প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত ভগবান ও দেবদেবী: কিছু পৌরাণিক কাম রসায়ন

ভগবান ও দেবদেবী: কিছু পৌরাণিক কাম রসায়ন

651
ভগবান ও দেবদেবী: কিছু পৌরাণিক কাম রসায়ন

কায়সার আহমেদ

হিন্দু বিশ্বাসের সর্বোচ্ছ স্রষ্টা ‘ব্রহ্মা’ নিজ কন্যা সরস্বতীর সাথে রতিক্রিয়া করেছেন। আরেক ভগবান শিবের লিঙ্গ কর্তন করেছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সুদর্শন চক্রের ক্ষমতায়। শিবের অপরাধ, তিনি স্ত্রী পার্বতীকে যৌন মিলনের সময় রীতিমতো ভূমিকম্প তৈরি করে পার্বতীর প্রাণনাশের হুমকি হয়েছিলেন।

পরে লিঙ্গবিহীন স্বামী শিবের স্ত্রী হওয়ার যৌনকষ্টকে ‘প্রশমিত’ করতে স্ত্রী পার্বতী ব্যভিচারে লিপ্ত হন আরেক বড় ভগবান বিষ্ণুর সাথে। এই বিষয়গুলো পাইবেন (শিবপুরাণ, স্কন্দ পুরাণ, কালিকা পুরান, মৎস্য পুরান, শতপথ ব্রাহ্মণ, পঞ্চবিংশ ব্রাহ্মণ, বৃহদারণ্যক উপনিষদ) ইত্যাদি হিন্দুধর্মীয় সোর্সগুলো পড়লে।

বিভিন্ন পুরাণে স্রষ্টা ব্রহ্মার কন্যার নাম উষা, সরস্বতী, আকাশ, বাক, সন্ধ্যা, শতরূপা ইত্যাদি ভিন্ন পরিচয়ে এসেছে এবং সবার সাথেই পিতার যৌনতার কথা বলা হয়েছে। এমনকি স্কন্ধ পুরানে ব্রহ্মাকে গায়ত্রী এবং সরস্বতীর পতিরূপে দেখানো হয়েছে। একবার স্রষ্টা ব্রহ্মা মৃগরূপ ধারণ করে কন্যা সঙ্গমে লিপ্ত হলে ভগবানরা ভীষণ ক্ষিপ্ত হন এবং ভগবান শিব ব্যাধের রূপ ধারণ করে মৃগরূপী ব্রহ্মাকে হত্যা করেন। পরে ব্রহ্মার স্ত্রী গায়ত্রী এবং স্বরস্বতী কঠোর তপস্যা করে শিবকে সন্তুষ্ট করে আবার স্বামীকে জীবিত ফেরত পান। ব্রহ্মা জীবিত হয়ে শিব বা মহেশ্বরের প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা আর ক্ষমা ভিক্ষা চেয়ে বলেন,

“হে দেব দেবেশ! হে করুণাকর, শঙ্কর। তোমায় নমস্কার করি। হে প্রভু, করুণা সিন্ধু! পাপাচরণ হতে আমায় পরিত্রাণ কর। হে শম্ভু, তোমার কৃপায় আমার যাতে কখনো নিষিদ্ধাচরণে পুনরায় আর প্রবৃত্তি না হয়, তুমি আমায় সেভাবে সবসময় রক্ষা কর।“

শিব ব্রহ্মাকে বলেন, “তথাস্তু! হে বিধি! অতঃপর তুমি আর প্রমাদে পতিত হয়ো না। কুপথে চলা সমস্ত পুরুষদের আমিই সর্বদা শাসন করি।“ (স্কন্দ পুরাণ/ব্রহ্মখণ্ড/সেতুমাহাত্ম্য পর্ব/ অধ্যায় ৪০)।

এইভাবে হিন্দু পৌরাণিক কাহিনিগুলোতে ভগবান আর দেবদেবীর মধ্যকার পিতার সাথে কন্যার সেক্স, ভাইয়ের সাথে বোনের, এমনকি মায়ের সাথে পুত্রের যৌনতার গল্পও রয়েছে ভুরি ভুরি। শিবের স্ত্রী পার্বতী একবার বিষ্ণুর সাথে অনৈতিক যৌনাচারে লিপ্ত হন। হঠাৎ পুত্র গণেশ এসে হাজির হলে মা পার্বতী নিজেকে গোপন করতে গণেশের প্রেমিকা তুলসীর রূপ ধারণ করেন। তখন পুত্র গণেশ তুলসী রুপি মা পার্বতীর সাথে যৌনলীলা করেন। (স্কন্ধ পুরাণ, নাগর খন্ডম ৪৪৪১, পৃঃ১-১৬)।

হিন্দু সনাতনী মিথগল্পগুলোতে একটা ব্যাপার তারিফ করতে হয় যে, প্রতিটি ভগবান দেব-দেবী কেউ পাপের উর্ধ্বে ছিলেন না এবং তাদের নিজেদের মধ্যকার নিয়ন্ত্রণ, শাসন, বিচার, শাস্তির চর্চা ছিল বিদ্যমান। এমনকি স্রষ্টা ব্রহ্মাও শিব দ্বারা শাস্তি প্রাপ্ত হয়েছেন। শিব হয়েছেন কৃষ্ণ দ্বারা। শিব শাস্তি দিয়েছেন বিষ্ণুকে তার স্ত্রী পার্বতীর সাথে লুইচ্চামিতে ধরা পড়ায়। আবার পুত্র গণেশের মাথাকে অভিশাপ দিয়ে হাতির মাথায় পরিবর্তন করেছেন মা পার্বতীর সাথে জেনা করায়। (স্কন্ধ পুরাণ, নাগর খন্ডম ৪৪৪১, পৃ. ১-১৬)।

সম্পাদক/এসটি