক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। ৯. সর্বাঙ্গীন গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি-ব্যবস্থার আমূল সংস্কার ও ক্রমিক যান্ত্রিকরণ এবং সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদ পদ্ধতির প্রচলন।

১০. কৃষি ও শিল্পের প্রসার এবং উৎপাদন বৃদ্ধি। ১১. উৎপাদন ও বণ্টন নিয়ন্ত্রণে কৃষক-শ্রমিকের অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান। ১২. মানুষের সাধারণ জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন।

১৩. বেকারত্ত দূরীকরণ ও অধিকতর কর্মসংস্থান বিপ্লবোত্তর সমাজের প্রয়োজনের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ গণমুখী সার্বজনীন সুলভ গঠনাত্মক শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন।

১৪. অন্ন- বস্ত্র-আশ্রয়-স্বাস্থ্যরক্ষাসহ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ধারণের মৌলিক সমস্যাবলীর সমাধান। ১৫. স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বয়ম্ভর অর্থনীতির সূদৃঢ় ভিত্তি রচনা।

১৬. ব্যক্তিগত সম্পত্তির সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ। ১৭. বিচার-ব্যবস্থার কালোপযোগী জনকল্যানকর পরিবর্তন সাধন। ১৮. গণজীবনের সর্বস্তর থেকে দুর্নীতির মূলোচ্ছেদ করা।

যেকোন একটি রাষ্ট্রের জন্য আরাধ্য হলো এই লক্ষ্যগুলো অর্জন করা। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্যই যদি বাকশাল গঠন করা হয়, তাহলে বাকশাল নিয়ে সমালোচনা কেন? স্রেফ জাতির পিতাকে অসম্মান করার জন্য? আওয়ামী লীগকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যই কি বাকশাল নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এমন মিথ্যাচার করা হয়েছিল?