প্রচ্ছদ কৃষি, প্রাণী ও পরিবেশ ব্রিটেনে যন্ত্রের মাধ্যমে ‘কার্বন শোষণ’!

ব্রিটেনে যন্ত্রের মাধ্যমে ‘কার্বন শোষণ’!

53
ব্রিটেনে যন্ত্রের মাধ্যমে ‘কার্বন শোষণ’!

বিশ্ব পরিবেশ রক্ষায় নতুন এক আবিস্কারের খবর পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড থেকে বায়ুমণ্ডলকে বাঁচাতে ইউরোপে শুরু হয়েছে কার্বন শোষণ পদ্ধতি। প্রথম এই পদক্ষেপ নিয়েছে ব্রিটেনে ‘ড্রাক্স’ সিস্টেম।

কাঠ জ্বালানোর ফলে যে অতিরিক্ত কার্বন বাতাসে মেশে, তাকে শোষণ করে পরিবেশে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নিয়েছে ব্রিটেন। গোটা ইউরোপে এটাই প্রথম কোনও সদর্থক পদক্ষেপ।

ড্রাক্স সিস্টেম যেভাবে কাজ করে: ব্রিটেনের বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস এই ড্রাক্স। প্রতিদিন প্রায় সাত লক্ষ টন কাঠের টুকরো জ্বালিয়ে গোটা দেশের বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের পরিমাণ যথাযথ রাখতে সাহায্য করে। এবার সেই একই প্রযুক্তির ভিন্নতর প্রয়োগকে কাজে লাগিয়ে শুরু হবে বিপরীত কাজ।

অর্থাৎ কার্বন উৎপাদনের পরিবর্তে কার্বন শোষণ। লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা তৈরি করেছেন এই বিপরীত প্রযুক্তি। অ্যামাইন নামে একটি জৈব রাসায়নিক যৌগ ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষকরদের দাবি, অ্যামাইন খুব সহজেই কার্বন শোষণ করতে পারে এবং তার শোষণ ক্ষমতাও বেশি। সি-ক্যাপচার অর্থাৎ কার্বন ক্যাপচার নামের এই নতুন প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা হয়েছে জৈব দ্রবণ, যাতে বিষাক্ত প্রভাব কিছুটা কমে যায় এবং কাজ হয় মসৃণভাবে। ড্রাক্সের মূল কাজ, কাঠ পোড়ানো বা জঙ্গলে কোনওরকমভাবে বাড়তি কার্বন-ডাই-অক্সাইড তৈরি হলে, সেই বাড়তি দূষণকে নিয়ন্ত্রণ করা।

ড্রাক্স পাওয়ার সিস্টেমের সিইও অ্যান্ডি কসের বলেছেন, ‘এই প্রকল্প এখনও অনেক ছোট আকারে রয়েছে। সেখান থেকেই আমরা কাজ শুরু করছি। সবুজায়নের লক্ষ্যে এটা বড় পদক্ষেপ। খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রযুক্তি। আগামী দিনে এর বাণিজ্যকরণে আগ্রহী আমরা।’ এই প্রকল্পের অন্যান্য গবেষকরা হিসেবনিকেশ করে বলছেন, যদি খুব ভালভাবে কার্বন ক্যাপচার ব্যবহার করা যায়, তাহলে বছরে গড়ে বিশ্বের উষ্ণতা কমতে পারে দেড় ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড মতো।