প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় গরু পাচারকারী সিন্ডিকেটের কারণে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত অশান্ত

গরু পাচারকারী সিন্ডিকেটের কারণে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত অশান্ত

35
গরু পাচারকারী সিন্ডিকেটের কারণে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত অশান্ত

গরু পাচারকারী সিন্ডিকেটের কারণে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত অশান্ত হয়ে উঠেছে। বছরের অধিকাংশ সময় গরু পাচার নিয়েই সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে হতাহতের ঘটনা ঘটছে।

সম্প্রতি গত ১২ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে বিজিবির সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হন। নিহতরা হলেন- হরিপুর উপজেলার রুহিয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে নবাব আলী (৩৫), একই গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে সাদেকুল ইসলাম (৪৫) ও বহরমপুর গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে জয়নুল (১২)। আহত হয়েছে কমপক্ষে ২০ জন।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ধরনের বড় ঘটনায় তদন্ত করেছে কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো জবাব দেননি। বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের কোস্টগার্ডের ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা বলেন।

সীমান্তে গরু জব্দ করা নিয়ে সংঘর্ষে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) গুলিতে নিহত ৩ জনের পরিবার ও আহতদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তনয় কুমার সাহা। রিটের বিষয়টি নিশ্চিত করেন আইনজীবী নিজেই। রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, বিজিবি মহাপরিচালক ও বিজিবির ৫০ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসারকে বিবাদী করা হয়েছে। একইসঙ্গে রিটে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে রুলও চাওয়া হয়েছে।

বিজিবির-৫০ অপারেশন থেকে নিরস্ত্র মানুষের উপর গুলিবর্ষণ করে ৩ জন হত্যা এবং কমপক্ষে ২০ জনকে গুরুতর আহত করা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং অপারেশনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা কেন দেয়া হবে না এই মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

এদিকে বিজিবি-গ্রামবাসী সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি মামলা করেছে বিজিবি। গরু পাচার ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে করা মামলায় মোট আসামি ৩ জন। এ মামলায় নিহত শিক্ষক নবাব আলী ও সাদেকুল ইসলামকেও আসামি করা হয়েছে। আরেকটি মামলায় সরকারি কাজে বাধাদান, বিজিবি সদস্যদের ওপর চড়াও, অস্ত্র নিয়ে জীবননাশের চেষ্টা, সরকারি অস্ত্র লুণ্ঠনের চেষ্টা, অস্ত্রের ক্ষতিসাধন ইত্যাদি অভিযোগে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও আরও অজ্ঞাত আড়াইশ জনকে আসামি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নায়েব সুবেদার জহুরুল ইসলাম বাদী হয়ে হরিপুর থানায় মামলা দুটি দায়ের করেন।

সীমান্তে কর্মরত দুদেশের একাধিক আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দিয়ে বেআইনিভাবে গরু পাচার একটা দীর্ঘকালীন সমস্যায় পরিণত হয়েছে। যেখানে ভারতের মোদী সরকার ও উত্তর প্রদেশের যোগী সরকার গোমাতা রক্ষার জন্য একটা গোটা আন্দোলন দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে, যেখানে উত্তর প্রদেশ এবং উত্তর ভারতের গো-বলয়ে পাচারকারী হিসেবে পিটিয়ে মারার ঘটনায় দেশ জুড়ে আতঙ্কের বাতাসে বর্তমান অস্থিরতা চলছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারেরই স্ট্যান্ডিং কমিটির রিপোর্টে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য । পাচারচক্র বন্ধ করতে স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। তাদের রিপোর্টে উঠে এসেছে, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও গরু পাচারের সঙ্গে যুক্ত এজেন্টরা আসে মূলত হরিয়ানা, রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ ও ঝাড়খণ্ড থেকে। ভারত সরকারও সীমান্ত হত্যা বন্ধে গরু পাচারের মতো স্পর্শকাতর বিষয়টিতে কঠোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

যশোর বেনাপোল সীমান্তে কর্মরত গোয়েন্দা কর্মকর্তা বকুল বলেছেন, সীমান্ত এলাকার বেশ কিছু মানুষের রুটি-রুজি ঠিকানা এই পাচারকে কেন্দ্র করেই। যার মধ্যে ভারতের নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, শিলিগুড়ি ও রায়গঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো উল্লেখযোগ্য।

সীমান্ত সূত্র বলেছে, গত বছর মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর থেকে জাল নোট পাচারের জন্য গরু পাচারকারী এনামুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ। স্থানীয় জঙ্গিপুর থেকে বাংলাদেশে গরু পাচারের কাজ চালাত এনামুলের বন্ধু পিন্টু ও আসলাম। প্রায় কোটি টাকার কালোবাজারী এই ব্যবসার সঙ্গে জঙ্গি সূত্র রয়েছে বলেও মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন।

সবচেয়ে বেশি মুর্শিদাবাদ ও জঙ্গিপুরে হচ্ছে গরু পাচারের ঘটনা। সীমান্ত পাচারের সময় হতাহতের ঘটনাও তুলে ধরছে একটি সংস্থা ৷পাশাপাশি এ-ও জানা গেছে, গোটা দেশজুড়ে প্রায় ৫০টিরও বেশি পশু কল্যাণ সংস্থার সঙ্গে জড়িত গরু জ্ঞান সংস্থা। অভিযোগ রয়েছে, গত ৬ জানুয়ারি প্রায় ৬ হাজার থেকে ৮ হাজারের বেশি গরু পাচারের ঘটনার সাক্ষী রয়েছেন ওই সংস্থার সঙ্গে জড়িত বখরা আদায়কারীরা। শুধু তাই নয়, জরিপে দেখা গেছে, জেলার মহম্মদপুর, জাগুন পাড়া, লাব গোদি চক এবং ভূত বাগান এলাকাগুলো থেকে অবাধে চলে গরু পাচারের ব্যবসা।