প্রচ্ছদ রাজনীতি সুবর্ণাকে নিয়ে নেতা-কর্মীদের সন্দেহ ও প্রধানমন্ত্রীর মূল্যায়ন

সুবর্ণাকে নিয়ে নেতা-কর্মীদের সন্দেহ ও প্রধানমন্ত্রীর মূল্যায়ন

369
সুবর্ণাকে নিয়ে নেতা-কর্মীদের সন্দেহ ও প্রধানমন্ত্রীর মূল্যায়ন

ফেসবুকে একজন লিখেছেন, ‘একুশে পদকে ভূষিত হওয়ার পর এবার আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হতে যাচ্ছেন সুবর্ণা মোস্তফা। কেবল বাকি থাকল স্বাধীনতা পুরস্কার। বাকি রাখবেন কেন, সেটাও দিয়ে দেন! দলে আসলে উনার অবদান কি? আর যারা দিনের পর দিন রাস্তায় পড়ে রাজনীতি করেছে তাদের কি দোষ?’

আরেকজন লিখলেন, ‘স্বামী বদলানোর আন্দোলন-সংগ্রাম করে আওয়ামী রাজনীতিতে পা রাখলেন সুবর্ণা মোস্তফা। আহ! কি আনন্দ আকাশে বাতাসে। আজও যিনি বিভিন্ন পত্রিকার শিরোনাম ‘ঘর ভাঙার প্রতিযোগিতায় ছিলেন’, সেই সুবাস আওয়ামী রাজনীতিতে। ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করে সুবাসিনী মূল্যায়ন চলছে।‘

অপরজনের মূল্যায়ন, ‘১৯৯৪ সালে সুবর্ণা মোস্তফা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আমাদের কাছ থেকে এখন জয় বাংলা স্লোগান কেড়ে নেয়া হয়েছে।  এই স্লোগান এখন বিটিভিতে দিতে দেওয়া হয় না, অথচ এই স্লোগান ছিল মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা।

১৯৯৫ সালে আলী ইমামের নেতৃত্বে শিল্পী কলা-কৌশলীদের একটা বিরাট গ্রুপ জনতার মঞ্চে গিয়ে একতা প্রকাশ করেছিল, তাই ২০০১ এর নির্বাচনের পর এদের সবাইকে বিটিভি থেকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল। সুবর্ণা মোস্তফা যখনই সুযোগ পেয়েছেন তখনই মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর কথা বলেছেন।

সুবর্ণা মুস্তফাকে শেখ হাসিনার মূল্যায়ন

ঘটনাটি ১৯৮০ সালের। জিয়াউর রহমান ও তাঁর বিএনপি ক্ষমতা। ২৬ মার্চ উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য একটি মুক্তিযুদ্ধের নাটক নির্মাণ হবে। নাটকটির প্রযোজক ছিলেন প্রয়াত জিয়া আনসারী। নাটকটিতে অভিনয়ের জন্য সুবর্ণা মুস্তফাকে ডাকা হয়। তখনই সুবর্ণা মুস্তফা যে কতটা জনপ্রিয় ছিলেন, নতুন করে বলার দরকার নেই। নাটক ও সিনেমার ধুন্দুমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী। জনপ্রিয়, হার্টথ্রুব অপ্রতিদ্বন্ধী যাই বলেন সব খ্যাতিই তখন তাঁর ছিল। তাঁর সঙ্গে নাটকটিতে অভিনয়ের কথা প্রয়াত হুমায়ূন ফরিদীর। তাকেও ডাকা হয় মিটিংয়ের জন্য।

নাটকটির গল্পটি ছিলে এমন, সুবর্ণার প্রেমিকা মুক্তিযুদ্ধে যাচ্ছেন। তখন সুবর্ণার সংলাপ প্রেমিকার উদ্দেশ্যে, ‘জিয়া আমাদের নেতা। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। তুমি যুদ্ধে যাও। দেশকে স্বাধীন করো।’ সুবর্ণা মুস্তফা এই সংলাপ বলতে অস্বীকৃতি জানালেন। প্রযোজকের মুখের উপর বললেন, ‘জিয়াউর রহমান কখনো আমাদের নেতা ছিলেন না। এরকম বিকৃতির ইতিহাসের নাটক সুবর্ণা মুস্তফা করে না।’ তাৎক্ষণিক তিনি ওইমুহুর্তে টেলিভিশন থেকে বের হয়ে আসেন সুবর্ণা মুস্তফা।

তিনি কিন্তু সবসময়ই এরকম। তার স্ক্রিপ্ট পছন্দ না হলে নাটকটি কে নির্মাণ করলো সেটা ভাবেন না। স্ক্রিপ্ট ছুড়ে মারেন মুখের উপর। তিনি কখনো ভালো কাজের সঙ্গে আপোষ করেন না। সেটা যত ক্ষমতাধরেরই নাটক হোক। এই বদনামী সুনাম আছে তাঁর।

এরপরের ঘটনা ঘটেছিল ১৯৮৪ সালে। স্বৈরশাসক এরশাদ ক্ষমতায়। বিজয় দিবসের নাটক নির্মাণ হবে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য। বরকতউল্লাহ ছিলেন এর প্রযোজক। রাইসুল ইসলাম আসাদ ছিলেন তাঁর বিপরীতে। নাটকটির একটা সংলাপে বলতে হবে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’। যখন সেটা তার চোখে পড়ে। একমূহুর্ত অপেক্ষা না করে নাটকটি করতে অস্বীকৃতি জানান। সরাসরি বলে দেন, ‘যেদিন জয়বাংলা বলে মুক্তিযুদ্ধের নাটক করতে পারবেন। সেদিন আমাকে ডাকবেন।’

এমন ঘটনাগুলো বিভিন্নভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কানে যায়। সুবর্ণা মুস্তফা কখনো আওয়ামী লীগের জন্য পথে নামেননি। কিন্তু বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে তাঁর দৃঢ় অবস্থান। তা প্রধানমন্ত্রীর ভালো করে জানা। রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও এমন মানুষকে প্রধানমন্ত্রী সবসময়ই শ্রদ্ধার চোখে দেখেন।

গতকাল নাম ঘোষণার পরে যখন প্রশ্ন আসে সুবর্ণা মুস্তফা কবে আওয়ামী লীগ করেছেন। তখন প্রধানমন্ত্রী তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আওয়ামী লীগ করার দরকার নেই। এই ঘটনা দুটির উদাহরণ দেন। উদাহরণ দিয়ে বলেন, যারা ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তাদের সবসময়ই আমি মূল্যায়ন করি।