প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত কেনো চীনের উইঘুর (মুসলিম নির্যাতন) নীতির পক্ষে সৌদি যুবরাজ?

কেনো চীনের উইঘুর (মুসলিম নির্যাতন) নীতির পক্ষে সৌদি যুবরাজ?

119
কেনো চীনের উইঘুর (মুসলিম নির্যাতন) নীতির পক্ষে সৌদি যুবরাজ?

সুষুপ্ত পাঠক

চীনের উইঘুর মুসলমানদের নিয়ে চীন কি করতে পারে বলে আপনি মনে করেন? চীন সেখানকার মসজিদগুলো সিলগালা করে দিয়েছে। হাজার হাজার মুসলিমদের জিহাদের পথ থেকে সরে আসার জন্য প্রশিক্ষণ ক্যাম্প বানিয়ে সেখানে তাদের রাখা হয়েছে। এটাকে মুসলমানরা ‘মগজ ধোলাই’ বলছে।

উইঘুর মুসলমানদের নিয়ে চীনের কার্যক্রমে পশ্চিমা সাদা চামড়ার লিবারেলরা উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। মনবতাবাদীরা চিৎকার করছে উইঘুর মুসলমানদের মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে…।

এবার প্রশ্ন হচ্ছে, চীন যা করছে সেটা না করে মানবাধিকারবাদীদের খুশি রেখে কি কি পদক্ষেপ নিতে পারত? অবিভক্ত ভারতবর্ষে স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিত স্ত্রীকে চিতার আগুনে পুড়িয়ে মেরে সহমরণ প্রথা হিন্দু ধর্মের অংশ ছিলো। সেটি আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো। আজকের ভারতে কোথাও সেরকম চেষ্টা করলে পুলিশ গিয়ে তাদের ধরবে। কোন ধর্মগুরু সহমরণের পক্ষে প্রচার চালালে তাকে প্রশাসন থেকে আটক করা হবে। তাহলে মসজিদে বসে যদি কাফের অর্থ্যাৎ অমুসলমানদের গলা কাটার প্রচার চালানো হয়, তাহলে মসজিদে তালা মেরে চীন কি বিদ্বেষের কাজ করেছে?

মুসলমানরা ধর্ম পালন করবে এতে চীনের কি সমস্যা? সাধু সন্ন্যাসী যদি নির্জনে ধর্মালয়ে বসে ধ্যান করে তাহলে চাইনিজ সরকারের কোন সমস্যা আছে? চাইনিজ সরকার সেখানকার বৌদ্ধ-খ্রিস্টানদের ধর্ম বিশ্বাস থেকে ফেরাতে উইঘুর মুসলিমদের মত কোন সংশোধন সেন্টারে পাঠিয়েছে? দুনিয়ার আর কোন ধর্ম থেকে বলা হয় তাদের কিতাব বিকৃত করে মানুষের গলা কাটাকে জায়েজ করা হয়েছে? দুনিয়ার আর কোন সম্প্রদায়কে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলতে হয় না- my name is khan but i am not a terrorist’!

সৌদি আরব সারা পৃথিবীতে জিহাদের বীজ ঢেলে দিতে মাদ্রাসা-মসজিদ নির্মাণ করেছিলো। এখন সেই জিহাদ তাদের রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে যাওয়াতে হুঁশ ফিরেছে। এখন তারা মুসলমানদের অতিমাত্রায় ইসলাম থেকে ফেরাতে সিনেমা-টেলিভিশন খুলে দিয়েছে, যা এক সময় বন্ধ ছিলো। ইসলামে এসব হারাম।

ইসলাম হচ্ছে জিহাদ করতে করতে মরে যাওয়ার নাম। এর বাইরে সব রকম শিল্প-সংগীত-সাহিত্য হারাম। একজন ইসলামী ধর্মগুরুর কাছে যান, সে আপনাকে ইসলাম সম্মত যে জীবনের কথা বলবে সেখানে এর বাইরে আপনি কিছু পাবেন না। এদেরকে নিয়ে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোই এখন বেসামাল হয়ে পড়েছে। এক সময় যারা কঠোরভাবে ইসলামকে জনগণের মধ্যে প্রবেশ করাতে চেয়েছে, তারাই এখন বের হবার চেষ্টা করছে। এ পর্যন্ত মুসলিম দেশে মসজিদ বন্ধ করে দেয়ার উদাহরণ কম নয়। তাহলে চাইনিজরা মসজিদ বন্ধ করে দিলে সেটা মুসলিম বিদ্বেষ হবে কেন?

একটা ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ধর্ম বিশ্বাস হচ্ছে কাফেরদের (অমুসলিমদের) কাছ থেকে শাসন ক্ষমতা কেড়ে নিতে হবে জিহাদের মাধ্যমে। তারপর সেখানে কুরআনের আইন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটি মুসলমানদের ঈমানী বিশ্বাস। কত পার্সেন্ট মুসলমান এই লক্ষ্যে চলে সেটি কুটতর্ক। কারণ ১০ লাখ উইঘুরের মধ্যে পাঁচহাজার উইঘুর যদি এরকম বিশ্বাসী থাকে তার মানে ঘরের বাধন কাটার লোক নিজের ঘরের মধ্যেই রয়েছে।

আল আকসা মসজিদে ফিলিস্তিনী মুসলমানরা নামাজ পড়তে চায়। ইজরাইল সেটা করতে বাধা দেয়। সারা বিশ্বের মানবতাবাদীদের তখন খুব ফাটে! আহারে, মুসলমানদের ধর্ম পালনের গণতান্ত্রিক অধিকার ইহুদীবাদীরা লঙ্ঘন করছে। ঝান্ডুবামদের গলা ফাটে- সামাজ্যবাদীরা মুসলমানদের উপর জুলুম করছে…।

অথচ ইজরাইলকে আল আকসা বন্ধ রাখতে হবে সাধারণ মানুষের জীবনকে নিরাপদ রাখতে। বাংলাদেশের মত ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে সরকার যদি বাধ্য হয়ে মুসল্লিদের দেহ তল্লাসী করতে- তাহলে আল আকসায় নামাজ পড়তে যেয়ে জঙ্গিরা জিহাদের ডাক দিলে, মুনাজাতে অনরবত ইহুদীদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করলে ইজরাইল সরকার কি মুখে আঙ্গুল দিয়ে বসে থাকবে? নামাজ পড়তে গিয়ে যদি বিনা উশকানিতে ঢিল ছুড়ে মারেন, ঘুড়ি উড়িয়ে ফসলের ক্ষেতে আগুন লাগিয়ে দেন, তাহলে ইজরাইলী সৈন্যরা চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকবে? বাইতুল মোকাররমের ‘তৌহদী জনতা’ নামের ব্যানারে জুম্মা পরবর্তী পাবলিক সম্পর্কে যাদের ধারণা আছে- তারা কি করে আল আকসা মসজিদে ফিলিস্তিনীদের জুম্মার নামাজ পড়ার আবদারকে স্বাভাবিকভাবে নেয়?

সময় ঘনিয়ে আসছে যখন বিশ্বকে ইসলামের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে নিজেদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য। চীন আজ যা করছে সেটাই করতে হবে অনেক মুসলিম দেশকে। তখন আর ‘ইসলাম বিদ্বেষ’ কথাটা খোদ মুসলিম বিশ্বেই কাজ করবে না। মানবাধিকার রক্ষার্থেই মানুষকে ধর্মের পৈশাচিক অংশগুলোর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে। আল আকসার মত অনেক মসজিদই মুসলিমরা বন্ধ করে দিবে বিশৃঙ্খলা এড়াতে। সেদিন ইসলামিস্টদের পক্ষে মুসলিম বিশ্বও থাকবে না। সেদিনই ঝান্ডুবামদের আলুপোড়া খাওয়ার সখ মিটে যাবে…।