প্রচ্ছদ স্পটলাইট মন্ত্রীদের সম্পদের হিসেব প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে

মন্ত্রীদের সম্পদের হিসেব প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে

94
মন্ত্রীদের সম্পদের হিসেব প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে

সদ্য দায়িত্ব পাওয়া মন্ত্রিপরিষদের সম্পদের হিসেব প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত টিম মন্ত্রীদের সম্পদের হিসেব সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্যের ফাইল প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মূলত নির্বাচনে দেওয়া হলফনামায় তথ্যের ভিত্তিতেই সম্পদের ফাইল তৈরি করা হয়েছে বলে ঐ সূত্র জানিয়েছে। মন্ত্রীত্ব পালনের সময় সম্পদের পরিমাণ বাড়ে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণের পরদিনই সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘নতুন মন্ত্রীদের কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বিগত মন্ত্রিসভায় অনেক মন্ত্রীর বিপুল বিত্ত বৈভবে খোদ প্রধানমন্ত্রীই বিস্মিত হয়েছিলেন। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই নানা অভিযোগ ছিল প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রী যে তাদের ‘হাঁড়ির খবর’ জানেন এরকম বার্তাও তিনি দিয়েছিলেন। যাদের বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগ ছিল, তারা কেউই এবারের মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। এবার প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের কোনো অভিযোগই বরদাস্ত করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, মন্ত্রীদের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য কাজ শুরু করেছে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব টিম। প্রধানমন্ত্রী নিজেই গত মঙ্গলবার দায়িত্ব পাওয়া নতুন মন্ত্রীদের এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘সতর্ক থাকবেন, আপনারা সবসময় আমার নজরদারির আওতায় রয়েছেন। কে কি করছেন জেনে যাবো।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গত মন্ত্রিসভায় দলের কয়েকজন সিনিয়র মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এবার মন্ত্রিসভাতে কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যেন এ ধরনের অভিযোগ না ওঠে সেজন্য প্রথম থেকেই সতর্ক প্রধানমন্ত্রী। শুধু আর্থিক দুর্নীতি নয়, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা কার সঙ্গে মেশেন, কোথায় যান ইত্যাদি বিষয়েও নিবিড়ভাবে খোঁজ-খবর নেওয়া হবে। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে অনেক মন্ত্রীর সম্পদের বৃদ্ধি নিয়ে খবর সরকারকে বিব্রত করে। নির্বাচন কমিশনের হলফনামায় দেখা যায়, কারো কারো সম্পদ কয়েক গুণ বেড়েছে। এরকম পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি সরকার চায় না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর একটি নিজস্ব টীম। এই রকম একটি টীম মন্ত্রীদের সম্পর্কেও নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করে তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেবে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘এমন একটা ব্যবস্থা আমরা করেছি যেন মন্ত্রীরা সিসিটিভির মতো পরিবেশে থাকেন।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শুধু মন্ত্রী নয়, সংসদ সদস্যদেরও অনিয়ম, দুর্নীতির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণ করেছেন। সংসদ সদস্য হয়ে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য বা অন্য অনৈতিক তদবিরের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হবে বলেও জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ঘনিষ্ঠদের সংগে আলাপচারিতায় বলেছেন, ‘মন্ত্রী এমপিদের বদনাম আমি চাই না। এতে সরকারের সাফল্য ম্লান হয়ে যায়।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘নতুন সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থানের জন্য প্রশংসিত হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবার এমন এক ব্যবস্থা করেছেন যে মেয়াদ শেষে শত্রুরাও বলবে, এই সরকার ছিলো দুর্নীতিমুক্ত।’

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান ঘোষণা করেছে।

সম্পাদক/এসটি