প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত ইসলাম ধর্মত্যাগী সৌদি তরুণীর জীবন সংশয়

ইসলাম ধর্মত্যাগী সৌদি তরুণীর জীবন সংশয়

72
ইসলাম ধর্মত্যাগী সৌদি তরুণীর জীবন সংশয়

সুষুপ্ত পাঠক

যে সৌদি তরুণী ব্যাংককের হোটেলে নিজেকে আবদ্ধ করে রেখেছেন তিনি কেবল ইসলাম ত্যাগ করেছেন বলেই নিজ পরিবার থেকে পালাতে চাইছেন তা নয়, তিনি ইসলামের জন্মভূমিতে প্রচলিত কুরআনের আইন অনুযায়ী তার দেশে নিজের মত করে শিক্ষা ও জীবিকা গ্রহণ করতে পারেন না।

তিনি চাইছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মত সেক্যুলার কোন রাষ্ট্রে গিয়ে স্বাধীনভাবে লেখাপড়া ও জীবিকা গ্রহণ করবেন। পৃথিবীতে ৫৭টা তথাকথিত মুসলিম রাষ্ট্রের যেগুলোতে ইসলামিক শরীয়া শাসন অর্থাৎ কুরআনের শাসন নেই- সেই রাষ্ট্রগুলোও তথাকথিত ‘মুসলিম রাষ্ট্র হওয়ার কারণে নারীরা নানা রকম ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হয়।

পুরোপুরি শরীয়া শাসিত দেশগুলোতে কোন পুরুষ অভিভাবক ছাড়া নারীরা ঘরের বাইরে বের হতে পারে না। বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, এসব দেশগুলোতে এই মঙ্গল গ্রহে নভোযান পাঠানোর যুগে এসেও নারীদের ব্যাংকে হিসাব খোলার অনুমতি চাইতে হয়! গাড়ি ড্রাইভিং থেকে একা একা শপিং করার অধিকার পেতে তাদের আন্দোলন করতে হয়। এসবই করতে হয় দেশগুলোতে কঠোরভাবে চলা ইসলামি শাসনের কারণে।

ইসলামী শাসন কি, কেমন তার মজা- সেটি প্রকৃত ইসলামি শাসন ছাড়া মুসলমান জীবনেও বুঝতে পারবে না। বুঝতে পারলে দেশে এত মহিলা মাদ্রাসা চালু হতে পারত না। মেয়েদের স্বেচ্ছায় হিজাব বোরখায় আপদামস্তক মুড়ে রাখার চেষ্টা চলত না।

ইরানী ও সৌদি নারীদের হিজাব বিরোধী আন্দোলন কেন করতে হয়- সেটাও শরীয়া শাসন ছাড়া বোধহয় বোঝা সম্ভব নয়। যেকারণে আমেরিকার মত ব্যক্তি স্বাধীনতার দেশে বাংলাদেশী মেয়ে নাজমার ‘হিজাব আমার অধিকার’ আন্দোলন আমাদের মত দেশে নারীদের মধ্যে সমর্থন পায়। এমন কি আমাদের মত দেশে প্রচলিত নারী আন্দোলনকারী সংগঠনগুলো আন্তর্জাতিক নানা প্রসঙ্গে মন্তব্য করলেও সৌদি পরিবার থেকে পালানো ইসলাম ত্যাগকারী কোন তরুণীর জন্য একটা কথাও মুখে আনবে না।

সম্পাদক/এসটি