প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত হেলিওসেন্ট্রিজম, বিবর্তনবাদ ও জাকের নায়েক

হেলিওসেন্ট্রিজম, বিবর্তনবাদ ও জাকের নায়েক

100
হেলিওসেন্ট্রিজম, বিবর্তনবাদ ও জাকের নায়েক

কায়সার আহমেদ

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দশটি বৈজ্ঞানিক রেভুলেশনারি থিওরির মধ্যে একনম্বর হচ্ছে “হেলিওসেন্ট্রিজম” থিওরি। পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরছে এবং একই সাথে অন্যান্য প্লানেটগুলো সূর্যকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণরত। এটাই হচ্ছে “থিওরি অব হেলিওসেন্ট্রিজম”- যেটি কোপার্নিকাস ১৫৪৩ সালে সর্বপ্রথম বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণ করেন। অবশ্য প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বের গ্রীক দার্শনিকগণ পৃথিবীর ঘুর্ণনের ব্যাপারটি প্রথম ‘ধারণা’ করেছিলেন। কোপার্নিকাস এটিকে দুইহাজার বছর পরে বৈজ্ঞানিক তত্ত্বরূপে আবিষ্কারের মাধ্যমে প্রমাণ করেন।

বিজ্ঞানীদের ভোটাভোটিতে পৃথিবীর টপ টেন রেভুলেশনারি থিওরির মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে, চার্লস ডারউইনের “এভুলিউশন বাই নেচারেল সিলেকশন” থিওরি। যেটাকে সহজ বাংলায় বলা হয় ‘বিবর্তনবাদ’ তত্ত্ব। পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরার ব্যাপারটিতে এক পার্সেন্টও আর সন্দেহ নেই, কারণ এটি প্রাক্টিকেলি শতভাগ প্রমাণিত সত্য ফ্যাক্ট। তাই এটিকে ধরা হয়েছে ‘একনম্বর’ রেভুলেশনারি থিওরি হিসাবে।

ডারউইনের ‘বিবর্তনবাদ তত্ত্ব’ যদিও শতভাগ প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। কারণ এভুলিউশন একটি দীর্ঘ সময়কালীন লম্বা বিবর্তনিক প্রক্রিয়ার নাম। তবে এটি ইতোমধ্যে শতভাগ প্রমাণিত একটি বৈজ্ঞানিক ফ্যাক্ট। কারণ এপর্যন্ত অসংখ্য মিসিং লিংকের (এনসেস্টরস ফসিল) সন্ধান পাওয়া গেছে এবং ক্ষুদ্র মাইক্রোস্কোপিক স্বল্পায়ু অর্গাজমকে ভিন্ন প্রজাতিতে রূপান্তরিত করাও সম্ভব হয়েছে বা হচ্ছে। উদ্ভিদের মধ্যে ডিএনএ মিউটেশন ঘটিয়ে নতুন প্রজাতির চাল, গম, ভুট্টা ইত্যাদি প্রায়ই উদ্ভাবিত হচ্ছে। অর্থাৎ কোনো কিছুই আর ‘একজোড়া’ থেকে তৈরীর মিথগল্প হিসাবে টিকছে না বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের সামনে। তাই ‘বিবর্তনবাদ’ই একমাত্র বৈজ্ঞানিক থিওরি, যেটি ধর্মের দাবিগুলোকে ‘শতভাগ’ মিথ্যা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।

‘শিক্ষিত’ নামধারী জাকের নায়েকের কিছু চ্যালা চামুন্ডা এই যুক্তি প্রসব করেন যে, গত চৌদ্দশো বছরে অসংখ্য নাস্তিক মুরতাদ ধর্মকে ‘মিথ্যা’ প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু আল্লাহ্পাক ‘নিজে’ কোরানকে হেফাজত করে ইসলামকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। অথচ ইনারা এই খবর জানেন না যে, ধর্মের মূল ‘হত্যাকারী’ ডারউইন হুজুরের আগমন ঘটেছে মাত্র দেড়শো বছর পূর্বে।

গত একশতাব্দীতে এই এক “নাস্তিক” বিজ্ঞানীর কারণেই মূলত পুরো ইউরোপ থেকে ধর্ম আজ প্রায় বিতাড়িত হয়ে জাদুঘরে। আল্লাহ্পাক শত চেষ্টা করেও ‘পিতৃহীন’ ঈসা নবীর ধর্ম টিকাতে পারেননি। ডারউইনের থিওরি বুঝার মগজ ‘ফহিন্নি’ সমাজ এখনো ধারণ করতে পারে নাই। তাই আল্লাহ্পাক শুধু ঐসব অঞ্চলেই মূলত নিজের কিতাবকে “নিজে” রক্ষা করতে সক্ষম হচ্ছেন, যেসব অঞ্চলে ডারউইন পীরের বাম হাত এখনো ঢুকে নাই।