প্রচ্ছদ রাজনীতি বিএনপিকে বদলে যাবার জন্য ড. কামালের প্রেসক্রিপশন

বিএনপিকে বদলে যাবার জন্য ড. কামালের প্রেসক্রিপশন

810
বিএনপিকে বদলে যাবার জন্য ড. কামালের প্রেসক্রিপশন

বিএনপিকে ‘গ্রহণযোগ্য’ রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য প্রেসক্রিপশন দিয়েছেন ড. কামাল হোসেন। বিএনপি মহাসচিবকে বলেছেন,‘ নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে জেনেও আন্তর্জাতিক মহল বিএনপির প্রতি কোন সহানুভুতি দেখাচ্ছে না, এর কারণ হলো বিএনপির রাজনীতি।’

ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক সমর্থন পেতে হলে আগে বদলাতে হবে বিএনপিকে। তা নাহলে, সব অনিয়ম সহ্য করেও আন্তর্জাতিক মহল আওয়ামী লীগকেই সমর্থন দেবে’। ড. কামাল এটাও মনে করেন যে, বড় ধরনের বাইরের চাপ ছাড়া সরকারকে আরেকটি নতুন নির্বাচনে বাধ্য করার আর কোন পথ নেই। ড. কামাল হোসেন বিএনপিকে পাঁচ পরিবর্তনের প্রেসক্রিপশন দিয়েছেন বলে বিএনপিরই একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এগুলো হলো:

১. জামাতের সঙ্গ ত্যাগ: বিএনপিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছেন ড. কামাল। বলেছেন, জামাত যতদিন বিএনপির সঙ্গে থাকবে ততোদিন আন্তর্জাতিক বিশ্ব বিএনপিকে আস্থায় নিতে পারবে না। এবার নির্বাচনে জামায়াতকে ২২ আসন দেয়াটা ছিলো চরম ভুল, মনে করেন ড. কামাল। এজন্যই আন্তর্জাতিক মহল বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

২. তারেককে বিদায়: আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া গ্রহণযোগ্য নন। মার্কিন দূতাবাস এবং ভারতীয় দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে তারেকের ব্যাপারে তাদের আপত্তি জানিয়েছিল। কিন্তু বিএনপি সেই আপত্তি আমলে নেয়নি। ড. কামাল বিএনপিকে আপাতত তারেক জিয়ামুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ড. কামাল হোসেন বিএনপি মহাসচিবকে বলেছেন, তারেক থাকলে বিএনপির কিছুই হবে না।

৩. জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল: মার্কিন দূতাবাস নির্বাচনের সময়ই বিএনপির প্রার্থীদের মধ্য থেকে ৪৭ জনের একটি তালিকা হস্তান্তর করেছিল। এদের ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির কথা বলেছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, এরা জঙ্গিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ড. কামাল হোসেন বিএনপিতে শুদ্ধি অভিযানের তাগিদ দিয়েছেন। জঙ্গিবাদের সঙ্গে যাদের নুন্যতম সম্পৃক্ততা আছে, তাদের বাদ দেয়ার প্রস্তাব করেছেন।

৪. বিতর্কিতদের দল থেকে বাদ দেয়া: দুর্নীতি এবং সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত অনেক বিএনপির নেতা এবার দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। এটা বিএনপি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার তৈরি করেছিল। ড. কামাল আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের জন্য বিতর্কিতদের দল থেকে বাদ দেওয়ার প্রেসক্রিপশন দিয়েছেন।

৫. উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার সুস্পষ্ট ঘোষণা: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগের গ্রহণযোগ্যতার সবথেকে বড় কারণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন। গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মনে করে বিএনপি এই উন্নয়নকে স্বীকৃতি দেয় না। উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই বিএনপির কোনো বক্তব্যেই। আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, বিএনপিকে সমর্থন দিলে বাংলাদেশের অর্থনীতি গতি হারাবে। এজন্য ড. কামাল হোসেন বিএনপিকে কৌশল পরিবর্তনের তাগিদ দিয়েছেন। উন্নয়নের পক্ষে বিএনপিকে অবস্থান দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

কিন্তু ড. কামালের এই চিকিৎসাপত্র বিএনপি কি গ্রহণ করবে?

সম্পাদক/এসটি