প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সূচকে চার ধাপ এগিয়েছে

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সূচকে চার ধাপ এগিয়েছে

48
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সূচকে চার ধাপ এগিয়েছে

বিশ্বের ১৬৭টি দেশের গণতান্ত্রিক সূচকে বাংলাদেশ আগের বছরের তুলনায় ৪ ধাপ এগিয়ে ৮৮তম অবস্থানে পৌঁছেছে। গণতান্ত্রিক সূচক ২০১৮’তে বাংলাদেশ সার্বিক স্কোর করেছে ৫.৫৭।

২০১৭ সালে এ স্কোর ছিল ৫.৪৩ এবং বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ওই বছর ৯২তম। মঙ্গলবার ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এ সূচক প্রকাশ করে। ১৬৭টি দেশে ৬০টি সূচক বিবেচনা করে এ ধরনের স্কোর নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র ‘কারাারুদ্ধ’ হয়ে পড়েছে বলে বিরোধী দল যখন অভিযোগ করছে তখন আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের এই ‘গণতন্ত্র সূচক’।

এধরনের স্কোর নির্ধারণে কয়েকটি মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে নির্বাচনী ব্যবস্থা, বহুমতবাদ, সরকারের কাজ, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও নাগরিক স্বাধীনতা। ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিভিন্ন দেশে আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে ক্রমবর্ধমান বিভ্রান্তি সত্ত্বেও প্রায় সব দেশে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বাড়ছে। একই সঙ্গে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে ল্যাটিন আমেরিকা ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে এধরনের রাজনৈতিক সূচক নিম্নপর্যায়ে রয়েছে। আবার চীনে কর্তৃত্ববাদী শাসন থাকলেও ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে গণতন্ত্রের সূচকে চীনের অবস্থান রয়েছে ৯ম স্থানে। প্রতিবেদনে শ্রীলংকার রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে দেশটিতে সরকারের স্বাধীনতা বৃদ্ধির ফলে গণতান্ত্রিক সূচক হ্রাস পেয়েছে। ২০১৭ সালে শ্রীলংকায় গণতান্ত্রিক সূচক স্কোর ৬.৪৮ থেকে হ্রাস পেয়েছে ৬.১৯’এ দাঁড়িয়েছে। গণতান্ত্রিক সূচকে ভারতের অবস্থান ৪১ ও ইন্দোনেশিয়ার ৬৫তম অবস্থানে রয়েছে।

এবারের সূচক বলছে, গণতন্ত্রের বিচারে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় আছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা।ভারত ৭.২৩ স্কোর নিয়ে তালিকার ৪১তম এবং শ্রীলঙ্কা ৬.১৯ স্কোর নিয়ে ৭১তম অবস্থানে রয়েছে। ভারতের এক ধাপ উন্নতি হলেও শ্রীলঙ্কা পিছিয়েছে নয় ধাপ।

এছাড়া ৫.৩০ স্কোর নিয়ে ভুটান ৯৪তম; ৫.১৮ স্কোর নিয়ে নেপাল ৯৭তম; ৪.১৭ স্কোর নিয়ে পাকিস্তান ১১২তম; ৩.৮৩ স্কোর নিয়ে মিয়ানমার ১১৮তম এবং ২.৯৭ স্কোর নিয়ে আফগানিস্তান ১৪৩তম অবস্থানে রয়েছে।

ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, তাদের সমীক্ষায় ২০১৮ সালে বৈশ্বিক স্কোর হয়েছে আগের বছরের মতই ৫.৪৮। অর্থাৎ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিশ্বে গণতন্ত্রের দশায় বড় কোনো নড়চড় হয়নি।এবারের সূচকে যেখানে ৪২টি দেশের অবস্থানের অবনতি ঘটেছে, সেখানে ৪৮টি দেশ নিজেদের রাজনৈতিক পরিবেশের উন্নতি ঘটাতে পেরেছে। উন্নতির ছাপ পড়েছে এশিয়ার দেশগুলোতেই বেশি।

তবে ২০১৭ সালের চেয়ে কম মানুষ গতবছর গণতন্ত্রের সুফল পেয়েছে। কোনো না কোনো ধরনের গণতন্ত্র বিরাজ করছে এমন দেশে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ২০১৮ ছিল বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪৭.৭ শতাংশ। আগের বছর এই হার ৪৯.৩ শতাংশ ছিল। এছাড়া সব সূচক মিলিয়ে কোনো দেশের গড় স্কোর ৮ এর বেশি হলে সেই দেশে ‘পূর্ণ গণতন্ত্র’ রয়েছে বলে বিবেচনা করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

স্কোর ৬ থেকে ৮ এর মধ্যে হলে সেখানে ‘ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র’, ৪ থেকে ৬ এর মধ্যে হলে ‘মিশ্র শাসন’ এবং ৪ এর নিচে হলে সে দেশে ‘স্বৈরশাসন’ চলছে বলে ধরতে হবে। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিবেদন বলছে, ২০১৮ সালে তাদের ভাষায় ‘পূর্ণ গণতন্ত্র’ ছিল মাত্র ২০টি দেশে, যেখানে বিশ্বের মাত্র সাড়ে ৪ শতাংশ মানুষের বসবাস। ৯.৮৭ স্কোর নিয়ে গতবারের মতই এ তালিকার শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে।

শীর্ষ দশে আরও আছে আইসল্যান্ড, সুইডেন, নিউ জিল্যান্ড, ডেনমার্ক, কানাডা, আয়ারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ড। যুক্তরাজ্য ও জার্মানি পূর্ণ গণতন্ত্রের দেশের তালিকায় থাকলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ যুক্তরাষ্ট্রের স্থান হয়েছে গতবারের মতই ‘ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের’ দেশের তালিকায়। এই ভাগের ৫৫ দেশের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কা। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪৩.২ শতাশের বসবাস এসব ‘ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের’ দেশে।

বাংলাদেশকে এই প্রতিবেদনে রাখা হয়েছে মিশ্র শাসনের দেশের তালিকায়, যেখানে ভুটান, নেপাল, পাকিস্তানসহ ৩৯টি দেশ রয়েছে। এসব দেশে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১৬.৭ শতাশের বসবাস। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বিবেচনায় বিশ্বের ৩৫.৬ শতাংশ মানুষ এখন স্বৈরশাসনে জীবন কাটাচ্ছে। আর তালিকার নিচের সারিতে আছে উত্তর কোরিয়া।

এছাড়া মিয়ানমার, চীন, রাশিয়া, ভিয়েতনাম, ইরান ও সৌদি আরবকেও একই কাতারে রাখা হয়েছে। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস