প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত দাসী মারিয়া কিবতিয়ার গর্ভে নবীজির সন্তান ইব্রাহিমের কথা

দাসী মারিয়া কিবতিয়ার গর্ভে নবীজির সন্তান ইব্রাহিমের কথা

547
দাসী মারিয়া কিবতিয়ার গর্ভে নবীজির সন্তান ইব্রাহিমের কথা

কায়সার আহমেদ

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ তাফসীরকারক ইবনে কাথীর। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ হাদিস সংগ্রাহক ঈমাম বোখারী। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সীরাত লেখক ইবনে হিশামের চাইতেও বড় ‘সহীহ’ ইসলামিক স্কলারগণের দেখা পাওয়া যায় ফেবুতে। ইনাদের সকলের ‘গুরু’ হলেন ভণ্ড, ধর্ম ব্যবসায়ী জুকার নায়েক।

চরমোনাই, সাঈদী, মওদুদী, তেঁতুল হুজুর গংরাও আছেন ‘আধুনিক’ ধর্মগুরুদের ব্যবসায়ীক তালিকায়। অথচ এরা সবাই মিথ্যাবাদী, প্রতারক। বারো-তেরোশো বছর পূর্বের পৃথিবীর ওসব শ্রেষ্ঠ ইসলামিক স্কলারদের দেওয়া অনেক তথ্যসমূহকে এরা ‘গোপন’ রাখে। অথবা মিথ্যা, গোজামিল আর ভাঁওতাবাজি দিয়ে ঐসব ‘গোপন’ তথ্যকে ‘হালাল’ প্রমাণ করে ধর্মব্যবসা টিকাতে চায়।

ইসলামের নবীর চারজন যৌনদাসীর মধ্যে কমপক্ষে দুইজনের কথা পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো ‘অথেন্টিক’ স্কলারগণ একবাক্যে স্বীকার করে একমত হয়েছেন। দাসী মারিয়া কিবতিয়ার গর্ভে নবীজির সন্তান ইব্রাহিমের কথা পৃথিবীর সকল শ্রেষ্ঠ ‘অথেন্টিক’ স্কলারগণ ‘দলিল’ হিসাবে লিখে গিয়েছেন।

অথচ মারিয়া কিবতিয়ার কথা উঠলেই ভণ্ডরা ‘ত্যানাবাজি’ শুরু করে। হুমকি ধামকি আর গালাগালি বর্ষণ করে পালাবার পথ খুঁজে! প্রশ্ন হলো, বৈবাহিক সম্পর্ক ব্যাতিত দাসীর গর্ভে সন্তান জন্ম দেওয়া কি পাপ? যেহেতু দাসীর সাথে যৌনতার বিষয়টিকে ডাইরেক্ট কোরানে ‘হালাল’ করা হয়েছে অনেকগুলো আয়াতে। বোখারী, মুসলিমের অনেক হাদিস আছে, কিভাবে দাসীকে ভোগ করতে হবে? দাসীর গর্ভে সন্তান আসলে সেই সন্তানের ‘অধিকার’ কি হবে? কি হবে তার সামাজিক মর্যাদা, অবস্থান ইত্যাদি সকল বৃত্তান্ত।

একমাত্র সৌদি আরবেই পৃথিবীর সর্বোচ্ছ ‘সহীহ’ শরিয়া আইন চর্চিত হচ্ছে বলে দাসীর পেটে বাচ্চা কনসিভ করলে এটাকে তারা অনৈতিক বা ‘পাপকর্ম’ মনে করে না। সৌদি রাজপরিবারের অনেক প্রিন্স আছে যারা দাসীর গর্ভের সন্তান।

এছাড়াও সৌদি থেকে যেসব গৃহকর্মী ‘অন্তঃসত্ত্বা’ হয়ে দেশে ফিরে- এরা কিতাবীয বিধান মতেই আরবীয় সন্তানের মা হওয়ার ‘পুন্যতা’ লাভ করে। নবী ইব্রাহিম নিজে ছিলেন দাসীর গর্ভের সন্তান। নবী সুলাইমান ছিলেন নবী পিতা দাউদের সাতশো দাসীর মধ্যকার এক দাসীর পেটের সন্তান।

সর্বশেষ নবী মুহম্মদ (স.) মাত্র একটি সন্তানকে (ইব্রাহিম) উপহার দিয়েছেন দাসী মারিয়া কিবতিয়ার গর্ভে। এতেই মুমিনরা এতো খ্যাপা? এই ঘটনায় মুসলিমদের বরং খুশি আর ‘গর্বিত’ থাকা উচিত ছিল একজন ‘মডার্ন’ নবীর উম্মত হিসাবে। অথচ কোনো এক রহস্যজনক কারণে তিনাদের অনুভূতিতে ‘আঘাত’ লেগে যায়।

আল্লাহপাক হয়তো খেয়াল করেন নি চৌদ্দশো বছর পরের মুমিনগণের অনুভূতি এতোটা ‘ছুইতা’ হবে। নচেৎ তিনি তার প্রিয় হাবিবকে শুধু বুড়ি বিবি খাদিজার আশেকান প্রেমিক স্বামী হিসাবেই হয়তো রেখে দিতেন পার্মানেন্টলি।

ভিডিও দেখুন: ‘মারিয়া কিবতিয়া নবীর স্ত্রী?’: মুফাসসিল ইসলাম

‘মারিয়া কিবতিয়া” সম্পর্কে জানুন: সোলারিন আলেকজান্ডার

সম্পাদক/এসটি