প্রচ্ছদ অর্থ-বাণিজ্য বিশ্ব অর্থনীতিতে ২ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

বিশ্ব অর্থনীতিতে ২ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

34
বিশ্ব অর্থনীতিতে ২ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। চলতি মূল্যের ভিত্তিতে ১৯৩টি দেশের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বিশ্বের ৪১তম। আগের বছর যা ছিল ৪৩তম।

তবে ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের অবস্থান ৩০তম। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড বিজনেস রিসার্সের (সিইবিআর) সোমবার প্রকাশিত রিপোর্টে এসব কথা বলা হয়েছে। রিপোর্ট অনুসারে, অর্থনীতিতে এবারও প্রথম অবস্থান ধরে রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর দ্বিতীয় অবস্থানে চীন।

বিশ্বের যে কোনো দেশের অর্থনীতিকে মূল্যায়নের মাপকাঠি হল মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি)। দুটি পদ্ধতিতে জিডিপির আকার মূল্যায়ন করা হয়। এগুলো হল- চলতি মূল্যের ভিত্তিতে (বেইজ অন কারেন্ট প্রাইস) এবং ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে (বেইজ অন পারসেজ পাওয়ার)। এ দুই পদ্ধতিতেই বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মতো বিশ্বের প্রভাবশালী সংস্থাগুলো প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এছাড়া সিইবিআরের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোও সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের রিপোর্ট প্রকাশ করছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৮ সালে বিশ্বের মোট জিডিপির আকার ৮০ দশমিক ৬৪ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০১৭ সালে যা ছিল ৭৫ দশমিক ৯৩ ট্রিলিয়ন ডলার। প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচ্য বছরে চলতি বাজার মূল্যে বাংলাদেশের জিডিপির আকার ছিল ২৮০ বিলিয়ন ডলার। আগের বছর তা ছিল ২৭৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। (১ বিলিয়ন ডলারে ৮ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অর্থনীতির আকার বড় হচ্ছে। ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ৩৬তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। আর ২০২৮ সালের মধ্যে ২৭তম ও ২০৩৩ সালের মধ্যে ২৪তম অর্থনৈতিক শক্তিধর দেশ হিসেবে তালিকায় স্থান করে নেবে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৩০তম। বাংলাদেশের জিডিপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮২৯ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। আগের বছর যা ছিল ৭২০ বিলিয়ন ডলার।

জিডিপির ভিত্তিতে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নম্বর স্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। (১ ট্রিলিয়ন ডলারে ৮৫ লাখ কোটি টাকা)। এবারও দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে চীন, দেশটির জিডিপির পরিমাণ ১৪ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার। তৃতীয় জাপানের জিডিপির পরিমাণ ৫ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার। চতুর্থ অবস্থানে জার্মানি, দেশটির জিডিপির পরিমাণ ৪ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতির আকারে এবার দুই ধাপ এগিয়েছে ভারত, দেশটির জিডিপির আকার প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। এরপরই যুক্তরাজ্য। বিশ্ব অর্থনীতিতে ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা দেশটির জিডিপির আকার ২ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার, সপ্তম ফ্রান্সের জিডিপি ২ দশমিক ৯৪ ট্রিলিয়ন, অষ্টম ইতালি ২ দশমিক ২, নবম ব্রাজিল ২ দশমিক ১৫ এবং দশম অবস্থানে থাকা কানাডার জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে ক্রয় ক্ষমতার হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে এক নম্বরে উঠে এসেছে চীন। এ হিসাবে ২০১৯ সালে চীনের জিডিপির আকার ২৭ দশমিক ৪৪ ট্রিলিয়ন ডলার। আর যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি ২১ দশমিক ৪৮ ট্রিলিয়ন ডলার। এই তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে ভারত, ২০১৯ সালে দেশটির জিডিপি ১১ দশমিক ৪১ ট্রিলিয়ন ডলার। আর সামগ্রিক ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে বিশ্বের মোট জিডিপির আকার ১২৭ ট্রিলিয়ন ডলার।

সম্পাদক/এসটি