প্রচ্ছদ রাজনীতি খণ্ডিত জাসদ-এর পক্ষে কি এক হওয়া সম্ভব?

খণ্ডিত জাসদ-এর পক্ষে কি এক হওয়া সম্ভব?

76
খণ্ডিত জাসদ-এর পক্ষে কি এক হওয়া সম্ভব?

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। ১৯৭৫ সালের পর থেকে নানা রকম কোন্দল, বিতর্কের জেরে ১৯৮০ সালে ভাঙন ধরে জাসদে।

এর ফলে তারা হারিয়ে ফেলে তাদের পুরনো সেই জৌলুস। তিন ভাগে ভাগ হয়ে যায় জাসদ। তারা এখন আর আদর্শিক কোন কারণ নয়, বরং ক্ষমতা ভাগাভাগির নেশায় বারবার বিভক্ত হয়েছে এবং একেকসময় একেক দলের কাছে ধর্না দেয়। তবে প্রাক্তন জাসদের একটি গ্রুপ জাসদকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদে ১৪ দলের হয়ে নির্বাচন করেও যখন মন্ত্রিসভায় ইনু ও আম্বিয়ার জাসদের জায়গায় হয়নি, তখন তাদের মধ্যে অপ্রাপ্তি ও অতৃপ্তিকে কাজে লাগিয়ে আ স ম আবদুর রবের জাসদের সঙ্গে তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করার একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জাসদের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে। অখণ্ড জাসদের সময় যারা ছাত্রনেতা ছিলেন, বর্তমানে ব্যবসায় বা অন্যপেশার সঙ্গে যুক্ত আছেন কিন্তু জাসদের রাজনীতির সঙ্গে সংযুক্ত নন তারাই এই উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

তারা মনে করছেন, যেহেতু বিএনপির এখন মরণাপন্ন অবস্থা এবং দেশে বৃহৎ বিরোধী কোন রাজনৈতিক দল নেই। কাজেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটা ঐক্যবদ্ধ জাসদ যদি করা যায় তাহলে তারা আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।

এই গ্রুপটি ভিন্ন ভিন্নভাবে তিন জাসদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সবাই এ ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। তিন জাসদকে এক করার জন্য তারা অনানুষ্ঠানিকভাবে তিন জাসদের সঙ্গে বৈঠক করবে এবং এরপর আনুষ্ঠানিক একটি বৈঠকের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানা গেছে। উদ্যোগ গ্রহণকারীদের মধ্যে আছেন একটি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার একজন নির্বাহী পরিচালক, যিনি একসময় জাসদ করতেন; একজন চিকিৎসক যিনি একসময় জাসদ ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন এবং একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, যিনি একসময় জাসদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তবে নাম প্রকাশে জাসদের একজন নেতা বলেছেন, এটা কেবল প্রাথমিক পর্যায়ে শুরু হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন হতে সময় লাগবে। জাসদ মনে করছে, জাসদকে নতুনরূপে শক্তিশালী রূপে প্রকাশের এখনই সময়। সেটা করতে পারলে সংসদে বিরোধী অভাবটা তারা ভালোভাবে পূরণ করতে পারবে।

সম্পাদক/এসটি