প্রচ্ছদ রাজনীতি আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযান চলবে

আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযান চলবে

798
আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযান চলবে

উপজেলা নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বাণিজ্য, তৃণমূল হাইব্রীডদের দখলে আওয়ামী লীগের চলে যাওয়া, স্থানীয় পর্যায়ে নানা অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগে আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযান শুরু হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারক একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, উপজেলা নির্বাচনের পর নভেম্বরে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলকে টার্গেট রেখে আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযান করা হবে। আওয়ামী লীগের একজন প্রবীণ নেতা বলেছেন, আওয়ামী লীগকে আওয়ামী লীগের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

তিনি জানিয়েছেন যে, গত দশ বছরে ক্ষমতায় থাকার ফলে আওয়ামী লীগে প্রচুর আগাছা জমেছে। প্রচুর সুবিধাভোগী আওয়ামী লীগে ঠাই নিয়েছে। তাছাড়াও আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের কিছু নেতা-কর্মীরও বিভ্রাম ঘটেছে এবং তারা এখন সুবিধাবাদী রাজনীতির দিকে ঝুকেছে। এটা দলের জন্য একটি অশনি সংকেত বলে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা মনে করছেন। একারণেই তারা দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযানের তাগিদ দিয়েছেন।

একটি সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানো, আওয়ামী লীগকে নতুন প্রজন্মের উপযোগী করা এবং আগামী নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগকে প্রস্তুত করার লক্ষ্য থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযানের উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেছেন যে, শুদ্ধি অভিযান নয় এটা হলো আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করা বা ঢেলে সাজানো। কারণ, এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একটি নতুন বার্তা দিয়েছে এবং এখানে তারুণ্যের জয়গান গাওয়া হয়েছে।

কাজেই, তারুণ্যের উপযোগী নেতৃত্ব তৈরি করতে না পারলে আগামী দিনে আওয়ামী লীগে নেতৃত্বশূন্যতা দেখা দিতে পারে। সেজন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এজন্য স্থানীয় পর্যায়ে তরুণ এবং প্রবীণ মিশেলে একটি নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সে লক্ষ্য থেকেই উপজেলা নির্বাচনের পর পর্যায়ক্রমে কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হবে বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের এই শুদ্ধি অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ৫টি:

প্রথম লক্ষ্য, যারা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগে এসেছেন এবং আওয়ামী লীগের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা বনে গেছেন তাদেরকে স্থানীয় পর্যায়ে দলের গুরত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া। প্রয়োজনে দল থেকে বের করে দেওয়া।

দ্বিতীয়ত, যে সমস্ত নেতারা বিএনপি জামাত থেকে লোক এনে স্থানীয়ভাবে নিজেদেরকে ক্ষমতাবান করেছেন, সে সমস্ত নেতাদেরকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

তৃতীয়ত, আওয়ামী লীগের যে সমস্ত নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন দুঃসময়ে দলের জন্য অবদান রেখেছেন এবং কঠিন সময়ে দলের হাল ধরে রেখেছেন তারা যেখানে যেখানে কোণঠাসা হয়েছেন তাদেরকে পুনর্বাসিত করা বা তাদেরকে স্থানীয় নেতৃত্বের কেন্দ্রে নিয়ে আসা।

চতুর্থত, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন যারা দীর্ঘদিন নিরবিচ্ছিনভাবে কাজ করছে তাদেরকে মূল আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং সেখান থেকে নেতৃত্ব খুঁজে বের করা।

পঞ্চমত, গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগের যারা নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ধরণের দুর্নীতি ও নৈতিক স্থলনজনিত অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে, তাদেরকে চিহ্নিত করে দল থেকে সরিয়ে ফেলা।

এই লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য আওয়ামী লীগ যে কৌশল নিয়েছে তা হলো, উপজেলা নির্বাচনের পর থেকে আওয়ামী লীগ পর্যায়ক্রমে দেশের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে সম্মেলনের আয়োজন করবে। এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য থাকবে, যারা দুঃসময়ে দলের পাশে ছিল তাদেরকে বাছাই করা, সেইসঙ্গে ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের কর্মীরা যেন নেতৃত্বে আসে তা নিশ্চিত করা। আওয়ামী লীগ চাইছে, স্থানীয় পর্যায় থেকে নতুন নেতৃত্ব বেরিয়ে আসুক। যার কিছুটা প্রতিফলন দলটি বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় রেখেছিল।

অন্য একটি সূত্র বলছে, এবার উপজেলা নির্বাচনে তৃণমূলের অবস্থা দেখে চমকে গেছেন আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারক মহল। এমনকি বিস্মিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর এসেছে, স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগ বিভিন্ন সুবিধাভোগী, হাইব্রিড এবং অন্য দল থেকে আসা লোকজনের দখলে রয়েছে। সেই বিবেচনা থেকেই সত্যিকারের নেতৃত্বকে দলে স্থান দেওয়ার উদ্দেশ্যেই আওয়ামী সভাপতি দলের মধ্যে এই শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছেন। তবে এই শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে দলে তারুণ্যের নতুন প্রবাহ সৃষ্টি হবে বলেই বলেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা।

সম্পাদক/এসটি