প্রচ্ছদ রাজনীতি জামায়াতকে ছাড়তেই বিলুপ্ত হচ্ছে ২০ দলীয় জোট?

জামায়াতকে ছাড়তেই বিলুপ্ত হচ্ছে ২০ দলীয় জোট?

150
জামায়াতকে ছাড়তেই বিলুপ্ত হচ্ছে ২০ দলীয় জোট?

শেষপর্যন্ত বিলুপ্ত হচ্ছে ২০ দলীয় জোট। তবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে নয়, আপনা আপনি এই জোটকে অকার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জোটের মধ্যে থেকে এলডিপি, বিজেপি, কল্যাণ পার্টিসহ কয়েকটি দলকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে নেওয়া হবে। নির্বাচনের পর ২০ দলীয় জোটের একটি মাত্র বৈঠক হয়েছে। ২০ দলীয় জোটের অধিকাংশ শরীক জোটের ব্যাপারে বিএনপির নেতিবাচক অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। ২০ দলের অনেক নেতাই একই সঙ্গে দুই জোট করার ‘নৈতিকতা’ নিয়েও বিএনপিকে প্রশ্ন করেছে। তাছাড়া ২০ দলের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে নির্বাচনের পর। এইসব বিবেচনায়, ২০ দল এগিয়ে না নেওয়ার পক্ষেই মত দিয়েচেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা।

তবে বিএনপির অন্য একটি সূত্র বলছে, জামাত থেকে আলাদা হওয়ার জন্য আগে থেকেই বিএনপির জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক চাপ ছিল। বিএনপি এখন বুঝতে পেরেছে যে জামায়াতকে সঙ্গে রেখে বিএনপি কোনো সহযোগিতাই কারো কাছ থেকে পাবে না। এ কারণেই ২০ দলকে নিস্ক্রিয় করা হচ্ছে। নির্বাচনের পর বিএনপি ঐক্যফ্রন্টগত ভাবেই নতুন কর্মসূচি দিযেছে। বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, ‘তারেক জিয়াও চাইছেন ঐক্যফ্রন্টকেই এগিয়ে নিতে। ২০ দল নয়।’

বিএনপির অন্য একজন নেতা বলেছেন, ‘এই মেয়াদে সরকার সম্ভবত জামাতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করবে। এরকম পরিস্থিতি তৈরি হলে ২০ দল রাখা বিএনপির জন্য আত্মঘাতি হবে।’ তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময় আমরা স্পষ্ট অবস্থান নিতে পারিনি। সাধারণ মানুষ এটাকে ভালোভাবে নেয়নি। তাছাড়া আন্তর্জাতিক মহলেও এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।’ এ কারণে জামাতকে আনুষ্ঠানিক নিষিদ্ধ ঘোষণার আগেই তার সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলা প্রয়োজন।

নির্বাচনের আগে এবং পরে বিএনপি নেতারা যতোবার কূটনীতিকদের সাথে বসেছে, ততোবারই জামাতের সঙ্গে সম্পর্কের ইস্যুটি সামনে এসেছে। বিএনপির প্রায় সব শীর্ষ নেতারাই বলছেন, নির্বাচন বাতিলের ব্যাপারে তারা যে আন্তজার্তিক সমর্থন চাইছেন, তা জামাত থাকলে আদায় করা অসম্ভব। এ জন্য কৌশলগত কারণে ২০ দলকে বিলুপ্ত করা হচ্ছে। ২০ দলে যদি জামায়াত না থাকে তাহলে ঐ জোট হবে অস্তিত্বহীন। জামায়াতের বাইরে দলগুলো খুবই ছোট। এদের নিয়ে জোটের কোন মানে হয় না বলেই বিএনপির নেতারা মনে করছেন।

অবশ্য বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ’২০ দল বিলোপের কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।’ তবে তিনি বলেন, ’২০ দল এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে একটা সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে।’ এ ক্ষেত্রে জামায়াতের অবস্থান কি হবে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেছেন, ‘এটা সময়ই বলে দেবে।‘

অবশ্য অন্য একটি সূত্র বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য বিএনপিকে ‘জামায়াত’ ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে। নির্বাচনের আগে এই পরামর্শকে আমলে না নিলেও এখন বিএনপি বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। বিশেষ করে, জামায়াত নিষিদ্ধ হলে ২০ দল নিয়ে প্রশ্ন আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিএনপির অনেক নেতা।

অবশ্য ২০ দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারাই ২০ দলকে সক্রিয় করতে চাইছেন না। ২০ দলের নেতারা বিএনপির কাছে জানতে চেয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে তাদের (বিএনপির) পরিকল্পনা কি? ২০ দলের একজন নেতা বলেছেন, ‘আমাদের ধারণা ছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একটা এডহক ব্যবস্থা। নির্বাচনের পর এটা থাকবে না। অন্তত আমাদের সেরকম ধারণা দেওয়া হয়েছিল। এখন দেখছি বিএনপি ঐক্যফ্রন্টের ব্যাপারেই আগ্রহী। তাহলে ২০ দলের দরকার কি?’ মূলত মান অভিমান আর জামায়াত ছাড়তেই বিলুপ্ত হচ্ছে ২০ দল।

 সম্পাদক/এসটি