প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত ঈশ্বরের বাণীকে ‘এডিট’ করে চর্চা করার কোনো বিধান নেই

ঈশ্বরের বাণীকে ‘এডিট’ করে চর্চা করার কোনো বিধান নেই

123
ঈশ্বরের বাণীকে 'এডিট' করে চর্চা করার কোনো বিধান নেই

কায়সার আহমেদ

ধর্ম কার্ল মার্কসের তৈরি কোনো সমাজতাত্বিক ‘থিওরি’ নয়। মার্কসের তত্ব ভুল প্রমাণিত হতে পারে। কিংবা সংযোজন, বিয়োজন, গ্রহণ-বর্জন যেকোনো পরিবর্তন হতে পারে। ধর্মের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ নেই।

কারণ ধর্মকে ঈশ্বরের পাঠানো বাণী হিসাবেই নবী রসূলগণ প্রচার করেছেন। কার্ল মার্ক্স্ মানুষ, তিনি ভুল করবেন- এটাই স্বাভাবিক। ঈশ্বর ভুল করেন না। যদি তিনি করেন, তবে তিনি আর মানুষের মধ্যে পার্থক্য থাকে না। সুতরাং কার্লমার্কসের থিওরিকে সমাজে প্রতিষ্টিত করার পূর্বে এটির সুফল-কুফল, ভুল-শুদ্ধ সবকিছু যাচাই করার সুযোগ আছে। কিন্তু ধর্মের ভুল শুদ্ধ যাচাই করার পূর্বে, ধর্ম ‘সত্য’ না ‘মিথ্যা’- সেটা আগে জানা বেশি জরুরি।

কারণ ঈশ্বরের বাণীকে ‘এডিট’ করে চর্চা করার কোনো বিধান নেই। যদি প্রমাণিত হয় ধর্ম ‘সত্য’, তাহলে পুরো বিধানকেই ‘অপরিবর্তনীয়’ভাবে চর্চা করতে হবে। আবার যদি প্রমাণ হয় ধর্ম ‘মিথ্যে’, তাহলে পুরো ধর্মই বাতিল হয়ে যায়। কার্লমার্কসের থিওরির আংশিক, হেগেলের আংশিক, মার্ক টুয়েন, রুশো, ভলতেয়ার, বার্ট্রান্ড রাসেল, ম্যাক্স ওয়েবার, ম্যাকিয়াভেলি এদের সকলের কাছ থেকে কিছু কিছু নিয়ে একটি সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা গঠন করা সম্ভব।

কিন্তু চাইর আনা মুহম্মদ, দুই আনা মুসা, দুই আনা ঈসা, দুই আনা হিন্দু, দুই আনা বৌদ্ধ- এইভাবে সকলের কাছ থেকে কিঞ্চিৎ নিয়ে ‘আলাদা’ কোনো ‘ধর্মীয় জীবন-সমাজ’ কাঠামো প্রতিষ্ঠা অসম্ভব।

অনেকেই বলেন, আমি শুধু ধর্মের হুরপরী, জান্নাত, দোজখ, নবীর সীরাত, বিয়ে, দাসী, গনিমতের মাল, এসব নিয়ে লেখি কেন? ধর্মের অনেক ‘ভালো কথা’ রয়েছে, সেগুলোকে নিয়ে আসি না কেন?

ধর্মের ‘ভালো কথা’ প্রচার করার জন্য লক্ষ লক্ষ হুজুর মুফতি জাকের নায়েকরা আছেন। ইনাদের কাজই হলো ধর্মের ‘ঘাপলা’গুলোকে লুকিয়ে ‘ভালো কথা’ প্রচার করে ‘পেটপূজা’ করা, আমি সেই দলের বাইরে।

আমাদের কাজ হলো, ধর্ম ‘সত্য’ না ‘মিথ্যা’ সেটা ঘেটে প্রমাণ করা। কাজটি যদিও অসম্ভব কঠিন, কাউকে না কাউকে ‘কঠিন’ কাজটি করতে হয়। এবং এটি করতে গেলে দাড়ি, জোব্বা, পেটপূজা, হুরপরী- সবকিছুর স্বপ্ন ‘ত্যাগ’ করতে হয়। আর এইভাবেই পৃথিবী থেকে পুরোনো ‘আবর্জনা’ দূরীভূত হয়ে নতুন নতুন আলোকিত সমাজের জন্ম হয়।

সম্পাদক/এসটি