প্রচ্ছদ রাজনীতি প্রধানমন্ত্রী-ইউনূস ঐতিহাসিক বৈঠক হতে যাচ্ছে জার্মানিতেই?

প্রধানমন্ত্রী-ইউনূস ঐতিহাসিক বৈঠক হতে যাচ্ছে জার্মানিতেই?

873
প্রধানমন্ত্রী-ইউনূস ঐতিহাসিক বৈঠক হতে যাচ্ছে জার্মানিতেই?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা তৃতীয় বারের মতো দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে প্রথম সফরে যাচ্ছেন জার্মানিতে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি সেখানে তিনি নিরাপত্তা বিষয়ক সম্মেলনে যোগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সফরটি নানাদিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান সময়ে বিশ্বে যে দু’জন নারী নেতৃত্ব আলোচিত, তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন আঙ্গেলা ম্যার্কেল এবং আরেকজন হচ্ছেন শেখ হাসিনা। যেহেতু জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দরবারে একটি রোল মডেল রাষ্ট্র, সেজন্য নিরাপত্তার ব্যাপারে বাংলাদেশের কাছ থেকে পাঠ নেয় সকলেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক-নির্দেশনা ও তাঁর নীতি-আদর্শ বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ বন্ধ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে বিশ্বের অন্যান্য নেতারা স্বীকার করেছেন। এই প্রেক্ষিতে তাঁর এ সফর নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে এই সফরে ড. ইউনূসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী যে সময়ে মিউনিখে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগদান করবেন, ঐ সময় জার্মানিতে ড. ইউনূসও অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল চাইছে ড. ইউনূসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে বিরোধ আছে, তা মিটিয়ে ফেলতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আঙ্গেলা ম্যার্কেলের যেমন আন্তরিকতা ও হৃদ্রতার বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে, তেমনি ড. ইউনূসের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে তাঁর।

এছাড়াও ইউরোপের সুশীল সোসাইটি গ্রুপ এবং বুদ্ধিজীবীরা ইউনূসের ব্যাপারে অত্যন্ত নমনীয়। ড. ইউনূস ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভুল বোঝাবুঝির অবসান হওয়া উচিৎ বলে মনে করেন তারা। সম্প্রীতি জার্মানির একটি থিংক ট্যাংক গ্রুপের বৈঠকে জার্মানির বুদ্ধিজীবীরা বলেছেন যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্ব মানবতার নেতৃত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন, ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত দেশ গড়তে তিনি যে সংগ্রাম করছেন, সে সংগ্রামে ড. ইউনূস তাঁর সহযোগী হতে পারেন।

গত কিছুদিন ধরে ইউনুসকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের একটি সিভিল স্যোসাইটি গ্রুপ ড. ইউনুসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য মাঠে নেমেছেন। প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. ইউনুসের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে তিনি ড. ইউনুসের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে নমনীয় করার চেষ্টা করেছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে।

সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, গ্রামীন ব্যাংকসহ ড. ইউনুস যে প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরী করেছিলেন। সেই প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের দারিদ্র বিমোচন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে। বিশেষ করে ড. ইউনুসকে গ্রামীন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ থেকে অপসারণ করার পর সরকার এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিতে পারেনি। এসমস্ত বাস্তবতার নিরিখে আন্তর্জাতিক মহল বাংলাদেশের নির্বাচনসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যে অকুন্ঠ সমর্থন দিয়েছে তার প্রতিদান হিসেবে ড. ইউনুসের একটা সম্মানজনক অবস্থান চায়। তিনি হয়তো সরকারের কোন দায়িত্বশীল পদে থাকবেন না।

কিন্তু গ্রামীন ব্যাংকে তাকে উপদেষ্টা চেয়ারম্যানের মত কোন পদ দিয়ে ড. ইউনুসকে সম্মানিত করেন সে ব্যাপারে আওয়ামী লীগের প্রতি বিভিন্ন মহলের অনুরোধ রয়েছে। বিশেষ করে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবাট মিলার চাইছেন যে ড. ইউনুসের ব্যাপারে সরকারের যে নেতিবাচক অবস্থান, তা যেন ইতিবাচক হয়। এজন্য তিনি সরকারের একাধিক নীতি নির্ধারকের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।

একটি সূত্র জানিয়েছে যে, ড. ইউনুসের সঙ্গে যেন প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হয়। সেই লক্ষেই ড. ইউনুস জার্মানিতে তার কর্মসূচী নিয়েছেন। জার্মানি সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আঙ্গেলা মের্কেলের একটা একান্ত বৈঠক হবে বলে জানা গেছে। সেই বৈঠকে জার্মান চ্যান্সেলর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউনুসের ব্যাপারে অনুরোধ করতে পারেন।

উল্লেখ্য যে, গ্রামীন ব্যাংক বাংলাদেশের এমন একটা মডেল যার কারণে ড. ইউনুস নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন। এই মডেলকে এখন শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্ব অনুসরণ করছে। বিশেষ করে ইউরোপ এবং আমেরিকায় ড. মোহাম্মদ ইউনুস অত্যন্ত জনপ্রিয়। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন আন্তর্জাতিক নেতা হিসেবে আভির্ভূত হয়েছেন, সেজন্য তারা চাইছেন যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেখ হাসিনার বিরোধ এবং দ্বৈরথে যেন অবসান ঘটে।

সম্পাদক/এসটি