প্রচ্ছদ রাজনীতি ২৬ মার্চ জামায়াতের বিলুপ্তি ঘোষণা, জাস্টিস পার্টি আসছে

২৬ মার্চ জামায়াতের বিলুপ্তি ঘোষণা, জাস্টিস পার্টি আসছে

1112
২৬ মার্চ জামায়াতের বিলুপ্তি ঘোষণা, জাস্টিস পার্টি আসছে

আগামী ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসে জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে পারে। গতরাতে জামায়াতের মজলিসে শূরার এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। একইদিনে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াত বিলুপ্ত ঘোষণা করা হতে পারে।

তবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলেও জামায়াত একটি সামাজিক সংগঠন হিসেবে থাকবে। রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে এটি বিলুপ্ত হবে। জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কালকের বৈঠকে জামায়াত মোট পাঁচটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সারাদেশে জামায়াতের নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে মজলিসে সূরা এই পাঁচটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে জামায়াতের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। এই পাঁচটি সিদ্ধান্তের মধ্যে:

প্রথমত, ৭১ সালে জামাত ইসলামীর ভূমিকার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। এই ক্ষমা প্রার্থনার দিনটি তাঁরা বেছে নিয়েছে ২৬শে মার্চ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের দিনটি। ওইদিনই জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি, ভিডিও বার্তা বা অন্য কোনোভাবে একাত্তরে জামায়াতে ইসলামীর ভূূমিকার জন্য ক্ষমা চাইবে। তবে এই ক্ষমাটা নিঃশর্ত ক্ষমা না। ক্ষমা চাওয়ার আগে জামায়াত একাত্তরে তাঁদের ভুমিকার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করবে এবং কেনো তাঁদের এ পরিস্থিতিতে যেতে হয়েছে সে ব্যাখ্যা দিবে।

দ্বিতীয়ত, ২৬শে মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের বিলুপ্ত ঘোষণা করলেও এটি একটি সামাজিক সংগঠন হিসেবে থাকবে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই বিলুপ্তির দিনে জামায়াত কোনো নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দিবে না। জামায়াতের একাধিক সূত্র বলছে যে, নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। যারা জামায়াত করেন ও জামায়াতের সমমনা ব্যক্তি, গোষ্ঠীকে নিয়ে জামায়াত হয়তো নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করবে। সেটার সঙ্গে জামায়াত বিলুপ্তির কোনো সম্পর্ক নেই।

তৃতীয়ত, জামায়াত বিলুপ্তি হলেও জামায়াতের যে স্বগোক্তি, জামায়াতের যে নিজস্ব ভবন, সম্পত্তি এবং আর্থিক বিষয়গুলো আছে সেগুলো চ্যারিটির কাজে ব্যবহার করা হবে। এগুলো হাসপাতাল, এতিমদের উন্নয়নসহ নানা চ্যারিটেবল কাজে ব্যবহার করা হবে বলে জামায়াতের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

চতুর্থত, সারদেশে যে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী জেলে আছে তাঁদের জন্য জামায়াত বিলুপ্ত হলেও একটি বিশেষ তহবিল করবে। জামায়াত তাদেরকে আইনী সহায়তাসহ অন্যান্য সুবিধাদি প্রদান করবে।

পঞ্চমত, বিলুপ্ত হওয়ার পর জামায়াতের প্রত্যেকটা কর্মী বিশ্ব ইসলামী উম্মার জন্য কাজ করবে এবং যে যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।

তবে মজার ব্যাপার হলো এধরনের সিদ্ধান্ত নিলেও একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের ভূমিকার জন্য যে সমস্ত জামায়াতের যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে সে সমস্ত যুদ্ধাপরাধীদের ব্যাপারে জামায়াত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। এখনও জামায়াতের ওয়েবসাইটে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধাপরাধীদেকে শহীদ হিসেবে গণ্য করে এবং তাঁদেরকে বীরের মর্যাদা দেয়।

একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, জামায়াতের তৃণমূল থেকে যে মতামত এসেছে সে মতামতে বলা হয়েছে যে যারা একাত্তরে যুদ্ধাপরাধ করেছে, যুদ্ধাপরাধের দায়ে যারা দণ্ডিত হয়েছে তাঁদেরকে অস্বীকার করতে হবে এবং তাঁদেরকে বীর বা শহীদের মর্যাদা দেয়া যাবে না। কিন্তু জামায়াতের মজলিসে শূরায় এ বিষয়টি আলোচনা হলেও এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। জামায়াতের শীর্ষ নেতারা মনে করছেন যে, যারা যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন তাঁরা ইতিমধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁদেরকে অসম্মান করা বা তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করা দলের জন্য ভালো হবে না। রাজনীতির জন্যও ভালো হবে না।

তবে একটি সূত্র বলছে যে, জামায়াত বিলুপ্ত হওয়ার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য নাম হবে ‘জাস্টিস পার্টি’। এই দলে শুধু জামায়াতের বর্তমান নেতাকর্মীরাই নয় অন্যান্য দল থেকেও সমমনা রাজনৈতিকদের নেওয়া হতে পারে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।