প্রচ্ছদ রাজনীতি প্রাথী সংকটে ডাকসু নির্বাচন বর্জনের নির্দেশ বিএনপির?

প্রাথী সংকটে ডাকসু নির্বাচন বর্জনের নির্দেশ বিএনপির?

82
প্রাথী সংকটে ডাকসু নির্বাচন বর্জনের নির্দেশ বিএনপির?

জাতীয় নির্বাচনের মতো এবার শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার কাড়তে ডাকসু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, গত ২৮ বছর ধরে ডাকসু নির্বাচন হয়নি। তড়িঘড়ি করে ভোট চুরির মোক্ষম সময় হিসেবে এখন ব্যবস্থা করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের মতো এই নির্বাচনেও শিক্ষার্থীদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে।

সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। খালেদা জিয়াসহ সব রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবিতে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম নামের একটি সংগঠন এ সভার আয়োজন করে।

হাফিজ উদ্দীন আহমদ আরও বলেন, সদ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাগরিকের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বিএনপি প্রার্থীদের প্রচার ও ভোটের মাঠে নামতে দেওয়া হয়নি। ভোটের আগের দিন জালভোট দিয়ে ব্যালট ভরা হয়েছে। বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ক্ষমতায় এসেছে।

দেশে আইনের শাসন নেই এবং বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন না মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এখন পর্যন্ত সাগর-রুনির বিচার হয় না, সেখানে নির্দোষ খালেদা জিয়ার মুক্তি এভাবে হবে না। রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

ফোরামের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমতুল্লাহ, বিএনপি নেতা আলহাজ মোশাররফ হোসেন, বিএনপি নেতা লায়ন আনোয়ার প্রমুখ।

প্রাথী সংকট: আগামী ১১ মার্চ অনুষ্ঠেয় ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে নির্দেশ দিয়েছেন তারেক জিয়া। ছাত্রদলের সিনিয়র নেতাদের তিনি টেলিফোনে এ নির্দেশ দিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

গত সপ্তাহে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ঢাবি উপাচার্যের কাছে ডাকসু নির্বাচন অন্তত তিন মাস পেছানো, হলে সহাবস্থান, ৩০ বছর বয়সসীমা উঠিয়ে নেয়াসহ সাত দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেয়া হয়। এসকল দাবিদাওয়া অর্জন করা ছাড়া নির্বাচনে অংশ না নেয়ার পক্ষে মত দেন লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া।

তবে বিএনপির একটি সূত্র বলছে, ছাত্রদলের নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তের মূল কারণ হচ্ছে প্রার্থিতার সংকট। ছাত্রদলের নেতৃত্বে যারা আছেন তারা খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী ভোটার না। তাদের অনেকেই নিয়মিত ছাত্র নয় এবং অনেকের বয়সই ৩০ বছরের উপরে। ফলে ভিপি ও জিএস পদে কাকে মনোনয়ন দেবে তা নিয়ে সংকটে পড়েছে ছাত্রদল।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, এই অবস্থায় ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থিতা দিলে ছাত্রদলের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হতে পারে। দলীয় কোন্দলে দল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও করছেন তারা। সেজন্য ডাকসু নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষেই তারা মতামত দিয়েছেন।