প্রচ্ছদ রাজনীতি কামালের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে সুলতান-মোকাব্বিরের শপথ

কামালের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে সুলতান-মোকাব্বিরের শপথ

263
কামালের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে সুলতান-মোকাব্বিরের শপথ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং সিলেট-২ আসন থেকে মোকাব্বির খান বিজয়ী হন। দল সংসদে যাওয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিলেও তারা দুজনই শপথ নেওয়ার পক্ষে। ফলে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নিলে তাদের সংসদ সদস্যপদ থাকবে কি না, সেই প্রশ্নই এখন সব মহলে।

তবে সুলতান ও মোকাব্বিরের শপথ গ্রহণ ও সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে কোনো জটিলতাই দেখছেন না আইন বিশেষজ্ঞ ও প্রবীণ সংসদ সদস্যরা। তারা মনে করেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে শপথ না নিলে ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা হবে। একই সঙ্গে এটা সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। শপথ গ্রহণে বাধা দেওয়া সংবিধান অবমাননা বলেও মনে করেন তারা।

গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে মোকাব্বির খান গণফোরাম থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়নে উদীয়মান সূর্য মার্কা নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য। সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে ধানের শীষ মার্কা নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

গণফোরাম, বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের অন্তর্ভুক্ত সব দল তাদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে সুলতান মনসুর প্রকাশ্যেই বলছেন, তিনি শপথ নেবেন। আর মোকাব্বির খান এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানালেও বিভিন্ন সময়ে দেওয়া তার বক্তব্যে শপথ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

গণফোরাম ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়নে নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য শপথ নিলে শেষ পর্যন্ত কী ঘটে এটাই এখন দেখার বিষয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে শপথ নিতে তাদের কোনো বাধা নেই।

তিনি বলেন, এখানে তারা যে দল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন, সে দল তো সংসদে নেই। তাই তাদের বিষয়ে সংসদের বাইরের কোনো দল স্পিকারের কাছে কোনো কথা বলারও অধিকার রাখে না।

তাদের বিষয়ে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর হবে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে শফিক আহমেদ বলেন, সরকারি দলের এমপিরা কোনো ইস্যুতে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তখন ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর হয়ে যাবে। তাদের সদস্যপদ থাকবে না। কিন্তু দল থেকে বহিষ্কার হলে ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর হবে না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে শপথ না নেওয়া অন্যায় বলেই মনে করেন তিনি।

রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ করলে বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া সম্পর্কিত বিধান আছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে। এতে বলা হয়েছে, ‘কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি (ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে। তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।’

এ বিষয়ে সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মো. আবদুস শহীদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এই দুজন নির্বাচনে জয়ের পর নির্বাচন কমিশন তাদের সংসদ সদস্য হিসেবে গেজেট প্রকাশ করেছে। এখন শপথ নেওয়া তাদের দায়িত্ব। ৯০ দিনের মধ্যেই তাদের শপথ নিতে হবে।

তিনি বলেন, যেহেতু সংসদ সদস্য পদে তারা নির্বাচন করেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, তাই জনগণের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য হলেও তাদের শপথ নিতে হবে। নয়তো এটা ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা হবে। তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয়, ঐক্যফ্রন্ট তাদের শপথ না নেওয়ার জন্য চাপ দিতে পারে না। তাহলে এটা সংবিধান পরিপন্থী হবে।

সম্পাদক/এসটি